জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে এশার নামাজ আদায়ের সময় মসজিদের সামনে পটকা ফোটানোর প্রতিবাদ করার জের ধরে দুই জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
শনিবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের বারইল নলপুকুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই জনকে কুপিয়ে জখমের এ ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতায় রুপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত দুই জনকে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক চেয়ারম্যান প্রার্থী তাঁর কর্মী-সমর্থক দাবি করেছেন।
তবে পুলিশ বলছে, মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে মারধরের জেরে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ঘটনাটি নির্বাচনী সংহিসতার রুপ দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে আগামী ৮ মে এই উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী।
আহতরা ব্যক্তিরা হলেন, পলাশ সাখিদার (৩৫) ও নাসির হোসেন (৩০)। তাঁরা বারইল নলপুকুর গ্রামের বাসিন্দা। পলাশ সাখিদার পেশায় একজন সিএনজিচালক। তাঁকে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। পলাশ সাখিদার ও নাসির হোসেন ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের কর্মী সমর্থক আর মারধরের সাথে জড়িতরা হলেন আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী তাইফুল ইসলাম তালুকদারের সমর্থক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারইল নলপুকুর গ্রামর মসজিদে শনিবার রাতে এশার নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লীরা। এসময় ওই গ্রামের বাসিন্দা নীরব হোসেনসহ কয়েক জন তরুণ ভ্যানযোগে যাওয়ার সময় পটকা ফোটান। এতে গ্রামের পলাশ সাখিদার তাঁদের উপন চড়াও হন। একপর্যায়ে পলাশ সাখিদার নীরব হোসেনকে মারপিট করেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে নীববসহ ১০-১২ জনকে নিয়ে পলাশ সাখিদারের বাড়িতে যান। সেখানে পলাশ সাখিদার ও নাসিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে আহত দুই জনকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব দুলাল মিয়া সরদার বলেন, আহত দুই জন আমার কর্মী সমর্থক। তাঁদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছি। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে জানতে অপর এক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য তাইফুল ইসলাম তালুকদারের মুঠোফোনে কল করা হলে অন্য একজন রিসিভ করেন। তিনি বলেন, তাইফুল ইসলাম ব্যস্ত আছেন। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলবেন, বলেই মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।
তাইফুল ইসলাম তালুকদারের কর্মী মামদপুর ইউপির সাবেক আব্দুর রশিদ বকুল বলেন, পটকা ফোটানো জেরে আগে আমাদের ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। যাঁরা আমাদের ছেলেদের আগে মারধর করেছেন তাঁরা চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলাল মিয়া সরদারের কর্মী-সমর্থক।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আহত দুই জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। নামাজের সময় পটকা ফোটানো নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনাটি দুই পক্ষই নির্বাচনী সহিংসতা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। আহত দুই জন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এঘটনায় থানায় কোন পক্ষই মামলা করেননি।
৮ দিন ৮ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
৯ দিন ১০ ঘন্টা ২১ মিনিট আগে
১১ দিন ৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে
১৩ দিন ১০ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
১৬ দিন ৪ ঘন্টা ৫৬ মিনিট আগে
১৯ দিন ৮ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে
২৩ দিন ১৪ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২৭ দিন ৮ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে