রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তিনি দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে সচিবের সঙ্গে ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: সাইফুল ইসলাম , রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো: আজিজুর রহমান , বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ তরিকুল আলম, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপপরিচালক, উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ, গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামসুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার, উপসহকারী কৃষি অফিসারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষকরা।
ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান গোগ্রাম ইউনিয়নের লালাদিঘি এলাকায় ২০৬ বিঘা জমিতে ‘খামারি এপস’ এর মাধ্যমে সার সুপারিশ বাস্তবায়নের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সমস্যার খোঁজখবর নেন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্দেশে সচিব বলেন, “সরকার কৃষকদের সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সঠিক সময়ে সঠিক সার ব্যবহার, উন্নতমানের বীজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘খামারি এপস’ কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল সমাধান, যা সার প্রয়োগে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে।
পরে তিনি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা-প্রবণ এলাকায় সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিএমডিএর চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন সচিব।
সচিবের এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকরা জানান, মাঠ পর্যায়ে সচিব নিজে এসে সমস্যার কথা শোনায় তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমরা আগে ধারণা করতাম সরকারি কর্মকর্তারা শুধু দফতরে বসেই কাজ করেন। কিন্তু সচিব নিজে মাঠে এসে আমাদের কথা শুনছেন—এটা সত্যিই আনন্দের। এতে আমরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আরও আগ্রহী হবো।
পরিদর্শন শেষে সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কৃষিকে টেকসই ও আধুনিকায়ন করা। তিনি বলেন, “কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, এটি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। তাই কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে আমরা কাজ করছি, যাতে কৃষকের পরিশ্রমে আরও বেশি ফসল ঘরে তোলা যায়।”