চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সম্মেলনে ককটেল বিস্ফোরণ ও দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে গেছে। ৫ ডিসেম্বর সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের পৌর পার্কে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ্রের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মঞ্চের পেছনে বসাকে কেন্দ্র করে পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রলীগ-কৃষক লীগ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মঞ্চের ভেতরে ও বাহিরে ভাঙচুর চালান উত্তেজিত নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, পৌর মেয়র মোখলেসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ সময় সদ্য বিলুপ্ত জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম জেম ও পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহত হন। এ সময় সমাবেশ স্থলের আশপাশে ৫টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। আহত মিনহাজকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সম্মেলন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা অতিথিদের নিয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। এ সময় বেশ কিছু যুবকের হাতে ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়।
প্রত্যাক্ষদর্শী এক পথচারী জানান, বড় ইন্দারা মোড়ে পরপর ৫টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় দোকানদার, পথচারী ও যানবাহন চালকরা। বন্ধ হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়কটি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ জানান, পৌর মেয়র মুখলেসুর রহমান তার দলবল নিয়ে স্টেজে উঠে সিনক্রিয়েট শুরু করেন। তাদের বসার জায়গা নেই, এই নেই, সেই নেই বলে গণ্ডগোল শুরু করে দেন। একপর্যায়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ করে এখন সব দোষ অন্যের ঘাড়ের চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রকাশ্য এসব ঘটালেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুসফিকুর রহমান টিটো বলেন, দীর্ঘ আট বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল-মঞ্চে কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও কার্ডধারীরা বসবেন। সেখানে একজন জনপ্রতিনিধি তার লোকজনকে মঞ্চে উঠিয়ে সম্মেলন বানচালের চেষ্টা করেন। এতে কৃষক লীগের দায়িত্বশীল নেতা ও পুলিশ বাধা দিতে গেলে গণ্ডগোল বাধে। এতে কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিকালে সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের নেতাদের আহবানে মিটিংয়ে আসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জিয়াউর রহমান আরমান। এ সময় সার্কিট হাউস প্রবেশমুখে আসামাত্রই পুলিশের সামনেই বেধড়ক মারধর শুরু করে সন্ত্রাসীরা।
এদিকে সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সার্কিট হাউসে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে জেলা কৃষক লীগের চার সদস্যের নতুন জেলা কমিটির নাম ঘোষণ করা হয়। সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ বুকল, সহ-সভাপতি মুসফিকুর রহমান টিটো, সাধারণর সম্পাদক আল কামাল ইব্রাহিম রতন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুল হক টুটুলের নাম ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন সাংবাকিদের প্রশ্নের উত্তরে জানান, দলে অনুপ্রবেশকারীরা সম্মেলনস্থলে এবং এখানে (সার্কিট হাউসে) এসব ঘটিয়েছে। আমাদের নিজেদের মধ্যে যেহেতু প্রতিযোগিতা ছিল সেহেতু তারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চেয়েছিল। সেটা তারা করতে পারেনি, আমাদের কর্মীরা সেটি রুখে দিয়েছেন।
অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা জামায়াত-বিএনপি থেকে আমাদের দলে ভিড়তে চায় তারাই অনুপ্রবেশকারী।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, সম্মেলনস্থলে দুই গ্রুপে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কোথাও কোনো ঝামেলা নেই।
তিনি দাবি করেন, সম্মেলনের আশপাশে ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া যায়নি। তবে পটকার মতো শব্দ পাওয়া গেছে। কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরের কথা স্বীকার করে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
৫২৯ দিন ২৩ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
৫৮০ দিন ৮ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৬০৯ দিন ১০ ঘন্টা ২২ মিনিট আগে
৬০৯ দিন ১০ ঘন্টা ২৭ মিনিট আগে
৬১৬ দিন ১২ ঘন্টা ২ মিনিট আগে
৬৩৮ দিন ২২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৬৪১ দিন ৩২ মিনিট আগে
৭০৯ দিন ১৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে