শেরপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে সাংবাদিক মারুফুর রহমান ফকিরসহ (৪৭) ৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দের পর আমলী আদালতের বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মারুফ শহরের নারায়ণপুর মহল্লার বাসিন্দা ও সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তার সাথে একই অভিযোগে শহরের নারায়ণপুর এলাকার সুমন কুমার দে’র ছেলে সজীব কুমার দে (২৫) ও সদর উপজেলার বামনেরচর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে মো. জাহিদুল (২৫) নামে দুজনকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। মারুফ আনন্দ টিভির শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক জনকণ্ঠের অনলাইন ভার্সনের সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অপরাধের সাথে জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আদালতে রয়েছে চাঁদাবাজি, ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলা। এসব মামলায় সে হাজতও খেটেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে শহরের মধ্যশেরী এলাকার সৈয়দ আব্দুল্লাহেল হাদী ও সৈয়দা হেলেনা হাদী দম্পতির বাসার ভেতরের কক্ষে প্রবেশ করে আনন্দ টিভির জেলা প্রতিনিধি মারুফুর রহমান, সজীব কুমার দে ও জাহিদুল। ওইসময় তারা ওই বাসায় অবৈধ মালামাল রয়েছে মর্মে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ভিডিও ধারণ করেন এবং সৈয়দা হেলেনা হাদীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ারও ভয় দেখান। পরে হেলেনা হাদী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে মারুফসহ ওই ৩ জনকে আটক করেন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যান। ওই ঘটনায় সাংবাদিক মারুফকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এদিকে ওই ঘটনায় আটক ৩ জন ও নারায়ণপুর এলাকার মৃত লোটন মিয়ার ছেলে মো. তমাল (৩৮)সহ ৪ জনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন হেলেনা হাদী। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তমাল পলাতক রয়েছে। এদিকে সাংবাদিক মারুফের বিরুদ্ধে আগেও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ঝিনাইগাতীতে একটি নির্মাণাধীন বাসায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে আটক হন তিনি। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। এছাড়া রেজাউল করিম নামে শহরের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে তাকে হত্যা করে ফেলে রাখার চাঞ্চল্যকর মামলার সে এজাহারনামীয় আসামি। ইতোপূর্বে সে নিজ এলাকার এক কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাসে ছিল। এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ পেয়ে বুধবার বিকেলে ৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের ওই মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
২ দিন ২২ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে
৩ দিন ১৮ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৩ দিন ১৯ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৫ দিন ১৪ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৬ দিন ১৯ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে
৭ দিন ১৫ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৭ দিন ১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৭ দিন ১৮ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে