আশাশুনি সদরে নদীর চর ভরাটি খাস জমি স্ট্যাম্প লিখে হস্তান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘটেছে সদর ইউনিয়নের পার বাউশুলী মৌজায়।
জানাগেছে,
শ্রীকলস গ্রামের আঃ মাজেদ গাজীর ছেলে ভূমিহীন আজিবর গাজী নদীর চরে খাস
জমিতে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন। আজিবরের স্ত্রী রাহেলা খাতুন জানান, নদী
খনন ও বাঁধ সম্প্রসারণের সময় তাদের বসত ঘর ভাঙ্গা পড়ে যায়। তখন মৃত গোলাম
বারীর ছেলে শেখ আঃ রাজ্জাকের কাছ থেকে তার দখলীয় প্রায় ২ বিঘা খাস জমি নন
জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লেখাপড়া করে নিয়ে দখলে যাই। জমির এক পাশে আমরা ৪ দিন
আগে থেকে মাটির কাজ, বাঁশ খুটি বসিয়ে ঘর নির্মান শুরু করি। গতকাল
(শুক্রবার) মেম্বার আঃ রহিম কাজে বাঁধা দিলে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। আমরা
অসহায় ভূমিহীন, বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি। গত বর্ষার সময় অন্যের
জায়গায় হাটু পানিতে কাটিয়েছি। আমার ঘরবাড়ি ওয়াপদার স্লোবে মাটির তলায় পড়ে
নষ্ট হয়েগেছে। এখন বসবাসের কোন সুযোগ নেই। বর্তমান দখলে থাকা জমিটি যাতে
ডিসিআর পেয়ে আমরা বসবাস করতে পারি তার বিহিত ব্যবস্থা করতে তিনি
কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় সাবেক
মেম্বার আঃ রহিম জানান, এই জমি সংলগ্ন খেলার মাঠ রয়েছে, এখানে মক্তব ছিল,
আমরা মক্তব ও গণ কবরস্থান গড়ে তুলতে চাই। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী
কমিশনার (ভূমি) এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ডিসিআর প্রদান বন্ধ রেখেছেন। শেখ
আঃ রাজ্জাক ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে খাস জমি
হস্তান্তর করে টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টির প্রতিকার প্রার্থনা করে তিনি
বলেন, খবর পেয়ে আমি এসি ল্যান্ড অফিসে যোগাযোগ করে জানতে পারি সেখানে কোন
ডিসিআর দেওয়া হয়নি। তখন কাজ বন্ধ রাখতে বলি কিন্তু বন্ধ করা হয়নি। ভূমিহীন
আজিবররা খাস জমি পাক তাতে আমরা সহায়তা করবো, কিন্তু কেউ খাস জমি টাকার
বিনিময়ে হস্তান্তর করবে তা হতে পারেনা।
এব্যাপারে
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন জানান, আজ সরকারি ছুটির দিন, একজন বীর
মুক্তিযোদ্ধার ইন্তেকালে আমরা সেখানে যাচ্ছি। অফিস খুললে ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।