হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢল ও কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে ব্রহ্মপুত্রের পানি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। দিন দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়, নদীর তীর উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে প্রতি নিয়ত। এছাড়াও সমতল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাম ডুবে যাচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক হারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৬ টায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার ১৫০ হেক্টর পাটক্ষেত, আউশ ধান ২০ হেক্টর ও আমন ধানের বীজতলা ২৫ হেক্টরসহ শাকসবজি ক্ষেত প্রায় ২০ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কুমার প্রণয় বিষাণ দাস।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার অষ্টমির চর, নয়ারহাট, চিলমারী ইউনিয়ন, গুরাতি পাড়া, পুটিমারী, হাটিথানা, রমনা মাঝিপাড়া, খোর্দবাশপাতারী, গয়নার পটলসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় এ উপজেলায় প্রায় ১২হাজার মানুষসহ, কয়েক হাজার গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগী পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব পানি বন্দী মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন।
অপর দিকে পানি বাড়ায় উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন রোধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের প্রায় ২০০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তবে নদী থেকে বালু উত্তোলনকেই প্রধান ভাবে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে নয়ারহাট ইউনিয়নের, আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মাহফুজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার নয়ারহাট ইউনিয়নের এখন পর্যন্ত ২৭টি পরিবার ও একটি মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এবং নয়ার হাট ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বজরা দিয়ার খাতা গ্রামের, আঃ রশিদ মেম্বারের বাড়ির যাওয়ার রাস্তাটিও ভেঙ্গে গিয়েছে এবং (এমফোরসি চরের হাট) নামক ১টি বাজার, ২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও একটি ব্রিজ হয়তো ১-২ দিনের মধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে কেউ খোঁজ-খবর নিতে আসেনি, এমন কি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বা ইউএনও স্যার কেউ পরিদর্শন করতে আসেনি। আর কোন শুকনো খাবার ও এখন পর্যন্ত আমাদের চরে বিতরণ করা হয়নি বলে যান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিনহাজুল ইসলাম জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্লাবিত ইউনিয়ন গুলোতে (প্রতি ইউনিয়নে) ২ মে. টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে ভাঙ্গন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রুকুনুজ্জামান শাহীন জানান, আজকে চিলমারী ইউনিয়নে গিয়েছিলাম, পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে যাওয়া হবে ইনশাল্লাহ।