বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদেরকে মারধরের অভিযোগের মামলায় কারাবন্দী জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
আজ সোমবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জামালপুর জেলা কারাগারের গেটে আধাঘন্টা ব্যাপী তাঁকে মামলায় উল্লেখিত ঘটনার বিষয়াদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গতকাল রোববার (৪ নভেম্বর) দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন শোনানি শেষে জামালপুরের চিপ জুডিশিয়াল আদালতের ইসলামপুর জিআর আমলি আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীকে পুলিশী হেফাজতে না দিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।
গত বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে জামিনের প্রার্থনা করলে জামিন নামঞ্জুর করে ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।
ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগষ্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা ইসলামপুর অডিটরিয়ামের সামনে জড়ো হয়। এসময় আন্দোলন ঠেকাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল সরকার ওরফে খসখসা খলিলের নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, এবং আওয়ামী লীগ নেতারা কোপা দা, লোহার রড, হকিস্টিক, শার্ট গান, পিস্তলসহ মারাত্মক বিভিন্ন অস্ত্রপাতিতে সজ্জিত হয়ে পূর্বকল্পিতভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে বেশকয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হন। এসময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও গোয়ালেরচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ তাঁর হাতে থাকা পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ওই ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের আগ্রাখালী আকন্দপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সাবেক ধর্মমন্ত্রী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল হক খান দুলালের ছোটো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোরশেদুর রহমান মাসুম খানসহ ৩১ জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় এজাহার নামনীয় আসামি মাকছুদুর রহমান আনছারী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ইসলামপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বলেন, 'আসামি ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারীকে জেল গেটে আধাঘন্টা ব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। মামলার তদন্ত স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।:
উল্লেখ্য, ইউপি চেয়ারম্যানের মাকছুদুর রহমান আনছারী টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে ইউপির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্বরত।
স্থানীয় সূত্র জানা যায়, মাকছুদুর রহমান আনছারী একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন অন্য একজনকে দেওয়ার ক্ষোভে ওই বছরই তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। উপজেলা যুবদলের সভাপতি থাকাবস্থায় ২০০৩ সালে মাকছুদুর রহমান আনছারী বিএনপির সমর্থনে প্রথমবারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের জরুরি অবস্থায় তিনি যৌথ বাহিনীর হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী ছিলেন।
২ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে