মুন্সি শাহাব উদ্দিন ( চট্টগ্রাম -লোহাগাড়া) :-শ্রাবণের শেষের দিকে থেমে থেমে হল প্রচুর বৃষ্টিপাত। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় লোহাগাড়ায়ও হল ভারী বর্ষন। এই ভারী বর্ষনে প্লাবিত হল লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকা। প্রতি বর্ষা মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে লোহাগাড়া -সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ফলে পানি বন্দি হয় হাজার হাজার মানুষ। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে তাদের। বন্যার কারণে স্থানীয় দোকানিরা মালামাল ক্রয় বিক্রয় করতে অক্ষম হয়। যার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে মানুষের হিমশিম খেতে হয়।বাড়ীতে পানি ঢুকার কারণে চুলায় আগুন জ্বালাতে পারে না সাধারণ মানুষ। তাতে রান্না করে খাওয়া বড়ই ভোগান্তিতে পরতে হয় মানুষের। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনে প্রচুর বৃষ্টি পাতের কারণে লোহাগাড়া উপজেলার বেশ কিছু এলাকার মানুষ পানিবন্দি ও ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমিরাবাদ, চরম্বা,পদুয়া,পুটিবিলা সহ বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। চরম্বা এলাকায় পানি ঢুকে কয়েকটি মাটির কাচা বাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে। তারা এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। গত রবিবার চরম্বা তেলিবিলা মুন্সি মন্টু দাশের মাটির কাচা বাড়িটা পানি ঢুকার কারনে ভেঙে পড়েছো। বাড়ীতে থাকা বহু জিনিস পত্র পানিতে ভেসে যায়। লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে আমজু মাষ্টার পাড়ায় হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে। তাতে করে এ পাড়ায় বসবাসকারী সকলের রান্নভান্না সহ ঘরে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ দেখতে পেয়ে সকলে একটি দ্বিতল বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। ঐ পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মাবুদ সওদাগর জানান, কোন বর্ষা মৌসুমে তাদের বাড়ীতে বা পাড়ায় এভাবে বৃষ্টির পানি ঢুকে নি। হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের পাড়ায় পানি ঢুকে পড়ে এবং মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। পুটিবিলা এম চর হাট বাজারের পাশে ডলু খালের অবস্থান। ডলু খালের পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেলে বাজারে পানি ঢুকে পড়ে, তাতে বহু দোকাদার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আমিরাবাদ জনকল্যাণ গ্রামে জুনাইদুল ইসলাম জারিফ নামে এক ছেলে রাতে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় কারনে মা- বাবাকে সাথে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার কালে পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরদিন গারাঙ্গিয়া এলাকায় তার লাশ মিলে। পানি বেশি হওয়ার কারণে তাকে স্থানীয় মসজিদ মাঠে দাফন করা হয়। তার মা-বাবা একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে পড়েছে। প্রচুর বৃষ্টিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে লোহাগাড়ায় টানা ৩/৪ দিন বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে মানুষকে খাওয়ার পানি সরবরাহ ও মোবাইল চার্জ করতে দারুণ সমস্যায় পরতে হয়। বাড়িতে আলো না থাকার কারনে মোমবাতি জ্বালাতে হিড়িক পড়ে। তবে অসাধু মোমবাতি বিক্রেতারা পাঁচ টাকার মোমবাতি বিশ টাকায় বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বহু প্রতিক্ষার পর গতকাল বুধবার বিদুৎ এর লাইন চালু করা হয়। তাতে করে মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমে আসে। এভাবে লোহাগাড়ার মানষের দুর্দশার সীমা রইল না।
২ দিন ২ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৪ দিন ১৭ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
৭ দিন ৫ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
৯ দিন ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিট আগে
৯ দিন ১৯ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১০ দিন ২ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে
১৩ দিন ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট আগে