◾ স্পোর্টস ডেস্ক
উড়ন্ত শুরুর পর ৪ উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খেলেও জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছেড়েছে শ্রীলঙ্কা। টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে দেওয়া ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেট আর একবল হাতে রেখেই জয় পেয়েছে দাসুন শানাকার দল।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ আত্মবিশ্বাসী শুরু ছিল শ্রীলঙ্কার। দুই ওপেনার কুশল মেন্ডিস আর পাথুম নিশাঙ্কা ভারতীয় বোলারদের রীতিমত শাসন করেছেন।
৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কিন্তু সেখান থেকে দারুণভাবে লড়াইয়ে ফিরেছে ভারত। ১৩ রানের মধ্যে তুলে নেয় ৪ উইকেট। তবে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে আর আটকানো যায়নি।
শেষ ৬ ওভারে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৬৪। টানা দুই ওভারে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ভানুকা রাজাপাকসে জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন। ১৮ বলে লঙ্কানদের জয়ের দূরত্ব যখন ৩৩ রানে তখন ছক্কা হাঁকিয়ে মোক্ষম কাজ করেন শানাকা।ফলে শেষ ১২ বলে দরকার হয় ২১ রান।
১৯তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারকে তৃতীয় আর চতুর্থ বলে টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা। শেষ ওভারে থাকে ৭ রান।
অর্শদীপ সিং প্রথম চার বলে দেন মাত্র ৫ রান তেন। পঞ্চম বলে পরাস্ত হন শানাকা, তবে রানের জন্য দৌঁড় ঠিকই দেন। উইকেটরক্ষক রিশাভ পান্ত বল হাতে নিয়ে ননস্ট্রাইকে থ্রো করেন। সেখান থেকে আরও এক রান বাই। বাই ২ রান নিয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটিতে জয়ের উল্লাসে মাতে লঙ্কানরা।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে ভারত।
কোহলিদের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারানোর পর বেশ চাপে পড়ে দলটি। তবে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের ৯৭ রানের বড় জুটিতে শেষ পর্যন্ত লড়াকু সংগ্রহ পায় ভারত।
ইনিংস অবশ্য আরও লম্বা হতে পারতো। তবে শেষ দিকে দ্রুত ৫ উইকেট হারায় রাহুল দ্রাবিড়ের শীর্ষরা। শেষ পর্যন্ত ১৭৩ রান সংগ্রহ করে দলটি।
ব্যাট হাতে ভারতের রোহিত শর্মা ৫ চার ও ৪ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন। ৩৪ রান করেন সূর্যকুমার যাদব। হার্দিক পান্ডিয়া ও ঋষভ পন্তের ব্যাট থেকে আসেন ১৭টি করে রান।
মাত্র ১২ রানে দুই উইকেট হারায় ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে থিকশানার ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হয়েছেন লোকেশ রাহুল (৬)। রিভিউ নিয়েও কাজ হয়নি। পরের ওভারেই বিরাট কোহলি ফিরেছেন শূন্য রানে।
১৩তম ওভারে ২ উইকেটে ছিল ১১০ রান। সেখান থেকে ৮ উইকেটে রোহিতদের সংগ্রহ ১৭৩ রান। অসাধারণ ফিফটি করেছেন দলপতি রোহিত। নবম ওভারেই অবশ্য ফিরতে পারতেন রোহিত। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে এক্সট্রা কভারে হাঁকাতে গেলে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ নিতে যান শানাকা। কিন্তু এক হাতে বল পেলেও লঙ্কান অধিনায়ক কঠিন সে ক্যাচ রাখতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৪১ রানে বেঁচে যান রোহিত।
সেই রোহিত ফিফটি করার পরও অনেকটা সময় চালিয়ে খেলেছেন। অবশেষে ইনিংসের ১৩তম ওভারে তাকে সাজঘরের পথ দেখান পেসার চামিকা করুনারত্নে। ৪১ বলে গড়া রোহিতের ৭২ রানের ইনিংসে ছিল ৫ চার আর ৪ ছক্কার মার।
রোহিত ফেরার পর দ্রুত আরও একটি উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। ১৫তম ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়েই মারকুটে সূর্যকুমার যাদবকে ফেরান লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। তার বাউন্সি ডেলিভারি শর্ট থার্ডম্যান দিয়ে তুলে মারতে গিয়েছিলেন সূর্য।
কিন্তু টাইমিং না হওয়ায় ক্যাচ উঠে যায়। ২৯ বলে ৩৪ করে ফেরেন এই হার্ডহিটার। ৯ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে ফের চাপে পড়ে ভারত।
হার্দিক পান্ডিয়া শুরুটা করেছিলেন ভালো। ১৮তম ওভারে শানাকাকে বড় এক ছক্কাও হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু ওই ওভারে তাকে তুলে নেন লঙ্কান অধিনায়ক। ডিপ মিডউইকেটে হার্দিক ধরা পড়েন ১৩ বলে ১৭ করে।
ওই ওভারে আরও একটি উইকেট পড়তে পারতো। শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন নতুন ব্যাটার দীপক হুদা। কিন্তু রিপ্লে দেখে বাউন্সি ডেলিভারিটি ‘নো’ ডাকেন আম্পায়ার। ওই জীবন পেয়েও অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি দীপক।
পরের ওভারে লেগস্টাম্প উম্মুক্ত করে মধুশঙ্কাকে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি এই ব্যাটার (৪ বলে ৩)। এক বল পর পান্তও বাউন্ডারিতে ক্যাচ হয়ে যান পুল খেলতে গিয়ে (১৩ বলে ১৭)। ১৯তম ওভারটিতে সবমিলিয়ে মাত্র ৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন মধুশঙ্কা।
চামিকা করুনারত্নের করা ইনিংসের শেষ ওভারে এক উইকেট হারালেও অশ্বিনের ছক্কায় ১২ রান তুলে নেয় ভারত। অশ্বিন ৭ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
৪ দিন ৯ ঘন্টা ১১ মিনিট আগে
৫ দিন ৯ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
৯ দিন ৬ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে
১০ দিন ৬ ঘন্টা ৫৩ মিনিট আগে
১০ দিন ৬ ঘন্টা ৫৯ মিনিট আগে
১৪ দিন ১১ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে
২১ দিন ২৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
২৪ দিন ১০ ঘন্টা ৪৬ মিনিট আগে