সিলেটের প্রবীণ আলেম, লেখক, গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদী ও তার স্ত্রীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ^নাথ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২২ জুলাই) মামলাটি দায়ের করেন মাওলানা জেহাদীর ছেলে মুন্সী খাইরুল ইসলাম ফাহিম। মামলা নং-০৬, তারিখ-২১/০৭/২০২৩ইং।
এদিকে মামলা দায়েরের ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মাওলানা জেহাদীর পরিবার। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদী ও তার বৃদ্ধা স্ত্রী সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর হয়ে নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। মাওলানা জেহাদীর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও তার স্ত্রীর অবস্থা এখনো সঙ্কটাপন্ন বলে জানা গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকবৃন্দ। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার ভেঙ্গে যাওয়া হাতটি চিরদিনের জন্য অকেজো হয়ে যেতে পারে। মাওলানা জেহাদী ও তার স্ত্রী হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর বিশ্বনাথ উপজেলার কান্দিগ্রামের তাদের প্রতিবেশী বদরুল ও তার তিন ভাই, পাশের ঘরে তার খালাতো ও মামাতো ভাই এবং খালু মিলে হঠাৎ মাওলানা জিহাদির ঘরে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দরজা জানালায় ভাংচুর চালায়। তখন মাওলানা আব্দুল হাই জেহাদী ঘর থেকে বেরিয়ে কিছু বুঝার আগেই সন্ত্রাসীরা তাদের হাতে থাকা রড, লোহার পাইপ দিয়ে উপুর্যপুরী আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এসময় মাওলানা জিহাদিকে হামলা থেকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা লোহার রড, কাঠের বর্গা, লোহার পাইপ ও বাউ দিয়ে তাকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে দরজার সামনে ফেলে দেয়। এতে মাওলানা জিহাদির মাথা, চোখ, বাম হাতের আঙ্গুল ও তল পেটে মারাত্মক জখম হয়। তার স্ত্রীর হাত ভেঙে গেছে, মাথার খুলিতে পেছন দিকে লোহার রডের বাড়ীতে মাথা ফেটে প্রচূর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
ঘটনার পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাওলানা জিহাদি ও তার স্ত্রীকে এ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় প্রথমে বিশ্বনাথ থানায় মৌখিক অভিযোগ করা হলেও শনিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তার ছেলে। পুলিশ অভিযোগটি মামলার নথিভুক্ত করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। এর আগে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে এবং ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে মাওলানা জিহাদি এবং তাঁর স্ত্রীর খোঁজ খবর নেয়।
এদিকে এলাকাবাসী প্রতিথযশা আলেম মাওলানা আব্দুল হাই জিহাদি ও তার স্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মাছ ধরার জন্য সামান্য জাল পাতানো নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে এমন জঘন্য সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে আব্দুল হাই জিহাদী ও তার স্ত্রীর উপর সন্ত্রাসী হামলার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠছে। দেশ ছাড়া বিদেশে থেকে অনেকেই মাওলানা জিহাদী ও তার স্ত্রীর উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানান।
এ ব্যপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী আতাউর রহমান বলেন, একজন মুরব্বী আলেম ও তার স্ত্রীর উপর এমন হামলা জঘন্য ঘটনা। আমি খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে গিয়ে তাদেরকে দেখে এসেছি। তাদের উপর আঘাতগুলো গুরুতর। আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলাটি নথিভুক্ত করেছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।
৬ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৭ দিন ১১ ঘন্টা ০ মিনিট আগে
৯ দিন ৩ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৩৯ মিনিট আগে
১১ দিন ৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে