মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) সংগঠনের এডহক কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি আর গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যকলাপের গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মরত সাধারন কর্মচারীরা। বন্দরের কর্মচারীদের অধিকার বাস্তবায়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গঠিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহত্তম সংগঠন এটি। দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে প্রণীত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ায় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী পুনরায় নির্বাচনী কার্যক্রমের বিদ্যমান ধারা অনুসরণ করে ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের আয়োজন ও সম্পন্ন করার জন্যই এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু গঠিত এই এডহক কমিটির আহ্বায়কসহ অন্যান্য সদস্যরা এখতিয়ার বহির্ভূত কার্যকলাপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে। জড়িয়ে পড়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রমে বলে অভিযোগ কর্মচারীদের।
বিষয়টি নিয়ে সোমবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে সংগঠনটির সাবেক নেতৃবৃন্দ ও কর্মচারীরা। এ নিয়ে বন্দর এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) এর কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ৮ নভেম্বর খুলনা শ্রম পরিচালক ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি ও ৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অনুমোদন প্রদান করেন। যদিও এডহক কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে কর্মচারীর সংঘের ধারা ২৭, (চ) (ছ) অনুসরণ করা হয়নি যা শ্রম আইন ও কর্মচারীর সংঘের গঠনতন্ত্রের পরিপন্থি বলে দাবি করেছে সংগনটির সাবেক নেতৃবৃন্দরা। ওই এডহক কমিটি এদিন কর্তৃপক্ষের আবাসিক এলাকার যে স্থানে সভা সমাবেশের কথা রেজুলেশনে উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে প্রকৃত পক্ষে কোন সভা বা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়নি। কর্মচারী সংঘ কর্তৃক যে কোন সভা সমাবেশ করা হয় তা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বিভাগের গোয়েন্দা শাখা, সকল সরকারী গোয়েন্দা সংস্থার নিকট সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু ওই দিনের কোন তথ্য তাদের কাছে নেই মর্মে তারা রেজুলেশনে সভা দেখিয়েছে।
এছাড়া এই এডহক কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি খুলনা শ্রম পরিচালক কর্তৃক অনুমোদন গ্রহণ করলেও এডহক কমিটি শুরু থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক গৃহিত নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম না করে উল্টো বাধা সৃষ্টি করে আসছে। যাতে নির্বাচন না হয় এবং এই এডহক কমিটি যেন দায়িত্বে থেকে সংঘটি পরিচালনা করতে পারে। যা কর্মচারীর সংঘের গঠনতন্ত্র ও শ্রম আইন ২০০৬ এর পরিপন্থি বলেও অভিযোগে উলেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো উলেখ করেছে, কথিত এই এডহক কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হলেও মেয়াদ উত্তীর্ণ এডহক কমিটি সিবিএ এর প্যাড ব্যবহার করে ব্যবস্থাপনার নিকট একাধিক পত্র গ্রেরণ করে চলেছে যা বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনাকে বিব্রতরকর অবস্থায় সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
অপর দিকে গত ২৩ জানুয়ারি এডহক কমিটি এডহক কমিটির সদস্য বন্দরের সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক এনামুল হক এর স্বাক্ষর জাল করে পদত্যাগ দেখিয়ে তার স্থানে হিসাব রক্ষক মতিউর রহমান সকিবকে স্থলাভিষিক্ত করে। গ্রীজার কাম-পাম্প ড্রাইভার আরাফাত রহমানকে বাদ দিয়ে ওই পদে সোবাহান মোলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে আবার সোবাহন মোলাকে বাদ দিয়ে উক্ত স্থানে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জামাল উদ্দিন চৌধুরী জাহিদকে অন্তর্ভুক্ত করেন। গত ২৩ জানুয়ারি এডহক কমিটির সদস্য জনাব এনামুল হক-বন্দরের সহকারী ট্রাফিক পরিদর্শক এর স্বাক্ষর জাল করে তার পদত্যাগ পত্র তৈরি করে ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ দেখিয়ে তার স্থানে হিসাব রক্ষক মতিউর রহমান সকিবকে স্থলাভিষিক্ত করেন। আবার স¤প্রতি গত ২২ ফেব্র“য়ারি ওই এডহক কমিটির আহবায়ক শেখ শাহিনুর রহমানকে বাদ দিয়ে মতিয়ার রহমান শাকিবকে অন্তর্ভুক্ত করেন ওই এডহক কমিটি।
এছাড়া এডহক কমিটি গত ২৯ ডিসেম্বর ওই কমিটি বিশেষ সাধারণ সভার রেজুলেশন তৈরি করে বন্দরের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হয় যা জাল জালিয়াতি পূর্ণ বলেও অভিযোগে জানানো হয়েছে। শুরু থেকে অদ্যবদি এই এডহক কমিটির চলমান কর্মকান্ড বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করে চলেছে। বিষয়টি তদন্ত করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছে।
চলমান পরিস্থিতিতে কথিত এ এডহক কমিটি কর্মচারীর সংঘের গঠন তন্ত্র ও শ্রম আইনের পরিপন্থি কর্মকান্ডের ফলে যে কোন সময় বন্দরে কর্মরত কর্মচারীগণ এ কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনা। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংগঠনটির সাবেক সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রায় ৬শ’ জন কর্মচারী স্বাক্ষর প্রদান সম্বলিত একটি অভিযোগ বন্দর চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছে।
এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী সংঘ (সিবিএ) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহিন রহমান-কে না পেলেও বন্দরের উপ-সচিব মাকরুজ্জামান বলেন, যেহেতু কর্মচারী ও সিবিএ’র সাবেক নেতৃবৃন্দরা সরাসরি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। চেয়ারম্যান স্যার আমাদের অভিভাবক, এ বিষয় তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানায় তিনি।
১ দিন ৬ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
৪ দিন ১০ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
৫ দিন ৩ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৫ দিন ৬ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে
৫ দিন ৭ ঘন্টা ৫৫ মিনিট আগে
৬ দিন ৮ ঘন্টা ১৭ মিনিট আগে
৬ দিন ১৬ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে
৭ দিন ৮ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে