আশাশুনি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহের প্রান্তিক
পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা
শিক্ষা অফিস ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নতুন নিয়ম চালু করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে
লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে চলেছে বলে অভাযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার
প্রান্তিক পরীক্ষা বিগত দিনে ক্লাস্টার পর্যায়ে নেয়া হতো। ক্লাস্টারের
শিক্ষকদের সমন্বয়ে সুশৃংখল ভাবে পরীক্ষা গ্রহন ও আয় ব্যয়ের হিসাব দাখিল ও
অনুমোদনের মাধ্যমে নিস্পত্তি করা হতো। সেখানে কোনো দুর্নীতি হতো না। কিন্তু
বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার বর্মন আশাশুনিতে যোগদানের পর
থেকে প্রান্তিক পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি শুরু হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রী
প্রতি পরীক্ষার ফিস নেওয়া হচ্ছে ১৬ টাকা করে। যেখানে প্রতি সেট প্রশ্নের
খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা করে। অব্যয়িত টাকা পরীক্ষার ফান্ডে নির্দিষ্ট একাউন্টে
রাখার কথা থাকলেও ফান্ডে না রেখে শিক্ষা কর্মকর্তাগণ নিজেরা ভাগ করে নিয়ে
থাকেন। যা ব্যয় করার কথা শিক্ষার্থীদের কল্যানে। উপজেলা পর্যায়ে প্রান্তিক
পরীক্ষা পরিচালনার জন্য কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে কোন কমিটি করা হয়নি।
আয় ব্যয়ের কোন হিসাব দেওয়া হয়না।
আশাশুনি উপজেলার
১৬৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে ৫ হাজার ২ শত ৯৪ জন ছাত্রছাত্রী,
চতুর্থ শ্রেণিতে ৫ হাজার ৮৬ ও ৫ম শ্রেণিতে ৪ হাজার ৭ শত ৬৬ জন সর্বমোট ১৫
হাজার ১৪৬ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষার্থী প্রতি ১৬ টাকা করে আদায় করা
হলে মোট ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৩৬ টাকা আদায় হওয়ার কথা। হিসাবে দেখা যায় খরচ
হয়েছে ৭৫ হাজার ৭৩০ টাকা, আর অতিরিক্ত বা অব্যয়িত রয়ে গেছে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার
৬০৬ টাকা। কিন্তু দুঃখের ঘটনা হলো, অব্যয়িত দেড় লক্ষাধিক টাকা একাউন্টে
জমা রেখে আয় ব্যয়ের হিসাব দেননি। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল প্রতিবাদ দেখা
যাচ্ছে।
কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে
জানান, তারা হিসাব চাইতে গেলে দেওয়া হয়নি। তাদের দাবী ফান্ডে কোন টাকা নেই,
টাকা ভাগ হয়ে গেছে। অধিকাংশি এ টি ও চাকুরীস্থলে অধিক দিন থাকায় টাকার
বিনিময়ে ক্ষুদ্র মেরামত সহ অন্যান্য কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে তারা
দাবী করেন।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন
কুমার বর্মন জানান, পরীক্ষা ক্লাস্টারে না উপজেলা ভিত্তিক হবে সেটা
ক্লাস্টার অফিসারদের দায়িত্ব। আমি প্রোগ্রাম থ্রো করে থাকি মাত্র। অর্থের
হিসাব এটিইওরা দিতে পারবেন। আমি কোন হিসাব নেইনি বলে তিনি জানান।
সহকারী
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সেলিম জানান, প্রতিসেট কত খরচ পড়েছে, কত টাকা
উঠেছে ও কত টাকা বেচে আছে তা আমার জানানেই। তবে কিছু টাকা বেচে আছে, কত
টাকা এবং টাকা একাউন্টে জমা আছে কিনা বলতে পারবো না।
সহকারী
উপজেলা শিক্ষা অফিসার গৌরাঙ্গ গাইন জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা
নেওয়া হয়না, শিক্ষার্থী অনুপাতে প্রতিষ্ঠান হতে স্লিপের টাকা থেকে পরীক্ষা
ফি বাবদ টাকা আদায় করা হয়। সঠিক হিসাব সদস্য সচিব দিতে পারবেন বলে তিনি
জানান।