|
Date: 2026-10-28 18:36:18 |
জামালপুরের ইসলামপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে দুই সহোদর ভাইয়ের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ঘটনায় ভোটার এলাকা পুনঃস্থাপনের আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে হ্জির হয়ে ভুক্তভোগী নুরনবী শেখ এবং তাঁর বড় ভাই মিলন মিয়া ভোটার এলাকা পুনঃস্থাপনের জন্য লিখিত আবেদন করেন।
নুরনবী শেখ উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের পূর্ব কান্দারচর গ্রামের শেখ বাড়ির বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ইউপি নির্বাচনে নুরনবী শেখ চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এবারও একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে নুরনবী শেখ এলাকায় সঙ্গে গণসংযোগও করে যাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে কে বা কারা
নুরনবী শেখ এবং মিলন মিয়ার ভোটার তথ্য তাঁদের অজান্তে পার্শ্ববর্তী মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নে স্থানান্তর করা হয়। এতে বিপাকে পড়েন আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নুরনবী শেখ এবং তাঁর বড় ভাই মিলন মিয়া।
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নুরনবী শেখ এবং মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদন প্রসেসিং করেন অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির এবং কার্য সহকারী মনিরুজ্জামান।
গত ২৫ আগষ্ট ওই আবেদনটি মেলান্দহ উপজেলা নিঁর্বাচন কার্যালয় থেকে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ৩০ আগষ্ট আবেদনটি অনুমোদন করলে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নুরনবী শেখের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দুরমুঠ ইউনিয়নের হাতিজা এলাকায় এবং মিলন মিয়ার ভোটার এলাকা জাঙ্গালিয়া এলাকায় স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগ উঠে, নুরনবী শেখকে ইউপি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির এবং কার্য সহকারী মনিরুজ্জামানের সহায়তায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী নুরনবী শেখ বাদী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর জামালপুরের ইসলামপুর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মনিরুজ্জামান, সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ ফরিদ, স্কেনিং অপারেটর মো. মোশারফ হোসেন, কান্দারচর ফকিরপাড়া রিপন মিয়া, লক্ষীপুর ঘুনাপাড়ার কফিল মেম্বার , মেলান্দহের দুরমোঠ ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল করিম বাবুল, ৪ ওয়ার্ডের সদস্য মো. অলিল আহম্মেদ, ৭, ৮ ও ৯ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য আমেনা বেগম, হাতিজা গ্রামের তৈয়ব আলী মো. আকবর, আমবাড়িয়া গ্রামের মামুন, হামলা গ্রামের আব্দুস ছামাদ এবং রফিকুল।
নুরনবী শেখ বলেন, 'আমি ও আমার ভাই কান্দারচর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমি ইউপি নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে অংশ নেওয়ার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, সেই জন্য
স্থানীয় একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের মাধ্যমে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহকারী হাসিব আহমেদ ফকির এবং কার্য সহকারী মনিরুজ্জামানের সহায়তায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছে। এঘটনায় আদালতে মামলা করেছি। আজ ভোটার এলাকা পুনঃস্থাপনের আবেদন করেছি।
ইসলামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া বলেন, 'ভোটার এলাকা পরিবর্তনের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেছে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়। আমরা শুধু অনুমোদন দিয়েছে। তবে এখন ভোটার এলাকা পুনঃস্থাপনের জন্য আমাদের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।'
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, 'আবেদনের পেক্ষিতে ইসলামপুরের বাসিন্দা দুই ব্যক্তির ভোটার এলাকায় পরিবর্তন করে মেলান্দহে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে জানতে পারি একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন করেছিলো। তৎক্ষনাৎ আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি। এ ছাড়া এবিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আমাকেও আসামি করা হয়েছে।'
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-১) উপপরিদর্শক (এসআই) এহসানুল হক বলেন, 'জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের অভিযোগে আদালতে দায়ের করা মামলাটির তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।'
© Deshchitro 2024