জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীতে নুর মোহাম্মদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের আড়াই মাস পর এজাহারভুক্ত এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। 


আটক আসামির নাম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি উপজেলার বেলগাছা এলাকার বাসিন্দা এবং মামলার এজাহারভুক্ত নয় নম্বর আসামি। 


আজ রোববার (১ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে হত্যা মামলায় আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ইসলামপুর থানা-পুলিশ জামালপুর জেলা চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 


এর আগে গতকাল শনিবার দিবাগত গভীর রাতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি হাট থেকে তাঁকে আটক করে ফুলছড়ি থানা-পুলিশ। 


হত্যাকাণ্ডে শিকার নুর মোহাম্মদ পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দিয়ারপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীমের ছেলে। 


স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগষ্ট বেলা ১১টার দিকে দূর সম্পের্কের আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম এবং পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বড়খাল গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলামকে নিয়ে ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের বরুল এলাকায় যমুনা নদীতে ইঞ্জিনচালিত একটি ছোট নৌকায় ঘুরাঘুরি করছিলেন নুর মোহাম্মদ। এসময় স্থানীয় জেলেরা তাদেরকে মাছ ধরার জাল চোর সন্দেহ করে নৌকাটি পাড়ে ভিড়াতে বলে। কিন্তু এতে সাড়া না দিলে জেলেরা তাঁদের ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের উলিয়া নৌ-ঘাটের পশ্চিমপাড়ে টাকীমারী নামক যমুনা নদীর মধ্যবর্তী চরে ওই তিনব্যক্তিকে ধরে ফেলেন ধাওয়াকারী জেলেরা। সেখানে তাদের মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই নুর মোহাম্মদ মারা যান। আহত হন জাহাঙ্গীর ও রফিকুল। পরে সেখান থেকে নিহত নুর মোহাম্মদের মরদেহসহ আহতদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে বরুল এলাকায় নিয়ে যান মারধরকারীরা। খবর পেয়ে ইসলামপুর থানা-পুলিশ নিহত নুর মোহাম্মদের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে মারধরে আহত রফিকুল এবং জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করান পুলিশ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন।


এ ঘটনায় পরদিন ১৬ আগষ্ট সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কাছে নুর মোহাম্মদের মরদেহ হস্তান্তর করলে গভীর রাতে গাইবান্ধার বালাসীর ঘাটের মদনেরপাড়া এলাকায় দূর সম্পর্কে এক আত্মীয় বাড়ির পারিবারিক গোরস্তানে নুর মোহাম্মদের মরদেহ দাফন করা হয়। একই দিন গভীর রাতে নিহত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে নয়জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১২-১৫ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। 


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাদের  বলেন, 'ফুলছড়ি থানা-পুলিশ এজাহারভুক্ত আব্দুর রাজ্জাকে আটক করে। পরে ওই থানা থেকে তাঁকে এনে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছি। আশা রাখি, শিগগিরই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।'

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024