◾ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক


ঘুড়ি ওড়ানোর ব্যাপারটি অনেক দেশেই উৎসবের মতো। সহজাত ভালো লাগা থেকেই অনেকে ঘুড়ি ওড়াতে পছন্দ করেন। সেই শখের ঘুড়িই থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। অকল্পনীয় এই প্রকল্পের বাস্তব রুপ দিয়েছে জার্মানির কাইটক্র্যাফট। এর নাম দেওয়া হয়েছে কাইটমিল।  


আকাশ থেকে শক্তি কুড়িয়ে তা নির্দিষ্ট স্থানে জমা করবে এই ঘুড়িবিমান। উইন্ডমিল বায়ু থেকে যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করে, অনেকটা সেভাবেই কাজ করবে এই ‘ঘুড়ি’টি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এআরএস টেকনিকা। কীভাবে কাজ করবে এ প্রযুক্তি? ঘুড়িবিমান তৈরি প্রতিষ্ঠান কাইটমিলের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ঘুড়িটিকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা একটি বিমানের যৌগিক উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়। এটির শক্ত কাঠামোটিকে উচ্চশক্তির বাতাসে ভেসে থাকার মতো করে ডিজাইন করা হয়েছে, যাকে দেখলে মনে হবে একটি পালতোলা বিমান। এর ওঠা ও নামার জন্য লাগাতে হবে চারটি প্রপেলার, যেগুলো বাতাসের স্রোতে নির্বিঘ্নে আকাশে ভেসে বেড়াতে পারে।


একটি টিথার (দড়িসদৃশ) ঘুড়িবিমানটিকে মাটির সঙ্গে সংযুক্ত করে রাখবে। এক্ষেত্রে টিথারটি নাটাই হিসাবে কাজ করবে। ঘুড়ি থেকে গ্রাউন্ডস্টেশন জেনারেটরে টান বলকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এই টিথার। বিনুনিযুক্ত পলিথিন ফাইবার দিয়ে তৈরি বলে প্রবল বাতাসেও ঘুড়িকে ধরে রাখতে টিথারটির যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে।


এমনকি আলট্রা ভায়োলেট রশ্মিও সহ্য করতে পারে এ টিথার। এ কারণে ঘুরে ঘুরে বাতাস থেকে শক্তি কুড়াতে সহজ হয় ঘুড়িটির। গ্রাউন্ড স্টেশন টিথার থেকে উৎপন্ন বলকে বিদ্যুতে রূপান্তর করে, যা পাওয়ার গ্রিডে জমা হতে থাকে।


উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, অভিনব প্রযুক্তিটি স্বল্পব্যয়ে তৈরি করা যাবে এবং মাটিতে এর অল্প পরিমাণ (টারবাইনের চেয়ে কম) জায়গার প্রয়োজন হবে। তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করতে এটি এখনো তার সম্ভাবনার শৈশবকালে রয়েছে।


ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এই পদ্ধতিতে শক্তি উৎপাদন তুলনামূলক কম কার্বন ছড়াবে জানিয়েছেন মিউনিখভিত্তিক কাইটপাওয়ার সিস্টেম বিকাশকারী কোম্পানিটির চিফ টেকনোলজি অফিসার ফ্লোরিয়ান বাওয়ার।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024