মধুপুরে বিক্রি করা জমি থেকে ছেলের কবর সরিয়ে ক্রেতাকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বাবা। প্রয়াতের মেয়ের ৯৯৯ নম্বরে একটি ফোন কলে আবার লাশের অংশ ফিরে এসেছে পূর্বের কবরে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, শালিকা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে ফারুক গত ৮/১০ বছর আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান। শামসুল হক তার প্রয়াত ছেলে ফারুকের লাশ বাড়ির পাশের জমিতে দাফনের ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি ওই জমি প্রতিবেশেী আমজাদের কাছে বিক্রি করেন শামসুল হক। জমির কবর বাদ রেখে ক্রেতা মূল্য পরিশোধ করবে জানালে বাবা শামসুল কবর সরিয়ে ওই জমি বুঝিয়ে দিতে উদ্যোগ নেন। স্থানীয়রা এ নিয়ে বাধা দেন। প্রয়াত ফারুকের মেয়ে ফাহিমার বাধাও তাকে দমাতে পারেনি।
শুক্রবার বিকেলে কবর অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। ফাহিমা স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বাবার কবর সরানোর ঘটনা ও কবর যথাস্থানে রাখার আকুতি জানায়। কর্তৃপক্ষ মধুপুর থানার পুলিশকে দায়িত্ব দিলে থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল আমিন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট আলোকদিয়া ফাঁড়ির আইসিকে দিয়ে টিম পাঠান।
রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আইসির নেতৃত্বে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সরানো লাশের অংশ বিশেষ আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে এনে দাফন করা হয়। পরে রাত ১০ টার দিকে মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের মোনাজাতের মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান হয়েছে।
মহিষমারা ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহির এমন ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করলেও পুরো ঘটনা জানেন না বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ছানোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। পুলিশ এমন স্পর্শ কাতর বিষয়টির সুন্দর সমাধান দিয়েছে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মাজহারুল আমিন ও আলোকদিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ(আইসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।