আশাশুনির বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেমেয়ের ন্যুনতম কর্মক্ষম
ও আত্মমর্যাদা পাওয়ার উপযোগি করে গড়ে তুলতে আশাশুনিতে প্রতিষ্ঠিত 'বুদ্ধি
প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়' নানা গঞ্জনার মধ্যদিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠার
২০ বছর পরও প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ৩৯ জনকে এমপিও
ভুক্ত করা হয়নি। বারবার তথ্য ও কাগজপত্র পাঠানোর পরও মন্ত্রণালয় ও
প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের আশীর্বাদপুষ্ট না হওয়ার কারনে বঞ্চিত
হয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আশাশুনির মত অবহেলিত উপজেলা
সদরে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। কঠিন
কষ্টসাধ্য ও বাস্তবতাকে জয় করে শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে গড়ে তোলার
বিশ্বাস স্থাপনে স্বল্প সময়ে সমর্থ অর্জন করতে সক্ষম হন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সরকারি বেসরকারি অনুষ্ঠান এবং নিজস্ব
পরিসরে আনন্দঘন পরিবেশ ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের
উপস্থাপন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে থাকে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি
প্রাপ্ত হয়। শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধি ও আত্মপ্রত্যয় বেড়ে যাওয়ায় আরও ভালভাবে
প্রতিষ্ঠান এগুতে শুরু করে।
উপজেলা নির্বাহী
অফিসার, সমাজ সেবা কর্মকর্তার নিয়মিত দেখভালে নিয়মতান্ত্রিকতা অবলম্বনে
চলতে থাকে প্রতিষ্ঠান। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শণ, দিকনির্দেশনা ছুঁয়ে
২০১৭ সালে বিদ্যালয়ের অর্থ ছাড় করা হয় এবং ২০২০ সালের ৬ আগষ্ট দেশের ১২টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে এটিও এমপিও ভুক্ত হয়। এমপিও ভুক্তির তালিকায় ১ নং
স্রিয়ালে ছিল এই বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী
অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে ২৪/৯/২০ তাং ৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা
পাঠানো হয় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের
দপ্তরে। ২০২১ সালে ৮ জনের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীর বেতন
নির্ধারন করে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবন্ধী শাখা।
প্রতিষ্ঠানের
অন্য ৩৯ জন নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা প্রেরন করা হয় ১৯/৯/২০২২
তারিখে। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ---৭৫ নং স্মারকে ১২/১/২৩ তাং তাদের
স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রেরনের চিঠি করে। ১২/৩/২৩ তাং ২০ ও ১৯ জনের
কাগজপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ১৭/৫/২৩ তাং নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের পক্ষে
৩৫৭ পাতা কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে মোবাইল ফোনে আবারও
একই কাগজপত্র চাওয়া হলে ৩০/৫/২৩ তাং পুনরায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের
কথা এরপরও ১৯/৬/২৩ তাং পুনরায় কাগজপত্র চেয়ে চিঠি করা হলে প্রতিষ্ঠানের
পক্ষ থেকে ১১/৯/২৪ তাং জমা দেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠান
প্রধান সেকেন্দার আলী জানান, এতকিছুর পরও আমাদেরকে হয়রানী করা ছাড়া কাজের
কাজ কিছুই করা হয়নি। সর্ব প্রথম এমপিও ভুক্তকৃত ১২ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে
৬টির অবশিষ্ট শিক্ষক কর্মচারীকে এমপিও ভুক্ত করা হলেও সকল কগজপত্র জমা
দেওয়া স্বত্ত্বেও আমাদেরকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বাধ্য হয়ে গত ২১ নভেম্বর'২৪
নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের প্রাপ্ত পদে বেতন ভাতা নির্দ্ধারনে আবেদন করি
সচিব মহোদয় বরাবর। তিনি ডিএসকে মার্ক করেন। যা সেকশানে চলমান আছে। তিনি আরও
বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০০৯ এর পূর্বে
প্রতিষ্ঠিত। ২০১৯ সালে নতুন নীতিমালা হয়েছে। আইনগত ভাবে আমাদের শিক্ষক
কর্মচারীদের কোন সমস্যা না থাকার পরও কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে ভাবতে পারিনা।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রত্যান্ত আশাশুনি উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত
একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি ভালভাবে চালু রাখতে এবং প্রতিবন্ধীদের অধিকার বঞ্চিত
না করতে দ্রুত শিক্ষক কর্মচারীদের এমপিও ভুক্ত করতে জোর দাবী জানান হয়েছে।