‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ প্রতিপাদ্য নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’। এ উৎসব আয়োজন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে। তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আইসিটি খাতে উদ্ভাবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী,এনডিসি। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুমাইয়া আফরিন সানী। সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ.এন শাহীন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পঙ্কজ বড়ুয়া। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, "তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগ দেশের অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইসিটি খাতে তরুণদের অবদান তাদের সৃষ্টিশীলতা এবং নতুনত্বের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখে এগিয়ে যাবো।"
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, "আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা, যারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য ভেন্যু হিসেবে নির্বাচন করেছে। তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সহ নতুন প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান অর্জন তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদেরই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, "বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পেছনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তরুণদের নেতৃত্ব ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পরবর্তী ইনোভেশন হাব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হবে। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য হলে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।"
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় দুটি সেমিনার—"Empowering Youth for National Development" এবং "Innovate to Elevate Youth as Change Makers"—যেখানে তরুণদের জাতীয় উন্নয়নে নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর পাশাপাশি আয়োজন করা হয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ, অনলাইনে কুইজ প্রতিযোগিতা এবং তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রযোজনায় কুমিল্লার ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পুরস্কার বিতরণী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারুণ্যের এ উৎসবের পর্দা নামানো হয়। তরুণদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশে এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।