এদেশেই আমার নাড়ী এবং
এদেশকেই আমি ভালবাসি
-----------শিল্পী হাজি কাছিম আলী
বাংলাদেশে আমার জন্ম এবং এদেশেই আমি বাল্য জীবন অতিক্রম করেছি। ১৯৬৯ সালে ১০ বৎসর বয়সে টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাশ দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া কালীন সময়ে পিতা মাতার লাল পাসপোর্টের সূত্রেই স্হায়ী ভাবে আমি বিলেতে গমণ করি। সেখানে গিয়ে স্কুলে ভর্তি হই এবং জিসি এস সি ( এস এস সি) পাশ করি। এরপর আর পড়ালেখা হলোনা। বাংলা লেখাপড়া শিখেছি বৃটেনে আমার বড় ভাইয়ের সহধর্মিণীর কাছে ঘরে বসে বসে।
আমার পিতা মরহুম মনফর আলী। মাতা সূর্যবান বিবি।
আমরা ৩ ভাই ১ বোন। সকলই যুক্তরাজ্যে স্হায়ী ভাবে বসবাস করছি। আমার সহধর্মিণী রোকিয়া খানম।
আমার ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে। সকলই স্ব স্ব ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত। আমি এবং আমার পরিবার একাধিকবার হজ্জ এবং ওমরা করেছি।
১৯৮৬ সালে আমার রচিত দশটি গান নিয়ে একটি ক্যাসেট এলব্যাম প্রকাশিত হয়েছে। গান গুলো সুর দিয়েছেন বিরহী শিল্পী কালা মিয়া এবং আমি নিজেও এই গান গুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেয়েছি। আমার নিজের রচিত আরোও দশটি গান রয়েছে অপ্রকাশিত। পরিবার ধার্মিক যার জন্য শিল্পী জগতে সামনে আর আগাতে পারেনি আমি।
বাল্য জীবনে আমি কাবাডি খেলায় ছিলাম পারদর্শি। আমার পিতা তখনকার সময়ে বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় একজন দক্ষ কাবাডি প্লেয়ার ছিলেন।
এদেশেই আমার জন্ম, এদেশেই আমার নাড়ী এবং এদেশকেই আমি ভালবাসি। আমরা প্রবাসীরা জন্মভূমির টানে নিঃস্বার্থ ভাবে স্বজাতির সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করি। কিন্তু দুঃখজনক শেষ পর্যন্ত অনেক বিলেত প্রবাসীদের ভিটা মাটি ও সম্পত্তি স্বার্থন্বেষী মহল কর্তৃক গ্রাস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ভাবে অনেক প্রবাসীদেরকে নির্যাযিত হতে হয়েছে!
বিশ্বনাথের বড় বড় গ্রামের সাথে ছোট ছোট গ্রাম গুলোকে এড করে কমিউনিটি পুলিশ ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকা থেকে অপরাধ মূলক কার্যক্রম কমে যেত।
কথা গুলো বলেছেন, বিশ্বনাথের টেংরার যুক্তরাজ্য প্রবাসী আলহাজ্ব শিল্পী কাছিম আলী ২৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়
প্রতিবেদকের সাথে আন্তরিক এক সাক্ষাৎকারে উপরোক্ত কথা গুলো তিনি ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকারে তার কাছে যে প্রশ্ন উত্তাপিত হয়েছিল তা নিম্নে হবুহু প্রকাশিত হলো।
প্রতিবেদক:
আপনার রচিত তিন চারটি গানের শিরোনাম উল্লেখ করলে খুশি হতাম।
কাছিম আলীঃ ১, হে দয়াবান ২, ডাকি দয়াল তুমারে ৩, সুখের সময় অনেক মিলেরে বন্ধু ৪, ভবের বাজার যাও, নামাজ পড়, রোজা রাখ ঈমানের নাও বাউ।
প্রতিবেদক:
আপনারা প্রবাস থেকে তো এদেশে না আসলে পারতেন।
কাছিম আলীঃ এদেশে আমার এবং আমার পিতার জন্ম, আমার দাদার জন্ম এবং এদেশেই আমার নাড়ী।
যদিও প্রবাসে বসবাস করি কিন্তু নাড়ির টানকে ভূলতে পারিনা এবং পারবনা।
প্রতিবেদক:
এদেশে আপনাদের কোনো
চাওয়া পাওয়া আছে কি?
কাছিম আলীঃ জন্মভূমির মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসা ও দোয়া পেতে চাই। আমাদের ধন সম্পত্তি যা আছে তা যেন কৌশলগত ভাবে লুন্ঠিত না হয়। আমাদেরকে যেন কোনো ভাবে হয়রানি না হয়।
প্রতিবেদক:
আপনারা জন্মভূমি মাটি ও মানুষের উন্নয়নে জন্য যে মহানুবতা দেখাচ্ছেন তা কি আপনাদের কর্তব্য?
কাছিম আলীঃ অবশ্যই কর্তব্য। যদিও প্রবাসে বসবাস করি কিন্তু এদেশ আমাদের এবং এদেশ আমাদের সকলের।
প্রতিবেদক:
এদেশকে আগামীতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।
কাছিম আলীঃ এদেশে আরোও বেশী উন্নয়ন, শিক্ষার দিকে আরোও অগ্রসর এবং হিংসা হানাহানি ভূলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশের জন্য কাজ করবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
প্রতিবেদক:
বাংলদেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
কাছিম আলীঃ এদেশে সঠিক গণতন্ত্রের চর্চা নেই। শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে দলীয় প্রধান থেকে পদত্যাগ করে অন্য নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে। এদেশের রাজনীতিবিদরা রাজনীতি বিষয়ের উপর স্টাডি করে রাজনীতির ময়দানে অংশ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কাজ কর্ম ছেড়ে শুধু রাজনীতি করা এবং শুধু রাজনৈতিক লিডারদের পিছনে পিছনে ঘুরাঘুরি এটা ঠিক নয়! রাজনীতি কোনো পেশা নয়।
জীবনে নিজের পেশা নিয়ে ঘুরতে হবে।
প্রতিবেদক:
বৃটেনের রাজনীতি প্রসঙ্গে কিছু বলুন।
কাছিম আলীঃ বৃটেনে কোনো দলীয় নেতা কোনো এমপি, মন্ত্রীর পিছনে পিছনে কেউ সময় কাটায় না। বৃটেন হচ্ছে বিশ্বের গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যে অন্যতম একটি রাষ্ট্র। বৃটেনের এমপি মন্ত্রী ও দলীয় নেতারা জনগণের পিছনে ঘুরতে চায়।
প্রতিবেদক:
আপনার ইন্তেকাল যদি বৃটেনে হয় তাহলে আপনার সমাধি( কাফন) কোন দেশে হবে বলে আপনার ইচ্ছা।
কাছিম আলীঃ যে দেশে মারা যাব সেই দেশেই হবে আমার সমাধি ( কাফন) ।
প্রতিবেদক: আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
কাছিম আলীঃ আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।
৫ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
৭ দিন ১০ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে
৯ দিন ২ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৩ মিনিট আগে