জামালপুর দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষগ্রহণসহ রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তকাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম মোহাম্মদ হাবিবুল্লা। তিনি বর্তমানে অন্যত্র বদলি হয়েছেন।
আগামীকাল বুধবার (২০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন কান্তি চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এসআই হাবিবুল্লাহর হয়রানির শিকার হয়ে গত ২৮ জুলাই আইনি প্রতিকার চেয়ে জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে দেওয়ানগঞ্জর চর আমখাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বকুল ইসলাম।
অভিযোগকারী তাঁর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, চর আমখাওয়া ইউনিয়নস্থ মিতালী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকা অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল রাতে মিতালী উচ্চবিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে ১২টি ল্যাপটপ চুরি হয়। এনিয়ে ১৭ এপ্রিল অজ্ঞাত আসামি দিয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে বাদী দিয়ে মামলা করান বকুল মেম্বার। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ।
২২ এপ্রিল তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস, তদন্ত ওসি হাবিব সাত্তীর সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বিদ্যালয়ে এসে চোর সনাক্তে ৬ হাজার টাকা ব্যয় হওয়ার কথা বলে বকুল মেম্বারের কাছে ১০ হাজার টাকা নেন।
এর দুইদিন পর চোরদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুল্লাহ বকুল মেম্বারকে জানায়, মামলার বাদী প্রধান শিক্ষক নিজেই চুরির সঙ্গে জড়িত। সেকারণেই প্রধান শিক্ষককেই গ্রেপ্তার করতে হবে। এই কথা বলে বকুল মেম্বারকে হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে ভিত্তিহীন মামলায় প্রধান শিক্ষককে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন তিনি। এক পর্যায়ে অনেকটাই বাধ্য হয়েই বকুল মেম্বার এসআই হাবিবুল্লাহকে ৪০ হাজার টাকা দেন। এছাড়া চোরকে গ্রেপ্তার করতে খরচ বাবদ এসআই হাবিবুল্লাহ দুই দফায় বকুল মেম্বারের কাছে বিকাশ অ্যাকাউন্টে দুদফায় ২০ হাজার নেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা বলে মামলার বাদী প্রধান শিক্ষককে দিয়ে গত ২ মে সকাল ৯ টার দিকে মামলার এজাহার 'নামনীয় ২ নম্বর সাক্ষী ও বিদ্যালয়টির নৈশপ্রহরী মো. লিটন মিয়া (৩০)-কে বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে থানায় যায় এসআই হাবিবুল্লাহ। থানায় লিটন মিয়াকে ব্যাপক নির্যাতন করে তাকে দিয়ে বলানোর চেষ্ঠা করানো হয় যে, ল্যাপটপগুলো প্রধান শিক্ষক এবং বকুল মেম্বার নিজেই চুরি করেছে। পরদিন ৩ মে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয় লিটন মিয়াকে। ১৩ মে লিটন মিয়াকে ২ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়। রিমান্ডে লিটনকে ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এসআই হাবিবুল্লাহ। পুলিশী নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে অনেকটাই বাধ্য করে বকুল মেম্বারের কাছে এসআই হাবিবুল্লাহ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। এসআই হাবিবুল্লাহর হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে ্াদীকে দিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তের আবেদন করান বকুল মেম্বার। আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পান সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের এসআই আবু রায়হান।
ভুক্তভোগী বকুল ইসলাম মেম্বার বলেন, 'আগামীকাল স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য আমাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।'
দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন কান্তি চৌধুরী বলেন, এসআই হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ করতে অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের আমার কার্যালয়ে আসার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর 'দেওয়ানগঞ্জে এসআইয়ের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ' শিরোনামে আজকের পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে একটি খবর প্রকাশ হলে অভিযুক্ত এসআই হাবিবুল্লাহ বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেন কর্তৃপক্ষ।
৪ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৪ দিন ১০ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
১২ দিন ৪ ঘন্টা ২৯ মিনিট আগে
১৩ দিন ৫ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৫ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১৩ দিন ১৫ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১৬ দিন ১৮ ঘন্টা ৫৭ মিনিট আগে