মেহেরপুরে এবার আমন ধানে ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন কেবল ধান আর ধান। হেমন্তের সকালে সে ধানের ডগায় শোভা পাচ্ছে মুক্তার মতো ঝলমলে শিশির বিন্দু। কোথাও কোথাও এরই মধ্যে সবুজ ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে। ক'দিন পর সে পাকা ধান ঘরে উঠবে। আবার কোথাও কোথাও আগাম ধান পাকায় কৃষকরা মেতে উঠেছেন ধান কাটার উৎসবে। অথচ ছিত্রাংসহ নানা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এবার শঙ্কা ছিল কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ায়। তবে কৃষক ও কৃষি অফিস বলছে, বরাবরের মতো এবারও ভালো ফলনই হয়েছে।
মেহেরপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৭‘শ হেক্টর, গাংনী উপজেলায় ১৩ হাজার ৬'শ ১০ হেক্টর এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৩ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের মাঝে দেওয়া হয়েছে কৃষি প্রণোদনা সহায়তা।
সাধারণতঃ ধান গাছে মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, খাটসুর ঘাস ফড়িং ও পাতা ফড়িং আক্রমণ করে। পোকা খাদক পাখি জমিতে পুঁতে রাখা পার্চিংয়ে বসে এসব ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। ফলে এর মাধ্যমে অতি সহজেই ক্ষতিকর পোকা দমন করা সম্ভব হয় এবং নিরাপদ হয় ফসল। তাছাড়া ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন হলে পাচিংয়ের সাথে পলিথিন এবং কলার ডাটা ধানের সারিতে রাখলে ভয়ে ইঁদুর পালিয়ে যায়। কৃষকরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে আমনের ভালো ফলনের জন্য পরামর্শ নিয়েছেন।
গাংনী উপজেলার আজান গ্রামের কৃষক ছমির উদ্দিন জানান, এ বছর আমার জমিতে ভালো ধান হয়েছে। আমাদের ব্লকের কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী অধিকাংশ ক্ষেতে একাধিক বাঁশের কঞ্চি ও গাছের ডাল পুতে দিয়েছেন, ফলে ক্ষতিকারক পোকা কম হয়েছে। ফলে ফলন খুব ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
পাঙ্গাশী গ্রামের সাহাদত হোসেন জানান, এ বছরে এখন পর্যন্ত ধানের ক্ষেতে কোনো রোগ বালাই দেখা যায়নি। ফসল ঘরে তোলার বাকী সময় প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এ বছর সম্ভাবনাময় আশানুরূপ ফলন হবে।
হিন্দা গ্রামের আক্কাস আলী জানান, শেষ মুহুর্তে ভালো ফলনের জন্য পোকামাক ও ইঁদুরের আক্রমণ থেকে ধান রক্ষা করতে দেখভাল করতে হচ্ছে। তবে কেউ কেউ ধানের পোকা-মাকড় প্রতিরোধ করতে কীটনাশকও স্প্রে করছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলার খোকশা গ্রামের তপন হোসেন জানান, এবছরে ধানে পোকার আক্রমণ তেমন একটা নেই। ধানের বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকও খুশি। তবে সার, বীজ, সেচ ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আবাদ করতে কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে কৃষকদের।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটা ক্ষেতের আমন ধান বাতাসে দোল খাচ্ছে। আর সেই সাথে দুলছে আমন চাষীদের স্বপ্ন। কৃষকরা আশাবাদী আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমন ধানে তারা আশানুরূপ ফলন ও ন্যায্য মূল্য পাবেন।
৮৩ দিন ১৩ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৯৬ দিন ১৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৯৭ দিন ১১ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৯৯ দিন ১৬ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৯৯ দিন ১৬ ঘন্টা ৪৪ মিনিট আগে
৯৯ দিন ১৭ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৩২৫ দিন ১১ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৩৭১ দিন ১৩ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে