চশমা নিয়ে চিলমারীতে জামান বিজয়ী ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি’-ডকুমেন্টারি নির্মাণে ভোলা জেলায় ১ম হয়েছে লালমোহন হা-মীম স্কুল ৩ দিন ধরে পানি নেই বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, চরম দুর্ভোগে রোগীসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নার্সের অবহেলায় হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ দক্ষিনী সিনেমার সেরা অভিনেতা 'মহেশ বাবু' বরিশাল রেঞ্জ'র শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসন বরিশাল জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উদ্যোগে দুস্থ অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজন সড়ক দূর্ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়র নিহত করোনাভাইরাস : সবচেয়ে কম শনাক্তের দিনে মৃত্যুশূন্য বরিশাল পুলিশ সদস্যদের সার্বিক কল্যাণে যেমনি পাশে আছি, তেমনি তাদের শৃংখলা রক্ষার্থে কঠোর থেকে কঠোরতম অবস্থানে রয়েছি-বিএমপি কমিশনার লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই লক্ষ্মীপুরের মির্জাপুর এলাকার মাওঃনজীর আহমদ আর নেই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দূর্গা সাগর দিঘি ও কালেক্টরেট পুকুরে পাছের পোনা অবমুক্ত বরিশালে বোনের জমি-ফ্লাট দখলে নিতে মাকে বাসা থেকে বের করে দিলো দুই ছেলে ফরিদপুরে কাশফুলের রাজ্য শেরপুরে মুজিব শতবর্ষ জেলা দাবা লীগ শুরু আজ ॥ শ্রীবরদীতে পুলিশের অভিযানে হেরোইনসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশালে ইমারত নির্মাণ শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি

মোহাম্মদ রায়হান - ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি

প্রকাশের সময়: 03-07-2021 08:57:41

Photo caption :
আমাদের ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস। বাঙালির রয়েছে অনেক গৌরবময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে আমাদের কিছু নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী কিছু ব্যবহার্য জিনিস। যুগ যুগ ধরে আমরা এই সংস্কৃতি ধারণ ও লালন করে আসছি। ব্যবহার করে আসছি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী জিনিস। হাজার বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এই সকল জিনিস বাঙালি সংস্কৃতির এক একটি উপাদান: বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক।



আবহমানকাল কাল ধরে বাঙালি জাতি নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে চলেছে এক সংগুপ্ত প্রাণশক্তির বলে,আর সেই শক্তি হচ্ছে তার সংস্কৃতি। নানা রাজনৈতিক ঝড়ো হাওয়ার মুখে বাঙালি যে নতি স্বীকার করে নি, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, মন্বন্তরের মতো শত দুর্বিপাকের মধ্যেও সে যে দুর্বিনীতি প্রাণশক্তিতে মাথা তলে দাঁড়াতে পেরেছে, তার মূলে রয়েছে বাঙালির অপরাজেয় ও দুর্বার সাংস্কৃতিক শক্তি।



বাঙ্গালি সংস্কৃতির লক্ষনীয় বৈশিষ্ট তার কোমলতা ও চারুত্ব। তা অভিব্যক্তি পায় বাঙ্গালির চাল-চলনে,আচার-আচরণে,পোশাক-পরিচ্ছদে,আহার-বিহারে,তাঁর রুচি ও মননে,শিল্প-সাহিত্যে,চিত্রকলায়,সঙ্গীতে, জীবনের সকল ক্ষেত্রে।বাঙ্গালির সংস্কৃতির মূল ধারায় কালে কালে মিলেছে নানা সংস্কৃতির নানা বিচিত্র ধারা।যুদ্ধ,মহামারী, রাষ্ট্রবিপ্লব ওবহিরাগত ভাবধারার মুখে বাঙালি সংস্কৃতি বারবার পড়েছে নানা সংকটে।কিন্তু যুদ্ধ, মহামারী এই সংস্কৃতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি,তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাঙ্গালির হাতে গড়া এইসব সংস্কৃতি।
গ্রাম-বাংলার সেই অতিপরিচিত গ্রামীণ ঐতিহ্য অর্থাৎ বাংলার লোকসংগীত, পালাগান, কবিগান, যাত্রাপালা,বেহুলা-লক্ষীনরের পালা আধুনিকতার ছোঁয়ায় আসতে আসতে সেইসব সংগীত হারিয়ে যাচ্ছে। এই আধুনিক যুগে আধুনিক সংস্কৃতি ও পণ্যের কাছে, আধুনিক কলাকৌশলের কাছে মার খেতে খেতে আস্তে আস্তে বাঙালির অতীত সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক অনেক কিছু আজ বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাওয়া বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-  ঢেঁকি, খড়ম, পালকি, পালকের কলম, বাঁশের কঞ্চির কলম, কলা ও তালপাতার কাগজ, পালের নৌকা, গরুগাড়ি, পাতিকূপ ও ইঁদারা, বায়োস্কোপ, শিকা, ডুলি, হুক্কা, আলতাবড়ি, কাগজের তৈরি ডালি, পিঁড়ি, পানি সেচের জাঁত বা ডোঙ্গা, মাথাল বা মাথল, ধানের গোলা, নকশিকাঁথা, কলুর ঘানি, পাতার বিড়ি, খেজুর পাতার পাটি, উরুন-গাইন/গাইল-চিয়াতো, ডোল, মাটিরঘর, কুঁড়েঘর, ধান বা চাল রাখার কুটির, পানি সেচের জাঁত বা ডোঙ্গা, যাঁতি, লাঠিখেলা, চৈত্রসংক্রান্তির মেলা ইত্যাদি।


গ্রামের নারী-পুরুষ হাতে তৈরি কূলা, চাটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা,সাজি, ঢাকনা, পাখা, ডালা ,মাটির তৈরি পুতুল, হাড়ি, কলসিসহ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করে এই শিল্পে জড়িত ছিল।এসব শিল্প সামগ্রী গ্রামে-গঞ্জের হাট-বাজারে ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কদর ছিল।


বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির কদর বাড়ায় কুঁটির শিল্পের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে।এতে কুটির শিল্পের কারিগরদের মাঝে নেমে এসেছে দুর্দিন।কুটির শিল্পে জড়িত শত শত পরিবার কর্মক্ষম হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।


অরুণ দাশসহ কুটির শিল্পে জড়িত কয়েকজন কারিগর জানান, আমাদের তৈরিকৃত শিল্প এখন বাজারে তেমন বিক্রি হয়না।এছাড়া বাজারে কুটির শিল্পের কাঁচা মালের দাম বাড়তি এবং বর্তমান প্রজন্মের ছেলেরা এই শিল্পে কেউ জড়িত হতে চাইনা।


গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি নানা কারনে হারিয়ে যাচ্ছে।গ্রামে-গঞ্জে কুটির শিল্পের পণ্য তেমন দেখা যায়না।সমাজ ও রাষ্ট্র পরিবর্তনের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে এটি।


আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী রান্না ঘর।
এসব রান্না ঘর এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করত। মাঠির ফাখালের পাশে বসে মায়ের হাতের খাবার,আগুনে আর নাড়া বনের কালো ধোঁয়া চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে আর মায়ের কাপড়ের আঁচলে দিয়ে মুখ মোছার সেই দৃশ্য আজ মনে পড়ে জীবনের প্রতিটি নিশ্বাসে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সেই রান্নাঘর আজ এখন প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে না।  গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য আর স্মৃতি যেন বিজড়িত।।আর রান্না ঘরের মাধ্যমে শৈশবে জড়িয়ে থাকতো সন্তানের কাছে মায়ের ভালোবাসা। কিন্তু মাঠ-বিল-ঝিল হারিয়ে যাওয়ায়, আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব এ সব রান্নাঘর। গ্রামীণ এ রান্না ঘর আমাদের আদি সংস্কৃতি। 


আগে কৃষককে দিয়ে ক্ষেতের ধান কেটে বাড়িতে এনে গরু-মহিষ দিয়ে ধান মাড়ায় করে সেই ধান সিদ্ধ করে শুকিয়ে ঢেঁকিতে ধান ভাঙিয়ে ভাত রেধে খেতো,আর এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধান কাটার জন্য লোকেরও প্রয়োজন পড়ে না,আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের ফলে মেশিন দিয়ে দান কেটে,মেশিনে ধান ভাঙ্গিয়ে খাওয়া হয়। 
মা-বোনদের কাছে আটা দিয়ে পিঠা তৈরিতে কোন বেগ পেতে হয় না। “ও বউ ধান বানেরে” গ্রামীণ এই ঐতিহ্যবাহী গানটি আর তেমন শোনা যায় না। চোখে পড়ে না আর ঢেঁকিতে চাউল থেকে গুড়া বানাতে বানাতে গ্রামীণ গৃহীণি দপর গান, গীত গাওয়ার দৃশ্য। ধান, চাল, আটা ও চিড়া ভাঙ্গনোর জন্য বৈদ্যুতিক কল হওয়ার কারণে গ্রামীণ কৃষকরা সহজেই ধান, আঁটা ও চিড়া কম সময়ে অল্প খরচে ভাঙ্গাতে পারছে। তাই বাড়ীতে ঢেঁকি রাখার প্রয়োজন মনে করছেন না অনেকেই।


আধুনিক যানবাহন আবিষ্কার হওয়ার আগে অভিজাত শ্রেণির লোকেরা পালকিতে চড়েই যাতায়াত করতেন। বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়েতে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল। খোল-করতালের মাধ্যমেই আগে বিয়ের উৎসব উদযাপন করা হতো,কিন্তু আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের আবিস্কারের ফলে সেইসব বাদ্যযন্ত্র এখন আর প্রয়োগ নেই বললেই চলে।  একসময় পালকিতে চড়েই নববধূ আসতো স্বামীর ঘরে।  কোথাও বেড়াতে গেলে পালকিই ছিল একমাত্র বাহন। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্টীমার ও রেলগাড়ি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পালকির ব্যবহার কমতে থাকে। ক্রমশ সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি এবং আধুনিক যানবাহন আবিষ্কার হওয়ার ফলে ও পশু-চালিত যান চালু হলে যাতায়াতের বাহন হিসেবে পালকির ব্যবহার কমে যায়। ১৯৩০-এর দশকে শহরাঞ্চলে রিকশার প্রচলন হওয়ার পর থেকে পালকির ব্যবহার উঠেই গেছে।


বিংশ শতাব্দীর শেষাংশেও গ্রামের শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি মেতে উঠতো বিভিন্ন ধরনের খেলায়। বিকেলে খোলা মাঠে দস্যিপনা চালাতো শিশু-কিশোররা। যুবারা দলবেঁধে খেলত হা ডু ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, কাবাডিসহ বিভিন্ন গ্রামীণ খেলা। এমনকি সেখানে স্থান পেত বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট, ফুটবলও। শৈশবের দুরন্তপনায় মেতে থাকতো ছেলে-মেয়ের দল।


বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তি কেড়ে নিয়েছে অতীতের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাকে। আর প্রজন্মকে ক্রমেই ঠেলে দিচ্ছে যান্ত্রিকতার দিকে। কেবল যান্ত্রিকতায় যদি সঙ্গী হতো তবুও মেধাবী এক ভবিষ্যতের বাংলাদেশ পাওয়ার জোর সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু খেলাধুলার প্রতি অনাসক্তি কিশোর-যুবকদের ঠেলে দিচ্ছে ভয়ঙ্কর মাদকতার দিকে। ফলে ভবিষ্যত বাংলাদেশ হচ্ছে মেধাশূন্য।


এছাড়া বর্তমানে শহরাঞ্চলে তো বটেই গ্রামাঞ্চলেও খোলা জায়গা বা খেলার মাঠের স্বল্পতার কারণে অনেক গ্রামীণ খেলার মৃত্যু ঘটেছে অনেক আগেই। ফলে বর্তমানে ভিডিও গেম, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ইত্যাদি গ্রামীণ খেলাধুলার সে স্থান দখল করে নিয়েছে। ছেলেমেয়েরা একটু সময় পেলেই মেতে ওঠে এসব যান্ত্রিক জিনিস নিয়ে। আগের সব থেকে বড় গ্রামীণ ঐতিহ্য ছিলো নৌকা বাইচ, বিভিন্ন এলাকার বড় বড় হাতের তৈরি নৌকাগুলো নিয়ে জমজমাট আয়োজনের মাধ্যমে নৌকা বাইচ হতো,কালের বিবর্তনে আসতে আসতে যেন সেটাই হারিয়ে যাচ্ছে। 


বলা হয়, পড়াশুনা যেমন ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ ঘটায় তেমনি শারীরিক বিকাশ ঘটাতে খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। আগেরকার দিনে গ্রামাঞ্চলে হা-ডু-ডু, কাবাডি, জব্বারের বলি খেলা ও লাঠিখেলার জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা চলত। বিভিন্ন গ্রামে এসব খেলার জমজমাট আয়োজন হতো। এ সমস্ত খেলা দেখার জন্য অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দলে দলে এসে উপস্থিত হতো মাঠে। অনেক খেলোয়াড় টাকার বিনিময়েও বিভিন্ন দলের হয়ে খেলতো। তাতে করে ভালো খেলায় টাকাসহ নানারকম পুরস্কার যেমন মিলতো সেই সঙ্গে ভালো খেলোয়াড় হিসেবে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়তো এলাকায়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এসমস্ত খেলোয়াড়দেরকে অনেক সম্মান করতো।


আধুনিকতার ছোঁয়ায় যেন শিশুরা হারাতেই চলেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী শৈশবের বহুলাংশ।হারাতেই চলেছে যেন শৈশবের সেই চঞ্চলতা। আর চোখে পড়ে না বন-বাদরে ঘুড়ে বেড়ানোর সেই দৃশ্য। মনে পড়ে যায় সেই ঐতিহ্যবাহী শৈশবের কথা,যখন কিনা গাছের ডালে বসে গল্প করা হতো,যেটা দেখতে ছিলো অনেকটাই ভূতের মতো।দিনের পর দিন যেন শিশুরা হারাতেই চলেছে লাফ-ঝাফ আর সাঁতার কাটা। আর যেন চোখের পড়ছে না চাঁদের আলোয় লুকোচুরি খেলানোর সেই গ্রামীণ দৃশ্য। আর যেন চোখেই পড়ছে না শিশুদের কাঁদা মাখা বদনে মুর্তি সাজার দৃশ্য। কালের বিবর্তনে শিশুরা যেন ভুলেই যাচ্ছে ঝড়ের দিনে আম কুড়ানোর দৃশ্য। হারিয়ে যাচ্ছে যেন বৃষ্টিতে ভিজে গোসল করা আর পাড়া মাতানোর গ্রামীণ চিত্র।আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর দেখায় যাচ্ছে না বর্ষার ভেলায় শিশুদের ভেসে বেড়ানোর গ্রামীণ দৃশ্য। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত আসক্তির ফলে দিন দিন শিশুরা গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে ছিঁটকে পড়ছে।



সত্যি কথা বলতে গেলে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর কথা আজ যেন রূপকথার গল্পের মতো শোনাতে হয় আমাদের নতুন প্রজন্মকে। আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো এটা স্বপ্নের মতো মনে হবে। তখন ইতিহাসের পাতায় পড়া ছাড়া বাস্তবে খুঁজে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য হবে এইসব হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। নতুবা কোনো জাদুঘরের কোণে ঠাঁই করে নেবে আমাদের অতীত ঐতিহ্য নিজের অস্তিত্বটুকু নিয়ে। এসব হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ।


প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত 
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ। 


আরও খবর

আগামীর দিন শুধুই সম্ভাবনার

১০ দিন ৩ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে



পরিবেশ দূষণ মানব ধ্বংসের প্রধান কারণ

১৯ দিন ১৫ ঘন্টা ১ মিনিট আগে