ঘটনাস্থল থেকে কয়েকশ মাইল দূরে একমাস আগে থেকে তাবলিক জামায়াতের চিল্লায় থেকেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্রদের মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন জামালপুরের ইসলামপুরের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। তাঁর নাম হযরত আলী। তিনি উপজেলার গাইবান্ধা ইউপির টানা দুই মেয়াদে সাধারণ আসনের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের গাইবান্ধা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁরা বাড়ি ওই ইউনিয়নের চন্দনপুর গ্রামে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় ইসলামপুর থানায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হযরত আলীকে জামালপুর চিপ জুডিশিয়াল আদালতে পুলিশ হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগের দিন গতকাল সোমবার দিবাগত গভীর রাতে নিজ বাড়ি থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ইউপি সদস্য হযরত আলীসহ তাঁর পরিবারের অভিযোগ, মামলায় উল্লেখিত ঘটনার এক মাস আগে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় জামে মসজিদে তাবলিক জামায়াতের চিল্লাতে ছিলো হযরত আলী। অথচ ঘটনাস্থলে না থাকার সত্ত্বেও হযরত আলীকে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা অভিযোগের ভিত্তিতেই হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত আলীসহ স্থানীয় ১৩ জন লোক একসঙ্গে তাবলিক জামায়াতের ৪০ দিনের
চিল্লা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৫ জুলাই বাড়ি থেকে বের হন। ঢাকার কাকরাইল মার্কাজ থেকে ৭ জুলাই তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় পৌঁছেন। সেখানে তিনদিন করে ১৩টি মসজিদে চিল্লার কাজ করেন তাঁরা। চিল্লার কাজ সম্পন্ন শেষে গত ১৩ আগষ্ট সেখানকার খানসুরা মোড় জামে মসজিদ থেকে হযরত আলী সফর সঙ্গীদের সঙ্গে বাড়ি ফিরেন।
ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগষ্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা ইসলামপুর অডিটরিয়ামের সামনে একত্রিত হয়। এসময় আন্দোলন ঠেকাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল সরকার ওরফে খসখসা খলিলের নেতৃত্বে আওয়ামী নেতারা আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্যাপক মারধর করে।
ওই ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের আগ্রাখালী আকন্দপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ছোটো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোরশেদুর রহমান মাসুম খানসহ ৩১ জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় হযরত আলীকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হযরত আলীর ভগ্নিপতি কান্দারচর গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, 'হযরত আলীসহ স্থানীয় ১৩ জন লোক আমরা একসঙ্গে ৪০ দিনের চিল্লা দেওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৭ জুলাই নাচোল উপজেলায় অবস্থান করি। সেখানকার ১৩টি মসজিদে চিল্লার কাজ শেষে ১৩ আগস্ট বাড়ি ফিরি। অথচ ৪ আগস্টের ঘটনার মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে হযরত আলীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
হযরত আলীর ছোটো বোন নাজমা বেগম বলেন, 'আমার ভাইকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত চাই।'
স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলী, সুরুজ আলী, হাজি মজিবর এবং ইনসান আলী বলেন, 'ইউপি সদস্য হযরত আলীসহ আমরা ১৩ জন লোক চিল্লাতে ছিলাম। কিন্তু চিল্লাতে থাকাকালের ঘটনায় দায়ের মামলায় হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করায় আমরা হতবাক। '
থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে হযরত আলী বলেন, 'আমি টানা দুই মেয়াদে ইউপি সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত ৪ আগষ্ট আমি কয়েকশ মাইল দূরে নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডি হাট জামে মসজিদে চিল্লারত। অথচ ওইদিনের ঘটনার মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।'
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, 'সন্দিগ্ধ অজ্ঞাত আসামি হিসেবে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।'
৪ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে