সাবেক প্যানেল মেয়র নয়নের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র, বারবার নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত এনায়েত হোসেন নয়নের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০২১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরদিন নিজ উপজেলার চিকনমাটি মধ্য ধনীপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
প্রয়াত এনায়েত হোসেন নয়ন ডোমার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের চিকনমাটি মধ্য ধনীপাড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আমিরুল হোসেন বুড়োর ১ম পুত্র।
তাঁর ছিল বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। ১৯৮৪ সালে ডোমার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ১৯৯০ সালে উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে সংগঠন দুটোকে সুসংগঠিত করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাহসী ভূমিকার জন্য তাকে ডোমার উপজেলা ছাত্র ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়।
এরপর ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। মৃত্যু অব্ধি সহ-সভাপতির পদে দায়িত্বরত ছিলেন। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ছিল তার অসাধারণ খ্যাতি। ডোমার নাট্য সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন নয়ন।
২০০১ সাল থেকে মোট তিনবার ডোমার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন তিনি। ছিলেন একজন জনপ্রিয় ও সফল জনপ্রতিনিধি। পৌরসভার প্যানেল মেয়র হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ সালের ৩রা ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বাড়িতে ডোমার উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলাপচারিতার সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়ে গেলে সহকর্মীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি ঘটলে তার আত্মীয়রা ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যান।
টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ১৩ই ডিসেম্বর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরদিন, ১৪ই ডিসেম্বর তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে জনতার ঢল নামে। জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করতে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মহিলা কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে মধ্য ধনীপাড়া স্থ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল নয়নকে।