টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে এসে জানলেন তারা ভোটার না!
টাঙ্গাইলের মধুপুরের উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সদ্য সাবেক হওয়া মহিষমরা ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মোতালেব হোসেন আগের জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের মতো এবারো ভোট দিতে আসেন। তবে এবার এ সে জানলেন তিনি ভোটার না। ১৬ অক্টোবর রবিবার পর্যন্ত ভোটার হিসেবে নিজেকে দাবি করা শোলাকুড়ি ইউনিয়নের শেষ জুলাইয়ের নির্বাচনে হেরে যাওয়া আক্তার হোসেনের বেলায়ও একই অবস্থা। আবার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াকুব আলীও ভোটার না হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি। একইভাবে এ উপজেলার ১৫৯ ভোটারের মধ্যে ৭৪ জন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ায় ভোট দানে বিরত থাকতে হচ্ছে। বিষয়টি অনেককে বিব্রত করেছে। ১৭ অক্টোবর সোমবার মধুপুর উপজেলা পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের নির্বাচনে দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরুর দিকেই এমন পরিস্থিত নজরে এসেছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ উপজেলার সদস্য পদে খন্দকার শফিউদ্দিন মনি নির্বাচিত হওয়ায় শুধু সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন হচ্ছে। মধুপুর, ধনবাড়ী ও গোপালপুর মিলে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে সাবেক সদস্য মাহমুদা বেগম (হরিণ), আসমা (বল) ও ফাতেমাতুজ জহুরা করুণা (দোয়াত কলম) প্রতিদ্বন্দ্বিত করছেন। প্রিসাইডিং অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায় জানান, উপজেলা পরিষদের ৩ নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে মোট ১৫৯ জনপ্রতিনিধি ভোটার থাকার কথা। কিন্তু ১১টি ইউনিয়নে ধাপে ধাপে নির্বাচন হয়ে শেষ হয়েছে গত জুলাই মাসে। ১১টির মধ্যে ৩টির নির্বাচন গত ২০২১ সালের শেষদিকে হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনও হয়েছে নির্ধারিত সময়ে। ফলে উপজেলা, পৌরসভা ও ৩ ইউনিয়নের ৫৫ জনপ্রতিনিধি জেলা পরিষদের সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন আগেই। এর মধ্যে একজন সদস্য মারা গেছেন। কিন্তু বাকি ৮ ইউনিয়নে তিন ধাপের নির্বাচনে যারা পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সদস্য পদ বহাল থাকায় ৮ ইউনিয়নের মাত্র ২৯ জন ভোট দিতে পারছেন। অর্থাৎ সব মিলে ভোট দিতে পারছেন মাত্র ৮৪ জন। মধুপুর উপজেলার নির্বাচন অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মেজবাহ উদ্দিন জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বরের আগে ভোটার তালিকা হানাগাদ হয়েছে। স্থানীয় সরকার পরিষদের মেয়াদ ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি করা হয়েছে। মেয়াদ থাকায় মধুপুরের ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরে হয়েছে। ফলে নির্বাচিতরা ভোটার হতে পারেননি, বাদ পড়েছেন। অপর দিকে সাবেকরাও তালিকা থেকে বাদ পড়ে ভোটাধিকার হারিয়েছেন। এটি আইনগত দিক।