ইত্যাদি এবার প্রকৃতি ও প্রত্নতত্ত্বের জেলা নরসিংদীতে- প্রচার ৫ জুন শুক্রবার শান্তিগঞ্জে শোকের ছায়া, কুরিয়ার ভ্যান কেড়ে নিল শিশুর জীবন বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল অলিম্পিয়াডে প্রথম হলেন পবিপ্রবির রত্না রানি শ্যামনগরের স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবককে স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকরণ বিতরণ ‎মায়ের লাশে অবহেলা: মোংলা পোর্টের পদ হারালেন বিতর্কিত যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমান বেনাপোলে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়ি বহরে হামলা, আহত ৪ টিকিট কেটেও দেশে ফেরা হলো না প্রবাসী ফরহাদের ​নিউইয়র্কে ক্যান্সারের সঙ্গে এক বছর লড়ে নোয়াখালীর প্রবাসীর মৃত্যু, চিকিৎসায় ব্যয় ৩০ কোটি টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্তৃক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ও মুরগির বাচ্চা বিতরণ যশোর প্রেসক্লাবে সদস্যপদ নিয়ে চরম ক্ষোভ: ৭ দিনের আল্টিমেটাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ ঈদে গজনী ও মধুটিলায় পর্যটকদের ঢল, প্রকৃতির টানে মুখর গারো পাহাড়, জমজমাট দুই পর্যটন কেন্দ্র কয়রায় চলাচলের পথকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় থানায় মামলা অসহ্য গরম থেকে বাঁচতে যা করবেন রায়পুরে ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা শামীম গ্রেপ্তার কালিন্দী নদী পেরোতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজন সাতকানিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু জননেতা আসহাব উদ্দীন চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের মৃত্যুতে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর গভীর শোক প্রকাশ সাতক্ষীরার সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত অক্সিজেন না দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যু গরমে সুস্থ থাকার উপায়, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন

স্ত্রী ও ছেলেকে কোপানোর ঘটনায় মামলা করে বিপাকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কৃষক, প্রতিপক্ষের মামলায় পরিবারসহ বাড়ি ছাড়া

স্ত্রী ও ছেলেকে কোপিয়ে মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম করার ঘটনায় থানায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন হোসেন আলী (৫৫) নামে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দরিদ্র কৃষক। প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবারের সদস্যসহ তিনি এখন নিজেই বাড়ি ছাড়া। ফলে আইনগত প্রতিকারের বিপরীতে মারধরে গুরুতর আহত স্ত্রী ও ছেলের সুচিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি।

ভুক্তভোগী হোসেন আলীর বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের আগুনেরচর সুতারপাড়া গ্রামে। তাঁর অভিযোগ, আইনি সেবা না দিয়ে বিপরীতে তাঁকেসহ পরিবারের সদস্যদের আসামি দিয়ে ইসলামপুর থানায় জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। 

তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মামলাটি নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গ্রেপ্তার করা হলে, দুইপক্ষের আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হবে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক জমিতে একটি হাফ-বিল্ডিং নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন হোসেন আলী। প্রতিপক্ষ মকছেলসহ তাঁর ছেলে শহিদুল্লাহ ঘর উত্তোলনে মাঝে-মধ্যেই বাঁধা দিয়ে আসছে। গত ১৮ নভেম্বর সকাল ১০টায় বসতবাড়িতে ঢুকে শহিদুল্লাহর নেতৃত্বে হোসেনের স্ত্রী দুলনা বেগম এবং ছেলে বাবুকে কোপিয়ে গুরুতর আহত করে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে সপ্তাহখানেক তাঁদের চিকিৎসা করানো হয়। এঘটনায় ২৪ নভেম্বর হোসেন আলী বাদী হয়ে শহিদুল্লাহসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। 

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. এমদাদুল হক বলেন, 'জখমীদের ছবি রয়েছে। জখমীরা গুরুতর আহত। আইননুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

অপরদিকে, গত ১ ডিসেম্বর মামলার প্রধান আসামি শহিদুল্লাহকে বাদী বানিয়ে হোসেনসহ তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে আসামি দিয়ে জামিন অযোগ্য ৩২৬, ৩২৫ এবং ৩৭৯ ধারায় থানায় একটি মামলা রুজু হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিগণ চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু এবং অন্যের সম্পত্তি জবরদখলকারী। আসামিগণ দীর্ঘদিন ধরে শহিদুল্লাহর জমি বেদখলের পায়তারা করে আসছে। গত ১৭ নভেম্বর হোসেনসহ ভাড়াটিয়া লোকজন জোরপূর্বক জমিতে ঘর উঠাতে থাকে। এনিয়ে অভিযোগ দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ঘর উত্তোলন বন্ধ করে দেন ওসি। পুলিশ থানায় ফেয়ায় রাতভর তাঁরা আবারও ঘর উঠায়। বিষয়টি জানালে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন ওসি। ১৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় আসামিরা জমিতে ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করে। এতে বাঁধা দিলে শহিদুল্লাহসহ তাঁর বাবা এবং ছোট ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ আট হাজার টাকাসহ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন চুর করে নেয় হোসেনসহ তাঁর ছেলে, মেয়ে এবং স্ত্রী।

এমামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. কামাল হোসেন বলেন, 'তদন্ত চলছে। দেখা যাক কী হয়।'

জখমীরা গুরুতর আহত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পাশ কাটিয়ে তিনি বলেন, 'জখমীদের চিকিৎসা সনদ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

ভুক্তভোগী হোসেন আলী বলেন, 'আমার এক চোখ অন্ধ। আমি দরিদ্র মানুষ। আমার স্ত্রী ও ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপিয়েছে আসামিরা। স্ত্রী ও ছেলের মাথায় প্রায় ২৫টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তারা এখনো অসুস্থ। মামলা করেছি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে থানায় বড় মামলা রুজু করা হয়েছে। আমার মেয়ে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করে। তাকেও আসামি দিয়েছে। উকিল স্যারেরা বলেছেন, এটা জামিন অযোগ্য মামলা। তাই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসাও করাতে পারছি না।'

স্থানীয়রা বলেন, 'দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হোসেনের সঙ্গে  প্রতিপক্ষ অযথা ঝামেলা সৃষ্টি করছে। এনিয়ে একাধিক সালিস-বৈঠক হয়েছে। হোসেনের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার পড়লেই বুঝা যায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই মামলাটি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে।

মামলার বাদী শহিদুল্লাহ বলেন, 'আমি ভুক্তভোগী। তাই মামলা করেছি।'

ইসলামপুর থানার ওসি আ স ম আতিকুর রহমান বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মিথ্যে তথ্যেও ওসি মামলা নিতে পারে। এটা দোষের কিছু নয়। তবে গ্রেপ্তার যদি করতেই হয়, এক্ষেত্রে দুইপক্ষের আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।'


আরও খবর