◾ নিউজ ডেস্ক


আয় বুঝে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্বল্প আয়ের মানুষ। এর মধ্যে চোখ রাঙাচ্ছে চাল, ডালের বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চাল এবং ডালের দাম বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা।


শুক্রবার (১৯ আগস্ট) মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকায়। আর প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায়। তাছাড়া প্রতি কেজি মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা দরে।


গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি এবং মাছ। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে। আর প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়। 


মাছ মুরগির চড়া দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডিমের দাম। গেল সপ্তাহে প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার দাম উঠেছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।


ভোগ্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতির জন্য জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। মোহাম্মদপুর টাউন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘১৫ হাজার টাকার ট্রাক ভাড়া উঠেছে ২০ হাজার টাকায়। ফলে বাড়তি ভাড়ার প্রভাব পড়েছে মালের ওপর। তাই দাম বাড়ছে। আমরা তো লোকসান দিয়ে মাল বিক্রি করতে পারব না। দাম বাড়ার তালিকায় বাদ যায়নি আটা, চিনি, সবজি, মসলাজাতীয় পণ্য, পেঁয়াজ, জিরা এবং আদা।


রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মানভেদে প্রতি কেজি সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি পটোল ৪৫ থেকে ৫০, বরবটি ৭০ থেকে ৮০, শসা ৬০ থেকে ৭০, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০, ভেন্ডি ৫০ থেকে ৬০, কচুমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 


তা ছাড়া ডাঁটা শাক, পুঁই শাকের আঁটি কিনতে ভোক্তাকে দিতে হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। এখনো ঝাঁজ কমেনি কাঁচা মরিচের। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৯০ টাকা দরে।


সপ্তাহের ব্যবধানে মসলাজাতীয় পণ্য আদা, পেঁয়াজ ও জিরার দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকায়।


দামের উল্লম্ফন দেখা গেছে আদার বাজারে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। পিছিয়ে নেই জিরার বাজারও। প্রতি কেজি জিরা ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে।


চিনির দাম এক লাফে ৮ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। দাম বাড়ার দৌড়ে বসে নেই আটার বাজারও। প্রতি কেজি খোলা এবং প্যাকেটজাত আটার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৩ টাকায়। ২ কেজির প্যাকেটজাত আটা ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়।


চড়া বাজারে কিছুটা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে ভোজ্যতেল সয়াবিনের। এক এবং দুই লিটার সয়াবিন তেলের সরবরাহ ভালো থাকলেও পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সঠিকভাবে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিক্রেতারা।


ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি মোটা চালে ৬ শতাংশ, খোলা আটায় ২৩ শতাংশ এবং ডিমে ৩৪ শতাংশের ওপরে দাম বেড়েছে।


বাজারদরের বিষয়ে দিনমজুর আব্দুল বারেক মিয়া বলেন, ‘ভাই আর তো পারতাছি না। কয় টাকাই আর দিনে কামাই করি। যা আয় করি তা তো চাল আর সবজিতেই যায় গা। এহন আবার বাড়তাছে ডিমের দাম।’

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024