চাঁদপুর–রায়পুর সড়কে আনন্দ বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৩ বাঁশখালীর বাহারছড়া সাগরপাড়ে প্রকৃতির মায়াবী সৌন্দর্য নির্মল বাতাস ও মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা শৈলকুপার ভাটই বাজারের আসাননগর তামাক ডিপোর বিপরীতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ দিনাজপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গবাদিপশু পালনে আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে অভিবাসন ফেরতদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও সনদ বিতরণ আক্কেলপুরে ৭২ কেজি ৯০০ গ্রাম কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার, আটক ৪ শার্শায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতিসহ আটক ২ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে কচুয়ায় সাংবাদিক নাছির উদ্দিন ও তার কন্যা শিশুকে মারধরের অভিযোগ ঝটিকা অভিযান থেকে উঠান বৈঠক-মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে সক্রিয় ওসি আব্দুর রহিম, এখন দায়িত্বে কে? নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু বাস ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূলপর্ব শুরু আজ আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস ১৯৮ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন বিশ্ববাজারেও বাড়ল তেলের দাম নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সরকারের মেয়াদে কুতু্বদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হবে-এমপি আলমগীর ফরিদ ‎মোংলা বন্দর ব্যবহারে পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণে বিকেএমইএ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত বৈঠক ‎ ‎বহু প্রার্থীর ভিড়ে সততার ব্যাকগ্রাউন্ড: বহুলীতে কেন লাইমলাইটে এস. এম. রঞ্জু নাগেশ্বরীতে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি শুরু: প্রথম দিনে বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ

ঝটিকা অভিযান থেকে উঠান বৈঠক-মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে সক্রিয় ওসি আব্দুর রহিম, এখন দায়িত্বে কে?



মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, উঠান বৈঠক ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনবাগে কাজ করে গেছেন সেনবাগ থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার। দায়িত্ব পালনকালে তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য।


তার দায়িত্বকালীন বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ছিল সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকায় ঝটিকা অভিযান, সন্দেহভাজন আড্ডাস্থল ও বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি।


সেনবাগে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের কার্যক্রমকে শুধু অভিযাননির্ভর না রেখে সামাজিক সচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক সভার মাধ্যমে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও তরুণদের মাদক ও কিশোর অপরাধের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ওসি আব্দুর রহিম সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল।


বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের সন্দেহজনক আড্ডা, মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া চলাচল এবং অপরাধপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলোতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।


মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনবাগের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্ভাব্য মাদক কেনাবেচার স্থান, আড্ডাস্থল, গ্যারেজ ও সন্দেহভাজন আস্তানায় পুলিশের তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

পুলিশের এমন তৎপরতার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হয়।


মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু পুলিশি অভিযান নয়, পরিবার ও সমাজের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভিন্ন মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক সভায় অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়।


একই সঙ্গে তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল অপরাধপ্রবণতা তৈরি হওয়ার আগেই তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা।


স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, দায়িত্ব পালনকালে মাদক ও কিশোর অপরাধের মতো বিষয়ে ওসি আব্দুর রহিম সরকার আপসহীন অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।


তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রমাণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পুলিশের প্রতিটি অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপের মূল্যায়ন হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট নথি ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে।


ওসি আব্দুর রহিম সরকারকে সেনবাগ থানা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তার মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদক ও কিশোর অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারাও মাদক, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখবেন। একই সঙ্গে জনসচেতনতা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে সেনবাগকে অপরাধমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।


সেনবাগবাসীর কাছে এখন মূল প্রশ্ন-মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যে ধারাবাহিক তৎপরতা তৈরি হয়েছিল, তা কি একইভাবে অব্যাহত থাকবে? স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও অপরাধ দমনের কার্যক্রম যেন থেমে না যায়।


আরও খবর