মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, চাপা ক্ষোভ আর না বলা আকাঙ্ক্ষার পর—সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার মানুষ যেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে—এই আশাতেই এখন বুক বাঁধছে পুরো জনপদ। একসময় যে ভোট ছিল উৎসবের মতো, মানুষের অধিকার ও মত প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম, সেই ভোটকে ঘিরেই আবার ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য।
ভোরের আলো ফোটার আগেই চায়ের দোকানগুলোতে জমে উঠছে আলোচনা। ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কেউ বলছে, “এবার কি সত্যিই ভোট দিতে পারবো?” কেউ আবার স্মৃতিচারণ করছে আগের দিনের নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস, মিছিল, পোস্টার আর স্লোগানের কথা। হাটে-বাজারে, সড়কের মোড়ে, গ্রাম্য আড্ডায়—সবখানেই একটাই প্রসঙ্গ: নির্বাচন আর ভোটাধিকার।
দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার বেদনা এই এলাকার মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। তাই এখন সামান্য সম্ভাবনাতেই যেন নতুন আলো দেখছে তারা। বয়স্কদের চোখে ফুটে উঠছে পুরোনো দিনের স্মৃতি, আর তরুণদের চোখে দেখা যাচ্ছে প্রথমবার ভোট দেওয়ার উত্তেজনা। কেউ ভাবছে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে, কেউ বা ভালো নেতৃত্বের প্রত্যাশায় মন বাঁধছে।
সাতকানিয়া–লোহাগাড়ার এই জনপদে ভোট এখন আর শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রতীক। গণতন্ত্রের পথে আবার হাঁটার আকাঙ্ক্ষা, নিজের মত প্রকাশের সাহস—সব মিলিয়ে ভোটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অনন্য আবেগ। পুরো এলাকা জুড়ে এখন শুধুই অপেক্ষা—কবে আসবে সেই দিন, যেদিন মানুষ নির্বিঘ্নে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে, আর নতুন করে বলবে, “আমরাও এই দেশের নাগরিক, আমাদের কণ্ঠস্বর আছে।”
৪ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
৫ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে