শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে বরিশাল-পাথরঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া হাজী বাড়ি এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
এতে বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজার সহ ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদেরকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাৎক্ষনিক নিকটবর্র্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এ সময় বিআরটিসি বাসের সুপারভাইজার মেহেদী হাসান (৪৫) ও যাত্রী পারভেজ (৪৮) কে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
নিহত সুপারভাইজার মেহেদী হাসান বরিশালের জিয়া সড়কের বাসিন্দা আব্দুল লতিফ মৃধার ছেলে ও নিহত যাত্রী পারভেজ হোসেন বাখেরগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণকাঠি এলাকার আব্দুল আজিজ হাওলাদারের ছেলে।
বিআরটিসি বাসটি দূর্ঘটনা কবলিত পড়ায় সড়কে প্রায় আধা ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কে বাস চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।
পুলিশ ও আহত বাস যাত্রী এ্যাড. খান শহিদ, মনির হোসেন, আম্বিয়া খাতুন, লোকমান বিশ^াস, এমদাদুল সহ অনেকে এ দূর্ঘটনার কারণ হিসেবে বাসের স্টাফদের দায়ী করে তারা জানান, বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে সকালে যাত্রা শুরু করে। বাস ছাড়ার পর থেকেই চালক, হেলপার ও সুপার ভাইজারদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয় কয়েক দফায়। এ কারনে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এর আগেও দূর্ঘটনার কবলে পড়তে যাচ্ছিল বাসটি। যাত্রীরা তাদের ঝগড়া থামাতে বলে এবং গাড়িটি আস্তে চালাতে বললেও তাতে কর্ণপাত করেনি কেহ।
প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যান চালক ইউসুফ সর্দাও জানান, রাজাপুর উপজেলার গালুয়া কানুদাসকাঠি হাজী বাড়ি নামক জায়গায় বিআরটিসি বাসটি দ্রুত গতিতে এসে বৈদ্যুতিক খুটি ও গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুমড়ে মুচরে খাদে পড়ে যায়।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিক চন্দ্র রায় জানান, এ ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার ও এক বাস যাত্রী নিহত হন এবং অন্তত ১২/১৫ জন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পরে যান চলাচল বন্ধ হলে পুলিশ তাৎক্ষনিক যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। মরদেহ পাশ^বর্তী ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকায় সেখানকার পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য ব্যবস্থা নিবেন এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। আমরা বিআরটিসি বাসটি জব্দ করেছি।