লালপুরে আবারো গুলিবর্ষণ, এলাকায় উত্তেজনা
লালপুরে আবারো গুলিবর্ষণ, এলাকায় উত্তেজনা
আবু তালেব, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে আবারো গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৮ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে অহিদের বাড়ি সংলগ্ন পদ্মার শাখা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
এতে ওই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ছিদ্দিক আলী মিষ্টু। তিনি বলেন, গোলাগুলির ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মমিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে পদ্মার শাখা নদীতে লাল রঙের একটি স্পিডবোট নিয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নদীর তীরে মোটরসাইকেল নিয়ে আসা অজ্ঞাত আরেক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।
লাল রঙের স্পিডবোট থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি নদীর তীরে নামতেই সাদা রঙের আরেকটি স্পিডবোটে ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন।
এ সময় তীরে থাকা উভয় ব্যক্তি দৌড়ে গ্রামের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যান। অপরদিকে সাদা রঙের স্পিডবোটের সদস্যরাও লাল স্পিডবোটটি নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে এখনো কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সোমবারের ঘটনা ছাড়াও গত ৫ মাসে লালপুরে ৫টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ জুলাই, ২০২৫ উপজেলার পদ্মার চরে দিয়ার বাহাদুরপুর এলাকায় কাকন বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সোহান হোসেন নামের এক রাখাল আহত হন। ২০ মে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গোঁসাই আশ্রমে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও ৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা।
১৮ এপ্রিল বিলমাড়িয়া গ্রামে মাদকের পাওনা টাকা নিয়ে গোলাম কিবরিয়া নামের এক মাদক সেবীকে মারধর ও প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মাদক ব্যবসায়ী মনি সরদার।
৩১শে মার্চ বালিতিতা রামকৃষ্ণপুর ঈদগাহ মাঠে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
৬ মার্চ ঈশ্বরদী ইউনিয়নের পালিদেহা গ্রামে মোজাহার হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে এলোপাতাড়ি গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় লালপুর থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের ও আসামিদের আটক করা হয়েছে।
তবে এখনো অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মমিনুজ্জামান বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।