ডা: শারমিন সুলতানার দায়িত্বহীন চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে অকালে প্রাণ গেল সাদিয়া রহমান জেবা (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুর। মৃত জেবার স্বামী শুভ আহমেদ সানি জানান, "বাচ্চা গর্ভে আসার পর থেকেই ডা: শারমিন সুলতানার তত্ত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা প্রতিনিয়ত চলে আসছে। এর মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ আগে ডাক্তার রোগীর অবস্থা খারাপ জানালে এবং
শিশুর ভূমিষ্ঠ হবার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আশংকা প্রকাশ করলে আমি নিজেই রিস্ক হয়ে বন্ড সই করে দিতে চেয়েছি এবং বলেছি, আপনি সিজার করেন। কিছু হলে সেটা আমরা দায়ভার নিব। কিন্তু ডাক্তার তা করেন নি এবং তিনি আরও সময় অপেক্ষা করার জন্য পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, কিছুই হয় নাই, আরও কিছু সময় পরে সিজার করি"।
শুভ আহমেদ সানি আরও বলেন, হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকালে জেবা ভিষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে, আমরা ডাক্তার শারমিন সুলতানাকে ফোন দেই সকাল ৯ টারও পূর্বে কিন্তু এ সময় তার সহকারী জানান, ম্যাডাম ওটিতে আছে, তিনি পরে ফোন দিয়ে কথা বলবেন। অপেক্ষারত রোগীর অবস্থা ক্রমশই খারাপ হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১১ টার পরে ডাক্তার রোগীর অবস্থা জানতে চান এবং রোগীকে নিয়ে হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলেন। হেলথ রিসোর্টে ভর্তি করা হলেও ডাক্তার শারমিন অবহেলা করতে থাকেন জেবাকে। তিনি ফোনে ফোনেই যোগাযোগ রক্ষা করেন।
এসময় মৃত জেবার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ডাক্তারকে বলেছিলেন, যেভাবেই হোক জেবাকে যেন বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজনে রোগীর পরিবার আইসিইউ ব্যবস্থা প্রো একটিভ হসপিটালে কিংবা এলাইড হাসপাতালেও তারা রোগীকে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু ডাক্তার শারমিন তার নিজের সময়জ্ঞানহীনতা ও অবহেলায় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে কৌশলে নিজের দায় এড়ানোর জন্য ফোনে জানান, তিনি ঢাকা মেডিকেলে অবস্থান করছেন তাই রোগীকে যেন দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।
রোগীর পরিবার ডাক্তার শারমিনের কথায় আশ্বস্ত হয়ে এম্বুলেন্স করে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। পথিমধ্যে ডাক্তারের সাথে আরও কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। দুপুর ২ টা নাগাদ যখন রোগী হানিফ ফ্লাইওভার অতিক্রম করছিলেন এম্বুলেন্স করে তখন ডাক্তার শারমিন ফোন ধরেন এবং জানান, তিনি ঢাকা মেডিকেলে নেই। ডাক্তার শারমিন আরও বলেন, তিনি তখন মিটফোর্ড হাসপাতালে আছেন।
এসময় রোগীর পরিবার, রোগীকে মিটফোর্ড হাসপাতালেই ডাক্তার শারমিনের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসার জন্য পরামর্শ চাইলে শারমিন জানান, মিটফোর্ডে তিনি ডিউটি করছেন না এই মুহুর্তে। শারমিন জানান যে, তিনি ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগে ডা: ফৌজিয়াকে বলে দিয়েছেন ফোন করে, সে রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
মৃত জেবার স্বামী ও পরিবারের লোকজন জেবাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগ পৌছালে কর্তৃপক্ষ জানায়, ডা: ফৌজিয়া নামে কেউ ঐ মূহুর্তে ডিউটিতে নেই এবং এ নামে কোন ডাক্তারকে তারা চিনেনও না। ঢাকা মেডিকেলের গাইনি বিভাগ দ্রুত জেবার চিকিৎসা ব্যবস্থা করলেও চিকিৎসা শুরুর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই জেবা তার গর্ভের সন্তানসহ মারা যান।
জেবার স্বামী শুভ আহমেদ সানি বলেন, "ডা: শারমিনের সময়জ্ঞানহীনতা ও দায়সারা মনোভাব আজকে আমার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর কারণ। কেননা, ঢাকা মেডিকেলে রোগীকে যতটা দেরীতে নেয়া হয়েছে তাতে রোগীর জন্য কিছু করার মতো মেডিকেল কর্তৃপক্ষের সময় ছিলো না। যদি শারমিন সকালেই বলতেন ঢাকা মেডিকেলে আনতে তাহলে হয়তো আরও জেবার অবস্থা এতটা খারাপ হতো না এবং চিকিৎসা করানোর সুযোগ পাওয়া যেত। আর শারমিন যেহেতু ঢাকা মেডিকেলে নেই তাহলে তিনি কেনো বললেন আমি ঢাকা মেডিকেলে আছি। "
এই রিপোর্ট লিখার পূর্বে ডা: শারমিনের সাথে দেশচিত্রের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রোগীর অবস্থা খুবই ক্রিটিকাল হয়ে গিয়েছিল এবং এটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এরপর তার কেয়ার অফ এবং ডা: ফৌজিয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে ফৌজিয়ার নাম্বার চাইলে তিনি নাম্বার দিবেন বলে জানান। কিন্তু আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোনে তিনি কোন সাড়া দেননি এবং ডা: ফৌজিয়ার নাম্বারও পাঠান নি।
উল্লেখ্য যে, বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে মৃত জেবাকে ফেরত আনার পরে রাত ১০ টায় হাজিগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৬ দিন ২১ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১১ দিন ১৫ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
১২ দিন ১০ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১৫ দিন ৩ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১৮ দিন ২২ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
২৩ দিন ৪৩ মিনিট আগে
২৮ দিন ১৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৪০ দিন ৮ মিনিট আগে