নাট্যজন ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানের বক্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটা রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়ে গেছি। সেখান থেকে হিরো আলমের মতো একটা লোকের উত্থান হয়েছে। যে উত্থান কুরুচি, কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির উত্থান। এই উত্থান কীভাবে রোধ করা যাবে, এটা যেমন রাজনৈতিক সমস্যা, তেমনি আমাদের সাংস্কৃতিক সমস্যাও।’


মামুনুর রশীদের পক্ষ নিয়ে সরব হয়েছে টিভি নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ‘ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তাদের সংগঠনের ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।


এ বিবৃতির শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘প্রণতি অগ্রজ সুবোধ আপনার সাথে’। তারপর বিবৃতিতে লেখা আছে, সংস্কৃতির বাতিঘর মামুনুর রশীদ যে রুচির দুর্ভিক্ষের কথা বলেছেন তা যে কতটা প্রকট এবং কতটা ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বুঝতেই পারা যেতনা সোস্যাল মিডিয়ায় আমাদের সংস্কৃতির বাতিঘরকে হেয় করবার যে রুচিহীন উল্লাস চলছে তা না দেখলে। বোঝাই যেত না আমরা কী পরিমাণ রুচির দুর্ভিক্ষের মধ্যে নিমজ্জিত আছি!


বিবৃতিতে আরও লেখা আছে, দীর্ঘ ছয় দশক ধরে আমাদের সংস্কৃতি চর্চায় নিবেদিত ও পরীক্ষিত লড়াকু মানুষ শ্রদ্ধেয় মামুনুর রশীদকে হেয় করবার প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে এটা পরিস্কার যে সুস্থ বাঙালি সংস্কৃতিচর্চা ও বিকাশে সারা দেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে সুস্থ সাংস্কৃতিক বোধসম্পন্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানবিক বোধ সম্পন্ন সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলবার সংস্কৃতিকর্মীদের যে লড়াই চলছে, সেই দীর্ঘ দিনের লড়াই এবং লক্ষ্যকে ব্যহত করবার সুপরিকল্পিত অপপ্রচার ও অপচেষ্টা এটা।


সুস্থ রুচি গড়ে তুলতে, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বেগবান করতে প্রগতিশীল সকলকে হাতে হাত রেখে এই অপচেষ্টা রুখে দিতে সতর্ক ও সজাগ থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে সকল নির্মাতা।


এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে নাটকের সংগঠন ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির সদস্য-নেতাদের অনেকেই একই বিবৃতি পোস্ট করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, প্রাণ রায়, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, নাজনিন হাসান চুমকি, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, গোলাম ফরিদা ছন্দা প্রমুখ।

প্রকাশক : কাজী জসিম উদ্দিন   |   সম্পাদক : ওয়াহিদুজ্জামান

© Deshchitro 2024