ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনার নামে যেন ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চলছে। একটির রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল ঠেকানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও তদারকির অভাবে দুর্ঘটনা এখন অনেকটা মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই মহামারী বন্ধ করার জন্যই আজকের এই আন্দোলন।


ভোলার আঞ্চলিক মহাসড়ক জনগনের জন্য উন্নয়ন নাকি মৃত্যু ফাদ প্রশ্ন জনগণের। 


আর কত প্রাণ গেলে এই রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হবে? 

আজ মা তার মেয়েকে কলেজে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে শ্বাস নিতে পারছেন না! দু'টো কলেজ ছাত্রী তাদের তাজা জীবন বিসর্জন দিতে হয়েছে এই রাস্তার কারণে। 

আমার বোন মরলো কেন এর কঠিন জবাব দিতে হবে।

এই মিছিলে উত্তাল সমগ্র বাংলাবাজার এখানে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাবাজার সহ ভোলা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  ছাত্র-ছাত্রীরা। 


এবং এই ঘটনাকে ঘিরে ভোলা জেলার বিভিন্ন শ্রেণীর লোক  জন নানারকম প্রশ্ন ছুড়ে এরমধ্যে দেশচিতত্র  নিউজ কে স্বপ্নীল সমাজ সেবা সংগঠন এর  সাধারণ সম্পাদক     জানান 

আমার জন্মস্থান ভোলা ভালো নেই। রাস্তার উন্নয়নের নামে প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে দূর্ঘটনা। ভোলা-চরফ্যাশন প্রধান সড়ক বিগত বছর কয়েক সময় ধরে কাজ চলমান। এই কাজের শেষ কোথায়? কবে হবে এই রাস্তা ঘাটের কাজের শেষ? যেখানে ভোলা সদরের রাস্তায় সপ্তাহ খানের ব্যবধানে কাজ শেষ হয়ে গেলো, সেখানে কেন ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের কাজ আজও কোনো সমাধান নাই? কি হচ্ছে এই রাস্তার উন্নয় নিয়ে? এইত কয়দিন আগে কয়েকটা দূর্ঘটনার সাক্ষী হলো ভোলাবাসী। কয়েকটা প্রাণ ঝরে গেলো  এই দূর্ঘটনার কবলে পড়ে। রাস্তায় এই বেহাল অবস্থার শেষ কোথায়? 


তারপর আসি, যান্ত্রিক যানবাহন। ভোলাতে অটোরিকশার জয়জয়কার। যারা এই অটোরিকশা চালায় তাদের নেই কোনো চালকের লাইসেন্স, নেই কোনো যানবাহন চালানোর প্রশিক্ষণ। সেদিন আমি ১২ বছরের এক কিশোর কে দেখি অটো চালায়। আচ্ছা, প্রশাষন কি এইসব দেখে না? তারা কি করে এই অল্প বয়সে গাড়ি চালায় লাইসেন্স বিহীন। 


ভোলাতে আরো এক আতংক যেন বেপরোয়া বাসের গতি। নির্দিষ্ট কোনো গতির সীমা যেন নাই বাসে। রাস্তা ফাকা পেলেই বা থেকে ডানে উঠার জন্য যেন উঠেপরে নামে বাস। 

যার জন্য প্রতিনিয়ত হয় অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা। মা, হারায় তার সন্তান।বোন হারায় তার ভাই। যেসব বাস ড্রাইভার রয়েছে তাদের নেই লাইসেন্স। থাকলেও নেই তার মেয়াদ।

রাস্তায় চলা বাসের অবস্থা যেন বেহাল।ভাঙ্গা, মেরামতহীন বাস দিয়ে যাত্রী চলাচল হয়৷ এইসব দেখেও যেন না দেখার ভান করে উর্ধ্বতন কর্মকতারা। 


গত ২ দিন আগে ঘটে যায় ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কে মর্মান্তিকভাবে দূর্ঘটনা। যেখানে নিহত হয় ৩ যাত্রী। যেখানে ২ জন ছিলো কলেজ শিক্ষার্থী। এই দূর্ঘটনা এবং গত হওয়া আরো দূর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? রাস্তা উন্নয়ের নামে কি করা হচ্ছে মৃত্যুর ফাঁদ! যে মা হারালো তার সন্তান তাকে কি বলে সান্তনা দেওয়া হবে?  ২০ বা ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বলা হবে  কি এই হলো জীবনের দাম? জীবন কি এতোই সস্তা আজ? 

এর বিরুদ্ধে কি নেই কোনো প্রতিবাদ। পরিশেষে বলতে চাই,

ভোলা বাসী আর হারাতে চায় না কোনো বোন কিংবা ভাই। হারাতে চাই না কোনো পিতা কিংবা মাকে। অবিলম্বে এর সমাধান অতি জুরুরি হয়েছে এখন। উন্নয়নের নামে এই মৃত্যুর ফাঁদ রাস্তার কাজের শেষ সমাধান হোক। বাসের নির্দিষ্ট গতিসীমা ঠিক করে দেওয়া হোক। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ড্রাইভার, অটোচালকদের লাইসেন্স বিহীন গাড়ি চালালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হক। 

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024