দোরগড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা। প্রতিমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ মন্দিরগুলোতে এখন রঙতুলি আর আলোকসজ্জার কাজ চলছে। আগামী (২৮-০৯-২০২৫)তারিখে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে প্রতিমা উঠছে মন্দিরে।
দুর্গোৎসব উপলক্ষে এখন বাঘার বড় মার্কেটগুলো সরগরম। শুধু তৈরী পোশাক ও শাড়িই কেনা কাটা নয়,ভারি গহনাও কেনাকাটা চলছে পুরোদমে। সব মিলে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী সুজিত কুমার পান্ডে বাকু ও সাধারন সম্পাদক অপুর্ব সাহা জানান, এবার বাঘা উপজেলায় ৪৬ টি মন্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে । তবে কারীগর সংকটে গতবারের চেয়ে এ বছর ২টি মন্ডপ কম হয়েছে। এর মধ্যে নারায়নপুর পাল পাড়া কেন্দ্রীয় ও আড়ানীর ক্ষ্যাপা বাবার মন্দিরটি শীর্ষে থাকছে। প্রতিমা বির্সজনে পার্থক্য থাকলেও দেবী দুর্গার আগমন ধ্বনিতে উৎফুলল্ল হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব-আনন্দে বিভেদ থাকবেনা। সবাই এখন আগ্রহে অপেক্ষা করছেন দুর্গতনাশিনী দেবী দুর্গার আবির্ভাবের জন্য।
বাঘা উপজেলা হিন্দু,বদ্ধ, খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুজিত কুমার পান্ডে বাকু বলেন, ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার ছোয়ায় এখন চোখ ধাঁধানো লাইটিং,বিশাল গেট,আকর্ষণীয় জমকালো প্যান্ডেল করা হয়। আগে স্থায়ী পাঁকা মন্দির ছিলনা। একসময় পাটখড়ি,বাঁশের চাটাই বা টিন দিয়ে মন্দির তৈরী করা হতো। এখনকার বেশী পুজা হয় বারোয়ারি। ৫০/৬০ বছর আগেও এ উপজেলার বাঘার নারায়নপুর ও আড়ানীসহ ৮ থেকে ১০ টির বেশী পুজা হতো না। আগের আমলের পুজায় পবিত্রতা,শুচিতা,গাম্ভীর্য ও ভক্তি ছিল প্রধান। বড় বড় পন্ডিত ব্রাম্মন পুজা করতেন। বৈদিক সব নিয়ম কানুন মেনে পুজা হতো , আর এখন লাইটিং,পান্ডেল ও গেটের সাজ সজ্জাই প্রধান।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফম আছাদুজ্জামান জানান, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রতিটি পুঁজা মন্দিরে পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া ২/৩টি মন্দিরের দায়িত্বে থাকবেন ১জন করে সাব ইন্সপেক্টর। এছাড়া থাকবে র্যাব সদস্যদের টহল।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মি আক্তার বলেন, এবার বাঘায় ৪৬ টি মন্ডপে দূর্গাৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে হিন্দ-মুসলিম সম্পর্ক খুবই চমৎকার। সরকারিভাবে দূর্গাৎসবের বরাদ্দ পেলে প্রতিটি মন্দিরে বন্টন করে দেয়া হবে।