বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত, বিজিবির দাবি ১ আদানির বন্ধ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহে ফিরছে আজই আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কুলিয়ারচরের সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা কুষ্টিয়ায় ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ মিছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত চ্যাট গোপন রাখবেন যেভাবে সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত চরবংশী ইউপি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেন ফারুক কবিরাজ বাঘায় পদ্মার সীমান্ত থেকে বিএসএফ এর হাতে আটক ৫ জনকে ফিরে না পাওয়ায় হতাশায় পরিবার সম্পন্ন হলো পিএমই বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত “শান্তর ক্যানভাস”-এর দুইটি পর্ব আদমদীঘিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ওসির জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ‎ ‎বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের একনেক অনুমোদন চলতি সপ্তাহে মধুপুরে জনতা অটোমেটিক রাইস মিলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, ৮/৯ লাখ টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি পৌর বণিক সমিতির নির্বাচন: আপেল, মুকুল প্যানেল বিজয়ী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে সেমিনার উত্তর টাঙ্গাইল সাংবাদিক ফোরামের মতবিনিময় সভা পীরগাছায় আল ফোরকান ক্যাডেট মাদ্রাসার বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ ও সনদ বিতরণ চৌমুহনী বাজার দুই আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ব্রেন স্টিমুলেশন গবেষণায় চমক: আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ‘বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড’ জিতলেন জাবিপ্রবির তানভীর

পুনর্বাসন কেন্দ্রে আসা নারীদের ৩৩ শতাংশ ইয়াবা সেবনকারী

দেশচিত্র নিউজ ডেস্ক

প্রকাশের সময়: 12-04-2023 03:27:02 pm

ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকরী নারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ইয়াবা গ্রহণকারী। এছাড়া ২৮ শতাংশ গাঁজা, ১৬ শতাংশ ঘুমের ওষুধ, ১৫ শতাংশ একই সঙ্গে বিভিন্ন মাদক গ্রহণকারী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২ শতাংশ মদ, ২ শতাংশ শিরায় মাদক গ্রহণকারী এবং বাকিরা অন্য মাদক গ্রহণ করতেন।


দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক গ্রহণকারীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নারীদের মাদক গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা সমাজে এক সময় ভয়ংকর রূপ নেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বুধবার (১২ এপ্রিল) রাজধানী শ্যামলীর ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসায় সফলতার সঙ্গে নয় বছর পেরিয়ে ১০ম বছরে পদার্পণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।


ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আক্তারুজ্জামান সেলিম, স্বাস্থ্য সেক্টরের সহকারী পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডা. নায়লা পারভীন, সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখী গাঙ্গুলী।


ইকবাল মাসুদ বলেন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪৭ জন নারীকে মাদক নির্ভরশীল, মানসিক ব্যাধি ও আচরণগত বিষয়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১২৯ জন রোগী পুনরায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন।


চিকিৎসা সেবা গ্রহণকরী নারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ইয়াবা গ্রহণকারী, ২৮ শতাংশ গাঁজা, ১৬ শতাংশ ঘুমের ওষুধ, ১৫ শতাংশ একই সঙ্গে বিভিন্ন মাদক গ্রহণকারী, ২ শতাংশ মদ, ২ শতাংশ শিরায় মাদক গ্রহণকারী। বাকিরা অন্যান্য মাদক গ্রহণকারী। মানসিক রোগের মধ্যে সিজোফ্রিনিয়া ৩৪ শতাংশ, মুড ডিজঅর্ডার ৩০ শতাংশ, বাইপোলার ১২ শতাংশ, ডিপ্রেশন ১০ শতাংশ ও ওসিডি ৬ শতাংশ। বাকিরা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।


এই কেন্দ্রে কেবল নারীদের দ্বারাই নারী মাদকনির্ভরশীলদের চিকিৎসা করা হয়। যেহেতু মাদকনির্ভরশীলতা একটি অসুস্থতা, ফলে মাদকমুক্তরা পুনরায় মাদক গ্রহণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সমাজের সব পর্যায় থেকে সচেতনতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।


মাদক গ্রহণের কারণ হিসেবে দেখা যায়, কৌতূহল বশত, মাদক গ্রহণকারী বন্ধুদের চাপ, একাকিত্ব, পরিবারের অন্য সদস্য বা বয়ফ্রেন্ড মাদক গ্রহণে অভ্যস্ত থাকলে, বিষণ্নতা, হতাশাগ্রস্ত হলে, অতিরিক্ত রাগ-জেদ ইত্যাদি কারণে মাদক ব্যবহার করে থাকেন। পারিবারিক ও সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে নারী নির্ভরশীলদের বিষয়টি আমাদের দেশে এখনো প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে না। ফলে এ সমস্যার সমাধান সহজ হয় না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ঢাকা আহছানিয়া মিশন নারী নির্ভরশীলদের চিকিৎসায় কাজ করছে।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, সামাজিক স্টিগমার কারণে নারী মাদকনির্ভশীলরা চিকিৎসা গ্রহণে অনাগ্রহী। দেশে পুরুষের পাশাপাশি নারী মাদক গ্রহণকারীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নারীদের মাদক গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা সমাজে এক সময় ভয়ংকর রূপ নেবে।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের যুগ্ম পরিচালক কে এস এম তারিক, সহকারী পরিচালক মোখেলেছুর রহমানসহ স্বাস্থ্য সেক্টরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি এবং চিকিৎসাধীনদের পরিবারের সদস্যরা।


ঢাকা আহছানিয়া মিশন থেকে চিকিৎসা গ্রহণকারী ৬৪৭ জন রোগীর মধ্যে ৬৫ শতাংশ চিকিৎসার মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। মেয়াদ পূর্ণ করা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশ মাদকমুক্ত সুস্থ জীবনযাপন করছেন এবং নিয়মিত সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। মেয়াদ পূর্ণ না করে চলে গেছে ২৪ শতাংশ এবং ১৭ শতাংশ রিল্যাপ্স (পুনরায় মাদক গ্রহণ) করেছে। শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ মৃত্যুবরণ করেছে, বিভিন্ন কারণে ৪ শতাংশ রোগীকে রেফার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ শতাংশ শুধু ১৪ দিনের ডিটক্সিফিকেশন (শরীর থেকে দূষিত বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়া) করেছেন।


৬৪৭ জনের মধ্যে ৫১ শতাংশ সেন্টারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখেননি এবং ৪ শতাংশ বর্তমানে সেন্টারে চিকিৎসারত। যারা সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই তাদের অনেকে সুস্থ আছেন, বিদেশ গেছেন এবং বাকিরা লোকলজ্জা ও সামাজিক স্টিগমার কারণে চিকিৎসা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।


এছাড়া ৬৪৭ জন রোগীর মধ্য শুধুমাত্র মানসিক সমস্যার করণে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৩৩ জন নারী।


২০১৪ সালে এপ্রিল মাসে থেকে আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র মাদকাসক্তিজনিত সমস্যা, মানসিক সমস্যা ও আচরণগত সমস্যাগ্রস্ত নারীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের মাধ্যমে মাদকাসক্ত নারীদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত চারটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০০৪ সালে গাজীপুর, ২০১০ সালে যশোর, ২০১৪ সালে ঢাকায় আহছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং ২০২১ সালে মুন্সিগঞ্জে হেনা আহমেদ মনোযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে।

আরও খবর