রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য সুপরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন। যে কারনে প্রতিবছর সেখানে ভ্রমণে যান পর্যটকরা। যদিও সারা বছর বাঘের দেখা মেলা ভার। তারপরও মাঝেমধ্যে ধরা দেয় ভয়ংকর সুন্দর এই প্রাণীটি।
মঙ্গলবার সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে সেই দুর্লভ সুযোগ পেয়েছেন একদল পর্যটক। সাক্ষী হয়েছেন সামনে থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে পাওয়ার বিরল ঘটনার।
ঘটনারদিন পর্যটকদের বহন করা জলযান ‘দি সেইল’ বেলা সোয়া ১০টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন বড় কটকা খাল দিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই পাশ দিয়ে পূর্ণবয়স্ক একটি বাঘটি সাঁতরে ওই খাল পার হচ্ছিল। খাল পার হয়ে বাঘটি বনের গহিনে চলে যায়।
এমন মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে উচ্ছ্বাস আর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জাহাজের সব পর্যটক ও কর্মীদের মধ্যে। তখন যে যার মতো করে ওই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
ওই জলযানে সুন্দরবন ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের ট্যুরিস্ট জাহাজ কটকা থেকে তখন কচিখালির দিকে যাচ্ছিল। সময় তখন সকাল ১০টা ১০ মিনিট। বড় কটকা খালের মুখে যখন আমরা, তখন বেশ বড়সড় ওই বাঘটিকে আমরা খাল পার হতে দেখি।’
জাহাজে থাকা ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল মোবাইল ফোনে ধারণ করা সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওয়ালে শেয়ার করে লেখেন, ‘বিশাল আকারের রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখার বিরল অভিজ্ঞতা। সুন্দরবন বাঁচাও, বাংলার বাঘ বাঁচাও।’
প্রসঙ্গত, এক মাস আগে গত ১৯ জানুয়ারি সুন্দরবনের কটকা অভয়ারণ্যের বেতমোড় এলাকার নদীর পাশে একই জায়গায় তিনটি বাঘের দেখা পান পর্যটকবাহী জলযান এমভি আলাস্কার পর্যটকরা। সে সময় একটি বাঘকে অপর দুটি বাঘ আক্রমণ করে প্রথমে নদীতে ফেলে দেয়। সে বিরল ঘটনার মুহূর্তের বেশ কিছু ছবি, ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এর আগে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শরণখোলা রেঞ্জের চন্দ্রশ্বর ফরেস্ট টহল ফাঁড়ি এলাকায় একসঙ্গে তিনটি বাঘ ২০ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছিল। তখনও বনরক্ষীরা সেই ৩ বাঘের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনভূমি ৪৮৩২ এবং জলাভূমি ১১৮৫ বর্গকিলোমিটার। ২০১৫ সালের বাঘশুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে বাঘ ছিল ১০৬টি এবং ২০১৮ সালে ১১৪টি। ২০২৪ সালের বাঘশুমারিতে বাঘের সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৫টিতে। সুন্দরবনের চারটি রেঞ্জের মধ্যে শরণখোলায় বাঘের অবস্থান বেশি।
সুন্দরবনের খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, ‘কোভিড মহামারির সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়। ওই বছর সুন্দরবন ছিল নীরব, কোলাহলমুক্ত। সে সুযোগে বনের প্রাণীদের অবাধ বিচরণ বেড়ে যায়। বন্যপ্রাণীকে তার মতো করে চলতে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের বিগত তিনটি বাঘ গণনার ফলাফল বিশ্লেষণেও মিলেছে একই ধরনের তথ্য। প্রতি জরিপে ৮ থেকে ১১টি বাঘ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
১ দিন ৬ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
৪ দিন ১০ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে
৫ দিন ৩ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৫ দিন ৬ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে
৫ দিন ৭ ঘন্টা ৫৮ মিনিট আগে
৬ দিন ৮ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
৬ দিন ১৬ ঘন্টা ৫৪ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে