প্রশাসনের নাকের ডগায় ময়লার ভাগাড়! নাগেশ্বরী উপজেলা গেটে চরম দুর্ভোগে পথচারী কুতুবদিয়ায় সমুদ্রে ট্রলার ডুবির ঘটনায় ৪জনের মৃত্যু উপজেলা এনসিপির শোক প্রকাশ নড়িয়ায় ৪০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নড়িয়ায় মর্ডান ফ্যান্টাসি কিংডম পার্ক থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার এমপি ও বিএনপি নেতার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নেই পদক্ষেপ : ছাত্রদল নেতাকে মারধরের মামলায় ৭ জনের জামিন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শ্যামনগরে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ট্যালেন্টপুল ৫৬ ও সাধারণ বৃত্তি ১০৫ অভয়নগরে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীর শার্শার কায়বা ইউনিয়নে যমজ প্রতিবন্ধী দুইভাই পেল হুইল চেয়ার অস্বাভাবিক শিক্ষক মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শ্রীমঙ্গলে বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি বৃদ্ধি, জনমনে আতঙ্ক আশাশুনির বামনডাঙ্গা স্লুইস গেটে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা অপসারন শ্রীমঙ্গলে মদ বহনকারী সিএনজিসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার জুলাই আন্দোলনের বীরত্ব থেকে নেতৃত্বে: নাগেশ্বরী উপজেলা যুবশক্তির নতুন কমিটি ঘোষণা শার্শায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতে বাজিমাত করেছে বাগআঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আসুন মিলেমিশে দেশের জন্য কাজ করি : প্রধানমন্ত্রী বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে ফেরানো হবে: প্রতিমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল পুনরায় পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৭ জেলায় বন্যা : ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু বেড়ে ৫৪ জয়পুরহাটে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আসামির মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত

৫আগষ্টে আহত আরিফ; অভাব ঘোচাতে যেয়ে ফিরলেন পরিবারের বোঝা হয়ে

ছবি: দেশচিত্র

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ঘড়িষার ইউনিয়নের হালইসার গ্রামে হানিফ দেওয়ানের ছেলে আরিফ দেওয়ান (১৮)। গত ৫ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার লং মার্চে অংশ নিয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে পৌছালে, দূর্বৃত্তরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আরিফের ডান পায়ের রগ ও মাংস পা থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং বাকীরাও খুব গুরুতর আহত হন। 

বছর খানেক আগে পরিবারের অভাব ঘোচাতে পড়াশোনা বন্ধ করে ঢাকা পাড়ি জমান পরিবারের একমাত্র ছেলে আরিফ দেওয়ান। গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে লং মার্চে অংশগ্রহণ করতে যেয়ে গুলিস্তানে হামলার স্বীকার হন আরিফ দেওয়ান। তখন কিছু লোক তাকেসহ ৬ জনকে ভ্যানে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেখে আসেন। কিছুদিন ঢাকায় চিকিৎসা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার কারনে তার বাবা তাকে গ্রামে নিয়ে আসেন। বর্তমানে ক্ষত স্থানে ঘা হয়ে পঁচন ধরার উপক্রম। পায়ের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে এখন বিছানায় কাতরাচ্ছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে আরিফ দেওয়ান। তার পায়ের ক্ষত ভালো হতে প্রয়োজন উচ্চতর চিকিৎসার কিন্তু সেই সামর্থ্য নেই তার দিনমজুর বাবার এবং এখনো পাননি কোন সহযোগিতা।

আরিফকে তার বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে আরিফ বলেন- বাংলাদেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে, নতুন করে দেশ আরেকবার স্বাধীন হয়েছে আর এই স্বাধীনতার পিছনে আমারও একটা গল্প আছে, আমারও কিছু ত্যাগ আছে। আমার মনে কোন কষ্ট নেই। দেশের মানুষ স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে তাতেই আমি খুশি। 

তবে আজ যেখানে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ চলতেছে, যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছে তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেছে। কিন্তু আমি আজ কয়েকমাস বিছানায় পড়ে আছি। সাহায্যের জন্য একটা আবেদন পত্রও পোস্ট করেছিলাম কিন্তু এখনও কেউ দেখতে পর্যন্ত আসেনি। আমার বাবা একজন দিনমজুর। এই কয়দিনের চিকিৎসায় বাবা অনেক ঋণ করেছে, তার জমানো যা ছিলো সব শেষ। আগামী দিনের ওষুধ কিনব কি করে তাও জানা নেই।

আরিফের বাবা হানিফ দেওয়ান জানান, ৫ আগষ্ট বেলা ৩ টার সময় আমার ছেলের এ অবস্থার খবর পাই। তখন ঢাকা যাবার খুব চেষ্টা করি, কিন্তু গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় আমি তখন যেতে পারিনি। পরে আমার ঢাকার এক আত্মীয় ঢাকা মেডিকেলে যেয়ে তাকে চিকিৎসা করান। রোগী বেশি হওয়ায় সেদিন মেডিকেল তার ভর্তি নেয়নি, তাই আমার আত্মীয় আরিফকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। তিনদিন পর আমার ছেলেকে আবার ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে ডাক্তার জানায়- ক্ষতস্থানে ঘাঁ হয়ে গেছে, উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। আমি ঢাকায় কিছুদিন আমার ছেলের চিকিৎসা করাই। কিন্তু ঢাকায় থাকা ও হাসপাতালের এত খরচ বহন আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না, তাই ছেলেকে নিয়ে গ্রামে চলে আসি। এখন গ্রামের এক ডাক্তারকে দেখাচ্ছি। আজ ১ মাস ৬ দিন হল আমি কষ্ট করে আমার ছেলের চিকিৎসা করাচ্ছি। ডাক্তার বলছে যদি উন্নত চিকিৎসা করাতে বেশি দেরি হয়ে যায়, তাহলে এই ঘাঁ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে এবং আরিফ হয়তো আর হাটতে পারবে না।

তার বাবা আরও জানান, "আমার কাছে যত টাকা ছিল সব শেষ। বর্তমানে আমি আমার ছেলের ওষুধের খরচও ঠিকমতো বহন করতে পারছিনা, এর থেকে ওর থেকে নিয়ে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া আমার ছেলের পায়ের যে অবস্থা আমি এতো ওষুধের টাকা পাব কই আর অপারেশনই বা করাব কিভাবে"।

স্থানীয় কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) বলেন, তার বর্তমান অবস্থা সংকটাপন্ন। যদি সময়মতো উন্নত চিকিৎসা না করানো যায় তাহলে হয়তো তার ডান পা'টা অকেজো হয়ে যাবে। যেহেতু আরিফের পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল, চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব না। তাই সরকারিভাবে বা সমাজের বিত্তবানরা যদি আরিফকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে তবে তার পরিবারের অনেক উপকার হবে এবং আরিফ আবার হাটতে পারবে।

আরও খবর