আশাশুনি
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুদের নাস্তার টাকা
আত্মসাত সহ নানান অভিযোগ উঠেছে। তিনি কিশোর কিশোরী ক্লাবের কোমলমতি শিশুদের
জন্য বরাদ্ধ নাস্তা থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানাগেছে।
তিনি তার অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে এ দূর্ণীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির ব্যাপারেও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে মোটা অংকের
অর্থ হাতিয়ে নেওয়া অব্যহত রয়েছে। তাকে
টাকা দিলে চাকুরী হবে, না দিলে তার কপালে জুটবে না চাকুরী। এছাড়া তিনি
আদালত হতে মামলা তদন্ত করার জন্য অভিযোগ পেলে কৌশলে বাদী ও বিবাদীর কাছ
থেকে অর্থ আদায় করা কওে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার হাত থেকে বাদ
পড়েনি বাহাদুর গ্রামের ঋষি সম্পদায়ের অসহায় ব্যক্তি। সূত্র জানায়, সারা
দেশের ন্যায় কিশোর কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম আশাশুনিতে প্রায় ৩বছর আগে শুরু
হয়। শুরু থেকে আশাশুনি উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৩৫টি শিশুর মধ্যে শিশুদের
জন্য প্রতিদিন প্রত্যেকের জন্য ৩৫টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে তিনি মাথা পিছু
শিশুদেও জন্য তার নিজস্ব লোক দিয়ে ১৫/২০টাকার মত খাবার দেন। অধিকাংশ দিন
কেন্দ্রে উপস্থিত থাকে ১৫/২০জন শিশু। এখান থেকে ২বছরে শুধু শিশুদের খাদ্য
থেকে তিনি ৩/৪লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কিশোর
কিশোরী ক্লাবের যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য একাধিকবার অর্থ বরাদ্ধ হলেও তার
একটি টাকাও উক্ত কাজে ব্যায় করেননি তিনি। যা তদন্ত করলে প্রমান মিলবে।
ইতিপূর্বে এই দূর্ণীতিবাজ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জাতীয় শোক
দিবসে ৪ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তিনি তা ব্যয় না করে পুরো টাকাটি
তার পকেটে ঠুকিয়েছেন। এমনকি আইজিএ প্রকল্পের ৩ রুম বিশিষ্ট ভাড়া প্রশিক্ষণ
কেন্দ্রে একটি রুম (টয়লেট সংযুক্ত) অফিসার যোগদান করার পর থেকে আবাসিক
হিসেবে ব্যবহার করেন। আর ২টি রুমে ১০০ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থী একটি টয়লেট
ব্যবহার করছে। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা যে রুমে বসবাস করেন তা সম্পূর্ণ আইজিএ
প্রকল্প থেকে ব্যয় করা হয়। তিনি আশাশুনিতে কোন কোয়াটার বা রুম ভাড়া না
নিয়েও দিনের পর দিন সরকারী অর্থায়নে ভাড়াকৃত রুম ব্যবহার করে যাচ্ছে, যা
দেখার কেউ নেই। এদিকে তিনি অধিকাংশ দিন অফিসে থাকেন না। যা তার অফিসে গেলেই
প্রমান মিলবে। তার দূর্ণীতির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে অর্থের
বিনিময়ে তিনি বিষয়টি ধামা চাপা দিয়ে থাকেন আর তা না হলে হাতে পায়ে ধরে
ক্ষমা প্রার্থনা করে রেহাই পান বলে এ প্রতিবেদককে জানান একাধিক ব্যক্তি।
কয়েক মাস আগে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭ মাসের বাচ্চার মাকে আইজিএ প্রকল্পে ভর্তি
করায় আশাশুনি গ্রামের কিলকিস খাতুন নামে এক মহিলা উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর
অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেখানেও তিনি হতে পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে সে
যাত্রায় রেহাই পান। তাকে ঘুষ না দেওয়ার কারণে খাজরায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
এক নারীকে চরিত্র হরণ করে তার বিরুদ্ধে উল্টো রিপোর্ট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ
করেন। গত অর্থ বছরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সাবেক মহিলা মেম্বারদের ১১টি
ক্লাবের জন্য ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং নতুন মেম্বারদের জন্য ৮৮ হাজার টাকা
বরাদ্দ আসে। সম্পূর্ণ বরাদ্দ গত ১৩ জুন নতুন মেম্বরদের জন্য মাথাপিছু
ব্যাংক থেকে ৭ হাজার টাকা উত্তোলন করে প্রদান করেন। কিন্তু পুরাতন
কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ১১টি ইউনিয়নের মেম্বারদের টাকা প্রদান করেননি। পুরাতন
১১টি ইউনিয়নের ১১ জন মহিলা মেম্বার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের
সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান কোন বরাদ্দ আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১১ জন মহিলা
মেম্বর জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপ-পরিচালক বরাবর টাকা পেতে
অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ৩
আগস্ট ১১ মেম্বরকে জনপ্রতি ১২,৬০০ টাকা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। দূর্ণীতিবাজ এ
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে মহিলা
বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক বরাবর একাধিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া
তার অধিনাস্ত কিশোর কিশোরী ক্লাবে কর্মরত শিক্ষকদের হুমকি ধামকির মধ্যে
রেখেছে। এমনকি কোন দিন কোন ইউনিয়ন থেকে কত প্যাকেট খাদ্য রক্ষিত থাকবে তার
নিয়ন্ত্রন করেন তিনি নিজেই। এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে পড়তে হয় চরম
বিপাকে। সম্প্রতি অসুস্থতা জনিত কারণে দরগাহপুরের কিশোর কিশোরী ক্লাবের
শিক্ষক রোকেয়া খাতুন একটি দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে তার বেতন থেকে
৫০০শত টাকা কর্তন করা হয়। বেতন শীটে স্বাক্ষর করার পরও তার থেকে কেন টাকা
কর্তন করা হলো জানতে চাইলে উক্ত শিক্ষককে হুমকি ধামকি দিয়ে অফিসের বাইরে
বের করে দেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষক। এবিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা
বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসরাম বলেন, বিগত ২বছরে শিশুদের জন্য খাদ্যেও
বরাদ্ধ ছিলো মাথা পিছু ৩০টাকা এবং তিনি সে টাকার পরিমানে নিয়ম অনুযায়ী
খাদ্য বিতরণ করেছেন। বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার
বিরুদ্ধে যে যেভাবে পারছে অভিযোগ করছে। অভিযোগের কোন শেষ নেই। এমতাবস্থায়
তার এ অসিম দূর্ণীতির বিরুদ্ধে সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে দুদক, জেলা
প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন
আশাশুনি উপজেলা নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ।