চড়চন্ডির প্রয়াত বন্ধু ছয়ফুল নেই ও কিছু না বলা কথা !!! ★★★★★
মানবাধিকার সাংবাদিক
- কবি এস.পি.সেবু
---------------------------------
২৫ অক্টোবর ২০২২ মঙ্গলবার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর ইউনিয়নের সাবেক ৮ নং ওর্য়াড ও বর্তমান বিশ্বনাথ পৌরসভা
এলাকার ৬ নং ওর্য়াডের চড়চন্ডি গ্রামে নিজ বাড়ীর
ঘরের সামনে প্রিয় বন্ধু ছয়ফুলকে বিদেশ ফেরত সন্ত্রাসী গং কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।
তাঁর বুক, মুখ,মাথায় প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের একাধিক দেশীয় অস্ত্রের
আঘাতে প্রচুর রক্তকরণের
ফলে সে ঘটনাস্থলে শহীদ হয়। ২৬ অক্টোবর যখন তাঁর লাশ দাফনের জন্য রিসিভ করতে বিশ্বনাথ থানা থেকে তাঁর পিতা আব্দুল মন্নান চাচার সাথে আমি স্টাফ সহ যাই তখন বন্ধু ছয়ফুলের ছোট ভাই আমার ক্লাসমেট ও বন্ধু ফখরুলকে আহত অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য প্রতিপক্ষের উল্টো মামলায় গ্রেফতার করে আরেক বেদনাদায়ক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
দুচোখে পানি ধরে রাখতে পারিনি, ডিগ্রেশন থেকে আরো গভীর ডিগ্রেশনে চলে যাচ্চি।।।
আসুন - জেনে নিন,
ছয়ফুল ও ফখরুল আমার
এতো আপন বন্ধুদের মধ্যে
অন্যতম কেনো ?
২০০২ সালে দৌলতপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যায়লয়ে
বর্তমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যায়লয় এন্ড কলেজ,
যখন আমি ষষ্ট শ্রেণীতে
ভর্তি হই তখন থেকেই
বন্ধু ছয়ফুল,বন্ধু ফখরুল
ও ওদের বোন মিসেস R
আপা ক্লাসমেট হিসাবে আমার দারুন ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী।
ততৎকালীন সময়ের একটা ঘঠনা উল্যেখ করছি :- মনিরুল ইসলাম সরকার নামে উক্ত স্কুলের
প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি,
অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও
জালিয়াতির অভিযোগে
তাকে বহিস্কারের দাবিতে
ঐ সময় আদর্শের স্কুল ক্রেপটেন ও ছাত্রসংসদের ভিপি বড়ভাই ও প্রিয় ছাত্রনেতা আব্দুল মুমিন রুহেল আহমদ কালুর নেতৃত্বে বিশাল গণআন্দোলন শুরু হয়।
আমি ঐ সময় ষষ্ট শ্রেণীর A শাখার ক্লাস ক্রেপটেন।
প্রতিদিন পোষ্টারিং,
পিকেটিং ও গণমিশিল হতো। বন্ধু ছয়ফুলকে সব
সময় ডানে বামে আমার পাসে ভরসার স্থল হিসাবে
সাহস ও প্রেরণা যোগাত।
তার পর ৭ম,৮ম,৯ম,১০ম শ্রেনীতে অধ্যায়ন করেছি একই সাথে।
২০০৭ সালে আমি ও সে দশম শ্রেণীর SSC পরীক্ষার্থী ছাত্র অবস্থায়
"বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির " সিলেট জেলা পশ্চিম শাখার একটা প্রোগ্রামে যোগ দেয়ার অপরাধে " ততৎকালীন
প্রধান শিক্ষক(মুনাফেক)
নিরঞ্জন কুমার দাশ ও নরকবাসী সহযোগীতা তিন মাষ্টার আমি সহ আমাদের ৫ জন বন্ধুকে
৩ মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয় অথচ " ছাত্রশিবির " তখন কোন
নিষিদ্ধ বা নিবন্ধন বাতিল কোন সংগঠন ছিলো না।
ওয়ান ইলেভেনের কুখ্যাত সরকারের চামচা প্রধান শিক্ষক বাবু নিরঞ্জন কুমার দাশরা যে হঠকারী সিদান্ত
নিয়ে আমাদের ছাত্রত্ব হরণ করেছিল তার ব্যাথা বা বেদনা আমি আজো কাঠিয়ে উঠতে পারিনি।
যাক সে কথা,,,
মেনেজিং কমিটির বিশেষ সুপারিশে জানুয়ারী ২০০৮ সালে পুনরায় SSC পরীক্ষায় অংশ নিতে মনোযোগী হই আমরা।
তখন ওয়ান ইলেভেন চলমান,আমাদের হৃদয়ের ধন, মহামুনি,মহামতি - সিলেটের এক কোটি মানুষের প্রাণের স্পন্দন সাবেক MP জননেতা দেশবন্ধু এম.ইলিয়াস আলী বীরদর্পে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
আমি তো আর ঘরে বসে থাকতে পারিনা। এ ছাড়া
তখন আদর্শ স্কুলের স্কুল ক্রেপটেন ও ছাত্রসংসদের ভিপি আমি। প্রিয় গ্রুফ লিডার কালুভাই আমাকে
নিয়মিত শ্লেডার দিতেন।
ওয়ান ইলেভের দুর্বিসহ মুহুর্তেই বন্ধু ছয়ফুল ও বন্ধু ফখরুল আমার পাসে অন্যান স্টাফ সহ
ছায়ার মতো লেগে থাকতো।
মুখে লেগে থাকতো সর্বদা সুন্দর হাসি, অত্যান্ত ভদ্র
ছিলো তাঁর স্বভাব,,কখনো ছয়ফুলকে আমি
রাগ করতে দেখিনি।।
কখনো আমার
অবাধ্য বা বিরুধীতা করেনি। ক্লাসে ১ম বেঞ্চ ও
২য় বেঞ্চে আমার বাঁ পাসে বসতো প্রায়ই। BSC স্যার
আর কৃষিপন্ডিত আবুল হোসেন স্যার আর ভাবী
রুনা আর্চায্য ম্যাডামের ক্লাস আমরা সেচ্চায় ওয়াকআউট করতাম।
কারণ এই তিন জোকারের
ক্লাস মানেই হাসি আর হাসি.......!!!
একদা এক মেয়ে বান্ধবী
আমাকে প্রশ্ন করেছিল
তোমার ঐ চুল স্টাইলিশ
বন্ধুটির নাম কি ?
বন্ধু ছয়ফুল সে কথা শুনে ফেলে - এবং হেসে হেসে মেয়েটিকে ইশারা করে তার ডান হাতের ইউনির্ফম অংশ তুলে শ্লোডার মাসুল দেখালো !!!
আমি বললাম নাম বললেনা হাত দেখালে, মানেটা কী ?
সে বললো বোকা এই দেখ.
আমি তো অভাক !!!
তার ডান হাতের শ্লোডার মাসুলে ছয়টি লাল কালি দ্বারা আর্ট করা গোলাপ ফুল আঁকা । একী তেলেসমতি।
মানে ছয়টি ফুল - অর্থ ছয়ফুল.....Good Name
এ তো অভিনব পদ্ধতি ভাই
কামেল করে দিলে।।।
লেখা লম্বা হয়ে যাচ্ছে,
আসুন আসল কথায় যাই-
স্কুলের অযোগ্য স্বৈরাচারী প্রধান শিক্ষক বাবু নিরঞ্জন কুমারের পদত্যাগ আন্দোলন শুরু করে কিছু শিক্ষার্থীরা, বরাবরের মতো নিয়মতান্ত্রিক এ
আন্দোলনকে আমার টিম সমর্থন জানিয়ে দেয়।
আমরা ঐক্যমতে প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতি চেয়ে নানান কর্মসূচী দিয়ে রোষানলে পড়ি স্কুল কতৃপক্ষের।
এর পর :- ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভের ধরা বাঁধা উপেক্ষা করে জননেতা এম.ইলিয়াস আলীর নির্বাচনী প্রচারণায় ধানের শীষ প্রতীকের মিশিলে যোগ দিলে প্রিয় শিক্ষালয় " দৌলতপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যায়ল এন্ড কলেজ " হতে আমাকে চিরস্থায়ী বহিস্কার করে কুখ্যাত প্রধান শিক্ষক বাবু নিরঞ্জন কুমার দাশ চক্র।
আমার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করার প্রতিবাদ
প্রথমেই জানায় প্রিয় বন্ধু
ছড়াকার ক্লিনটন দেব রিগ্যান, বন্ধু প্রয়াত ছয়ফুল,বন্ধু রুবেল,বন্ধু
ফখরুল, বন্ধু ইকবাল,বন্ধু
আলমগীর সহ অন্যানরা।
বিনিময়ে তাঁরাও সাসপেন্ড হন আদর্শ স্কুল থেকে, নির্দয় ভাবে আমার মতো
তাঁহাদের SSC রেজিষ্টেশন কার্ড ব্যান করে দেয় কতৃপক্ষ।
তারপর আমি হিজরত করি বিশঘর আনরপুরে
অবস্থিত প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রগতির শিক্ষক শ্রদ্ধেয়
"সাহিত্য পিতা" খ্যাত কবি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন স্যারের সুপারিশে
, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রিয় মুর্শিদ মাও.কবি
সিরাজুল ইসলাম সা'দ স্যারের তত্বাবধানে এবং
প্রগতি স্কুলের অভিভাবক সদস্য ও বিগফিল্ড ব্যবসায়ী
শ্রদ্ধেয় মরহুম আজিজুর রহমান ভাইয়ের আর্থিক
অনুদানে প্রগতি স্কুলে ভর্তি
হয়ে আমার অন্য মিশন শুরু......!!!
(উলেখ্য যে,তখন স্কুল ড্রেস,বই,নোট,প্রাইভেট কোচিং পড়া এবং খাতা পত্র শিক্ষার্থীরা নিজ খরচে কিনতে হতো, এখনকার মতো ফ্রি তে দেয়া হতো না)
আসুন আসল কথায় ফিরি
:-
বন্ধু ছয়ফুল সহ অন্যানরা
আমার সৎ আন্দোলনকে
সমর্থন করায় ছাত্রত্ব হারালো।
তারপর কেঁটে গেছে অনেক বছর।
চলছে ২০২২। জীবন জীবিকার তাগিদে ছয়ফুল ও ফখরুল অটোরিকশা CNG চালোতো হাবড়া টু বিশ্বনাথ, হাবড়া -দশপাইকা টু বিশ্বনাথ রোডে।
এই গত কয়েকদিন আগে বিশ্বনাথ নতুন বাজার অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ২০৯৭ (সাবেক ৭০৭) এর
ত্রিবার্ষিক ইলেকশন
আমার মনোনীত প্রার্থী
দৌলতপুরের আব্দুল আলী ভাইয়ের আম প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে পুরাতন হাবড়া বাজার গিয়েছিলাম।
হঠাৎ গণসংযোগকালে
ছয়ফুলের দেখা। জড়িয়ে ধরলো, বললো বন্ধু তোই
এত শুকিয়ে গেছিস, মুখে এত বড় বড় গোঁফ কেনো ? মাথার চুল তোর
এত বড় কোকড়া কেনো?
চোখ লাল কেনো, কিসের টেনশন, বিয়ে টিয়ে কি করবেনা না ? হাজারো প্রশ্ন।।
চল চা খাই, বসে কথা হবে
এই যে তার সাথে শেষ দেখা,শেষ কথা সবই স্মৃতি আজ।
গতকাল সে যখন সন্ত্রাসী
চক্রের হাতে শহীদ হয়,
তখন আমি JKS এর এক
যুবরাজের সাথে ইলেকশনী মিটিংয়ে ব্যাস্ত।
রাত ১১ টা ঘড়িতে......
হঠাৎ আমার ওস্তাদ সাংবাদিক আব্দুস সালাম
ফোন করে চড়চন্ডি গ্রামে
মারামারি ও ১ জন নিহত
হওয়ার সংবাদ দেন এবং
নাইট ডিউটি জয়েন করার
জন্য তিনি প্রস্তুুতি হতে বলেন। ৫ মিনিট পর তিনি
মোটর বাইক নিয়ে আমাকে গাড়িতে তুলে ঘঠনাস্থলে পৌছান।
গিয়ে আমি " পুরো থ " হয়ে গেলাম।
এর মধ্যে বিশ্বনাথ
থানার ওসি মহোদয় একাধিক দারোগা সাহেবগন সহ দুই দর্জন পুলিশ ফোর্স সহ হাজির।
আমার পায়ের তলায় তখনো মাটি শূন্য, বন্ধু ছয়ফুলের বাড়িতে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। চোখ বুলিয়ে দেখি রাস্তার মাটির চারদিকে লাল লাল
রক্তের স্তুপ। চেড়া শার্ট, গেঞ্জি,সেন্ডেল, চুড়ি,ঘড়ি,
আরো ব্যবহৃত জিনিস।
বন্ধু ছয়ফুলের পিতা, আব্দুল মন্নান চাচাকে
দেখা মাত্রই আমি ছুটে চাচাকে বললাম ছয়ফুল, ফখরুল কেমন আছে ?
চাচা বললেন তারা হাসপাতালো।
পাশ থেকে অচেনা একজন আমার হাত ধরে
টেনে কিছু দূরে নিয়ে বললো :- সাংবাদিক ভাই,
তোমার বন্ধু ছয়ফুল ঘটনাস্থলে মারা গেছে,
ফখরুল ও বদরুল ভাই মারাক্ত আহত, তার চাচীও
আহত।
ঐ অপরিচিত লোকটি আমারে আরো বললো
চাচারে" হুনাইওনা - ছয়ফুল ভাইর মরার কথা"
তাইন স্টক করিলিবা "
আমার চোখের পানি লুকানোর জন্য আমি পাশের ঘরের বারান্দার
অন্ধকারে গিয়ে বসে পড়লাম।
প্রিয় বন্ধু ছয়ফুল,স্বর্গে মহান আল্লাহ যেনো তোমাকে শহীদি মর্যাদা দিয়ে জান্নাতের উচ্চতম
মাকাম দান করেন।
সারা জীবন মানুষের উপকারী,সৎ,সহজ সরল,
হাস্যরসিক ও নিরহংকারী
প্রিয় বন্ধু পরপারে সুখে থেকো, মহান আল্লাহ তোমার সকল গোনাহ মাফ করে দিন, আমীন, এই প্রার্থনা করি।। তোমার মৃত্যুতে আমি ও আমরা
গভীর শোক ও সমবেনা জানাই।
তোমার খুনের বিচার হবে বন্ধু, আজ হোক বা কাল হোক। দুনিয়ার আদালতে বা শেষ বিচারে কোর্টে ।।
এ ছাড়া এও বলছি প্রিয় বন্ধু তোমার খুনিরা আইনের ফাঁক ফোঁকরে
যেনো পার না পায় সে লক্ষে আমরা কাজ করে যাবো। অবশ্যই তোমার খুনের ন্যায় বিচার আমরা পাবো, আমরা আশা করি ও বিশ্বাস রাখি মাননীয় আদালত তোমার খুনিদের
গ্রেফতার করে কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি দিবে।।
অপরাধীরা যেনো রেহাই না পায়, বিজ্ঞ প্রশাসনের
প্রতি এটাই আকুল আবেদন।
(লেখক : কবি এস.পি.সেবু
CM of Shopno Bangla Porishad )
৬ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১১ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৭ দিন ১১ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৯ দিন ৩ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
১১ দিন ৪ ঘন্টা ০ মিনিট আগে