র‍্যাবের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যুবলীগ নেতাকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বহিষ্কার চান ছাত্রদল নেতা ! লালপুরে স্কাউটসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হতে পারে যে ৫ জেলায় আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা, কয়েক অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা ভুয়া ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা, কালকিনিতে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে জরিমানা সাংবাদিক পরিচয়ে গাড়ি চুরি চক্র! তিন পিকআপ উদ্ধার, আটক-১ ধামরাইয়ে জুমার নামাজ চলাকালে ইমামকে হেনস্তা নাঙ্গলকোটে প্রত্যয় সংগঠনের আর্থিক সহায়তা প্রদান আশাশুনির বাঁকড়ায় সড়কের গাছ কেটে আত্মসাৎ ও বনায়নের ক্ষতির প্রতিকার প্রার্থনা দিনাজপুরে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে চরমদুষর্ভোগে বিহারীপাড়ার প্রায় ৩০০পরিবার ‎রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত কুতুবদিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু সৌদি আরবের আগেই ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল দুই দেশ এক সপ্তাহ বন্ধ থাকবে দেশের সব আদালত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন পদত্যাগ করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান যুদ্ধে ইরাকের তেল-বাণিজ্যে ধস গোয়ালন্দে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে পোস্টারিং ও নৌ-মিছিল।। এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ‎সুন্দরবনে ফের অস্ত্রসহ দুই দস্যু গ্রেফতার, চার জেলে উদ্ধার

মাগুরাতে সাইকেল মেকানিক আর বেজির অদ্ভুত বন্ধুত্ব, দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সবাই


 সভ্যতার অগ্রগতিতে যখন বন্য প্রাণীদের অস্তিত্ব সংকট চলছে, তখন বেজির সঙ্গে মানুষের বন্ধুত্ব সত্যিই বিস্ময়কর ঘটনা।সাধারণত এসব প্রাণী মানুষকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের কুল্লিয়া গ্রামে ঘটেছে ব্যতিক্রম এক ঘটনা। ভ্যান-সাইকেল মেকানিক মো. সাত্তার মোল্লার সঙ্গে একটি বেজির বন্ধুত্ব এখন পুরো এলাকায় আলোচনার বিষয়।


প্রায় দুই বছর আগে গ্রামের পুকুরপাড়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বেজি ছানা দেখতে পান সাত্তার মোল্লা। প্রাণীটির প্রতি মায়া হয়। বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্থানীয়ভাবে পরিচর্যা করে ধীরে ধীরে সুস্থ করে তোলেন। তখন থেকেই প্রাণীটি তার সঙ্গে রয়েছে। 


সাত্তার মোল্লা বলেন, আমার বাড়ির পুকুর পাড়ে একটা বেজি ছানা  অসুস্থ অবস্থায় পেয়েছিলাম।তারপরে সেখান থেকে তুলে এনে প্রথমে খাচায় আটকে তাকে পুরোপুরি সুস্থ করেছি। ভেবেছিলাম বন্য প্রাণী বনেই থাকা ভালো তাই একাধিকবার ছেড়েও  দিয়েছি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বারবার সে ফিরে এসেছে আমার কাছেই। ভালোবেসে তার নাম রেখেছি লালু।লালু  নামে ডাকলেই সে যেখানেই থাকে সেখান  আমার কাছে ছুটে আসে।লালুর সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেছে।লালু আমাকে ছেড়ে যেতে পারে না আমিও লালুকে ছাড়তে পারি না।লালুর মায়ায় জাড়ায়ে গেছি।এখন বেজিটি পুরোপুরি বড় হয়ে গেছে। কিন্তু  মানুষের ক্ষতি করে না। বরং দিনের বেশির ভাগ সময় আমার দোকানের আশপাশে ঘুরে বেড়ায়।প্রতিদিন বাজার থেকে মাছ, মাংস, দুধ এবং কখনো কলা এনে বেজিটিকে খাওয়ানো হয়।আমি একজন সাধারণ সাইকেল মিস্ত্রি এই উপার্জনের  অর্থ দিয়েই আমার পরিবার চলে তারপরও  বেজিটার পেছেনে আমার অনেক অর্থ ও শ্রম ব্যয় হয়েছে।


শুরুর দিকে পরিবারের লোকজন বেজি পালনে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্রাণীটি হয়ত একসময় ক্ষতি করতে পারে। তবে এখন পরিবারও প্রাণীটির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আগে নিরুৎসাহিত করত। এখন তারাও খাওয়ায়, আদর করে বেজিটাকে।


এদিকে গ্রামের অনেক মানুষ প্রতিদিন সাত্তারের দোকানে ভিড় করছেন শুধু বেজিটিকে একনজর দেখার জন্য। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। কারও কারও বিস্ময়– বেজি সাধারণত হিংস্র প্রাণী, কিন্তু এই বেজি আচরণে শান্ত।


স্থানীয় বাসিন্দা রহিতোষ বিশ্বাস বলেন, কুল্লিয়া বাজারে মেকানিক ছাত্তার ভাই একটি বেজি পালন করেছেন। সেই বেজির সাথে তার খুব বন্ধুত্ব।এ রকম বিষয় আমরা আগে কখনো দেখি নাই।ছাত্তার ভাইয়ের সাথে বেজির বন্ধুত্ব দেখতে দূর দূরান্ত থেকে মানুষ ছাত্তার ভাইয়ের দাকানো ভীর জমাচ্ছেন।


আরেক বাসিন্দা সজিব হাসান বলেন,বেজি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে বা  কামড় দেয়। কিন্তু এই ছাত্তারের  যে লালু নামের  বেজিটা রয়েছে সে একেবারেই আলাদা। সাত্তারের সঙ্গে ওর সত্যিকারের বন্ধুত্ব হয়েছে।লালু বেজিটা আশেপাশের লোকজনসহ সত্তারের পারিবারেরও কোন ক্ষতি করেনি।মানুষের সাথে বন্য প্রাণীর বন্ধুত্বের বিষয়টা আমরা খুব সুন্দরভাবে  উপভোগ করি।আমাদের কাছে খুভ ভালো লাগে।


শ্রীপুরের বাসিন্দা জাবেদ মাহমুদ জানান,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে বেজি এবং মানুষের বন্ধুত্বের বিষয়টি জানতে পেরে এক নজর দেখার জন্য ছুটে এসেছেন কুল্লিয়া বাজারের ছাত্তারের দোকানে।তিনি বলেন, মানুষ আর প্রাণীর এই সম্পর্ক সত্যিই অদ্ভুত।বিষয়টা আমরা খুব ভালো লেগেছে।আমি খুব আনন্দ উপভোগ করেছি।তাদের ভালোবাসা অটুট থাকুক। 

এখন শুধু কুল্লিয়া গ্রামে নয়, আশপাশের গ্রামগুলোতেও সাত্তার আর তার বেজি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করছেন দোকানে।


মানুষ আর বন্যপ্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে নানা ভয় ও ভুল ধারণা আছে। কিন্তু কুল্লিয়া গ্রামের এই ঘটনার মাধ্যমে পরিষ্কার হয়েছে—ভালোবাসা আর যত্ন পেলে বন্যপ্রাণীও হয়ে উঠতে পারে মানুষের সঙ্গে।

Tag
আরও খবর