লাখাইয়ে আগাম জাতের আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
লাখাইয়ে আগাম জাতের আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
লাখাইয়ে এখন আগাম জাতের আলু চাষের ধুম পড়েছে। আমন ধান কাটার সাথে সাথে ফাঁকা হওয়া বিস্তীর্ণ জমিতে এখন চলছে স্বল্পমেয়াদি জাতের আলুর বীজ রোপণের ধুম। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে চলছে আলু চাষের বিশাল ধুম। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ জমিতে গোবর ও রাসায়নিক সার ছিটিয়ে বেড তৈরি করছেন। বিভিন্ন বাজার থেকে আনা আলুর বীজ সারিবদ্ধভাবে রোপণে ব্যস্ত শত শত কৃষক ও কৃষি শ্রমিক। শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমিতে যেন এক উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
পুর্ব বুল্লা গ্রামের কৃষক মকসুদ আলী বলেন, "আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরপরই আলুর জন্য জমি প্রস্তুত শুরু করেছি। বাজার থেকে বীজ আনা, হাল চাষ, সার দেওয়া—সব মিলিয়ে মাঠেই এখন আমাদের দিনরাত কাটছে। তবে এবার খরচ ভয়ানকভাবে বেড়েছে। সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি সবকিছুতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ক্ষের জমিতে আলু উৎপাদন করে ঘরে তুলতে এখন কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।"
একই ধরনের কথা জানালেন ইসরাইল মিয়া, তিনি বলেন, "আগাম আলু বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা যায় বলেই আমরা আগাম জাতের দিকে ঝুঁকছি। এই জাতগুলোর ফলনও ভালো, প্রতি ক্ষেরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মণ পর্যন্ত হয়। বাজারদর ভালো থাকলে এটি খুবই লাভজনক একটি ফসল।"
তবে খরচের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মশাদিয়ার কৃষক মন্নান মিয়া, তিনি বলেন, "এ বছর বীজ আলুর দাম কিছুটা কম থাকায় প্রথমে স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু সার ও কীটনাশকের দাম সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে। বাজারে যদি আলুর ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে আমাদের লোকসান গোনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।"
সিংহগ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী জলই মিয়া বলেন,আগেকার দিনে বেশি বেশি আলু চাষ হতো, কিন্তু সঠিক মূল্য না পাওয়ায় আলু চাষ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো,কিন্তু বর্তমানে আলুর মূল্য পাওয়ায় কৃষকরা আলু চাষের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন, আশা করছি দিন দিন আলু চাষে আগ্রহ বাড়বে।
এদিকে, আলু রোপণের ভরা মৌসুমে কাজের সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় খুশি স্থানীয় কৃষি শ্রমিকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয় শ্রমিক সিনজিল মিয়া বলেন, আলু লাগানোর এই সময়ে আমাদের হাতে প্রচুর কাজ থাকে, রোজগারও ভালো হয়। এই মৌসুমের আয় দিয়ে পরিবারের খরচ ভালোভাবে চলে যায়।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতে, "আমরা আগাম আলু চাষে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আলু চাষের জন্য পুরোপুরি অনুকূল রয়েছে। আশা করছি, এবার ফলন ভালো হবে এবং কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন।