দেশের জাতীয় ফল কাঠাল। গ্রামীণ জীবনের সংস্কৃতি, স্বাদ ও পুষ্টির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই ফল একসময় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার হাট-বাজারে বাইরের জেলা থেকে এসে জায়গা করে নিত। ঢাকার সাভারসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি কাঠাল আসত নিয়মিতভাবে।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। শিবচর এখন নিজস্ব উৎপাদিত কাঠাল দিয়েই স্থানীয় চাহিদা পূরণে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর কিছুদিন পরেই বৈশাখের শেষ ভাগ থেকে শুরু হয়ে জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে উপজেলার হাট-বাজারে ভরে উঠবে দেশি কাঠালের মৌসুম।
বৈশাখের শুরুতেই গাছে গাছে ছোট ছোট কাঠালের দেখা মিলছে। কৃষক ও গ্রামীণ বাসিন্দারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কাঠালের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশাখ শেষে জ্যৈষ্ঠ মাসে পুরোপুরি পাকা কাঠালে ভরে উঠবে শিবচরের গ্রাম-গঞ্জ, সড়কের ধারে বসতভিটা ও হাটবাজার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাণিজ্যিকভাবে বড় কোনো কাঠালের বাগান না থাকলেও উপজেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এক বা একাধিক কাঠালগাছ রয়েছে। বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, জমির আইল কিংবা পতিত জমিতে লাগানো এসব গাছ এখন নিয়মিত ফল দিচ্ছে। ফলে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি কাঠাল বিক্রি করে অনেকেই অতিরিক্ত আয় করছেন।
শিবচরের কাঁচাবাজারের এক বিক্রেতা জানান, “আগে আমাদের বাইরে থেকে কাঠাল আনতে হতো। এখন স্থানীয় গাছের কাঠাল দিয়েই বাজার ভরে যায়। এতে খরচও কমে গেছে, ক্রেতারাও টাটকা ফল পাচ্ছেন।”
উপজেলার চরগজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর ইসলাম মাদবর বলেন, “বৈশাখের শুরু মাত্র, জ্যৈষ্ঠ মাসে কাঠাল পাকতে শুরু করবে। এ বছর আম ও কাঠালের ফলন ভালো হয়েছে। আগে বাইরের কাঠাল কিনতে হতো, এখন নিজের গাছের কাঠালই খাই, আবার বাড়তি হলে অনেকে বিক্রিও করছে। এতে বাড়তি আয় হচ্ছে।”
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, শিবচরের মাটি, জলবায়ু ও মানুষের আগ্রহ মিলিয়ে ফলজ গাছের উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। তবে তিনি একে শুধু কৃষি উন্নয়ন নয়, সামাজিক পরিবর্তনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, শিবচরের অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে অবৈধ পথে ইউরোপ, বিশেষ করে ইতালির দিকে ঝুঁকছে। এসব তরুণদের স্থানীয়ভাবে আম, কাঠালসহ দেশীয় ফলের বাগান সৃষ্টিতে আগ্রহী হতে পরামর্শ দেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আগ্রহীদের সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠাল শুধু একটি ফল নয়; এটি গ্রামের অর্থনীতি, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির অংশ। কাঁচা কাঠাল সবজি হিসেবে এবং পাকা কাঠাল ফল হিসেবে সমান জনপ্রিয়। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও আঁশ—যা শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একসময় বাইরের জেলার কাঠালের ওপর নির্ভরশীল শিবচর এখন ধীরে ধীরে নিজস্ব উৎপাদনে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে। বৈশাখ শেষে জ্যৈষ্ঠ মাসে কাঠালের মৌসুম শুরু হলে এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বাড়ির আঙিনার সবুজ গাছগুলোই তাই এখন শুধু ফলের উৎস নয়—গ্রামীণ স্বনির্ভরতার এক নীরব শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে শিবচরে।
১ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২৩ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৩৮ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
১ দিন ৪ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
২ দিন ৬ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে