মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়ীয়া-মহাম্মদপুর হাজী ভরষ উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ২শত শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন কর্তনের টাকা শিক্ষকের পকেটে। হাজী ভরষ উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ২০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক বেতন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
সরোজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০ টাকা, ৯ম ও ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা হারে প্রতি মাসে বেতন নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানায়, সকল ছাত্র-ছাত্রীর মতোই আমাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে বেতন নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। যারা উপবৃত্তি পায়, তাদের বেতন নেওয়া যাবে না এমন কথা কখনো শুনিনি। যেকারণে অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আমরাও বেতন দিয়ে থাকি।
হাজী ভরষ উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, আমি কয়েক মাস আগে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। যে সকল শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পায় তাদের কাছ থেকে বেতন নেওয়া যাবে না এমনটি আমার জানা ছিল না। যেহেতু বেতন নিয়ে ফেলেছি, এই টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব না শিক্ষার্থীদের সাথে পরীক্ষার ফি রেজিস্ট্রেশন চার্জের সময় সমন্বয় করে নিব। এভাবে কি সমন্বয় করা সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি!
হাজী ভরষ উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ডা. এ এস এম নাজমুল হক সাগর মুঠোফোনে জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর হাবিবুর বাশার জানান, যে সকল শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির আওতায় রয়েছে তাদের কাছে থেকে বেতন নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বরং সেই সকল শিক্ষার্থীর জন্য সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠানকে ৬ষ্ঠ-৮ম শ্রেণী পর্যন্ত ৩৫টাকা ও ৯ম-১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। সকল শিক্ষার্থীর জন্য সেশন চার্জ ও পরীক্ষার্থীর বাধ্যতামূলক। উপবৃত্তিপ্রাপ্ত কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকগণ যদি মাসিক বেতন নেন আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অফিশিয়ালি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উল্লেখ্যঃ হাজী ভরষ উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির আওতায় আছে।