প্রিয় "বাবা" হয়নি বলা একটি কথা কতটা ভালোবাসি তোমায় বাবা।
"বাবা" মানে আকাশের মতো বিশাল একটা ছাদ অতি যতনে আগলে রাখা নির্ভরতার হাত। বাবা এই শব্দটার সাথে অতুলনীয়, যার কোন তুলনাই হয় না খুব কমই আছে। একজন বাবা আমাদের জীবনে বটবৃক্ষের ছায়ার মতো আমাদের পাশে থেকে আমাদেরকে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। বাবা নিরক্ষর হোক কিংবা শিক্ষিত হোক একজন বাবা কখনোই তার সন্তানকে নেতিবাচক পথে চলাচলের জন্য উৎসাহিত করেন না। তিনি তার সন্তানকে সঠিক পথে চলার জন্য সবসময় ভালো মন্দ শিখিয়ে দেন।
তিনি যখনই আমাদেরকে চলার পথ দেখিয়ে হাত ছেড়ে দেন তখনই দুনিয়া আমাদেরকে বুঝিয়ে দেয় যে, তোমার বাবা তোমার হাত ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই কিন্তু তুমি কখনো এই মানুষটার হাত ছেড়ে দিও না। তিনি তোমার হাত ছেড়েছে, পৃথিবীটা কেমন ও কতটা অদ্ভুত ও পৃথিবীর মানুষগুলা কতটা অদ্ভুত তা দেখে তুমি তোমার ভবিষ্যতের সিঁড়িটাবে কিভাবে উপরে উঠতে পারবে এই জন্য। হয়তো তুমি এখন কিছুই বুঝবে না, কিন্তু তুমি বুঝবা ঠিকই যখন তোমার বাবা আর তোমার পাশে থাকবে না, সে এই দুনিয়া ছেড়ে তোমাদেরকে ছেড়ে চলে যাবে। ঠিক তখনই তুমি বুঝবা, যে বাবা কেন তোমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছে, তাই বলে তুমি বেঁচে থাকতে কখনো তোমার বাবার হাত ছেড়ে দিও না। বাবা যতদিন আছে তুমি ভাববা তোমার মাথায় এখনো বট-বৃক্ষটা রয়েছে। বাবা আছে মানেই পুরো পৃথিবীটা তোমার কাছে মনে হয়, বাবা আছে মানে পৃথিবীতে তোমার সবকিছু আছে। বাবা তোমার হাতটা ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তোমাকে সে একা ছাড়েনি, সে সব সময় তোমার পিছনে থেকে তোমাকে বট-বৃক্ষের মতো ছায়া দিয়ে রেখেছে।
"বাবা" মানেই যেই অবস্থানেই থাকুক না কেন তিনি চান, তার সন্তান যাতে তাকে টপকে যায়, উন্নতির সেরা মঞ্চে অধিষ্ঠিত হয়। এতেই তারা জিতে যায়। কোনো সন্তান যখন বাবার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয় তাহলে বাবার মতো খুশি দুনিয়ার আর কেউ হয় না। সন্তানদের জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট দোয়া চাইতে তারা কখনোই ক্লান্ত হোন না। একজন বাবা সব সময় আমাদের শক্তির উৎস হিসেবে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেন ভবিষ্যতে উজ্জ্বল পথ চলার জন্য। সন্তানের নিকট বাবা জিনিসটা সর্বদা ভরসার আশ্রয়স্থল। বাবা পাশে থাকলে সন্তানের সাহস বহুগুণে বেড়ে যায়। সন্তানদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে তারা মাঝে মধ্যে একটু কঠোর হয়ে যান, শাসন করেন আমাদের। কিন্তু এই শাসন পরবর্তী ভালবাসাটা আরো সুবিশাল।
যেমন আমি, ছোট বেলায় আমার মায়ের মুখ থেকে শুনেছি, আমি একদিন স্কুল ফাঁকি দিয়েছে বলে আমার আব্বা আমাকে মেরেছে ও অনেক বকাবকি করেছে তারপর থেকে এ পর্যন্ত কিছু খায় নাই আমার বাবা, চোখের পানিও ফেলছে আর আম্মুর কাছে বলেছে, আজকে আমি আমার সন্তানটাকে অনেক মেরেছি, আমি যে হাত দিয়ে সন্তানকে ছোট থেকে অনেক আদর ও স্নেহ দিয়ে বড় করেছি, কিন্তু আমি সেই সন্তানকে আজ মেরেছি। তখনই মা আমাকে বলে আব্বারে নিয়া একসাথে খেতে আয়। এ কথা শোনার পর আমি অনুতপ্ত হয়ে বাবার কাছে ক্ষমা চাইলাম, ঐ মুহুর্তে বাবার ভালোবাসাটা অন্তর থেকে অনুভব করলাম। বাবা কখনো আমাদের খারাপ চান না। তারা বাইরে থেকে কঠিন হলেও ভিতর থেকে খুবই কোমল মনের মানুষ।
বাবা বিরতীহীন শ্রমিকদের মতো, সন্তান প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের সুখ-স্বাচ্ছন্দের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান। তাদের নিজেদের সুখ, ইচ্ছা গুলোকে বিসর্জন দিয়ে আমাদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে কখনো ক্লান্ত হন না। বাবা আছে বলেই আমাদের পৃথিবী সুন্দর, পরিবার সু-সজ্জিত, সুরক্ষিত। বাবা আছে বলেই আমাদের জীবন এত সুন্দর, এত মসৃণ। আমরা সব সময় হয়তো বাবার পাশে থাকি না কিন্তু তারা আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় থাকবেন সব সময়। এতো কিছু করার পরও অনেক সময় দেখা যায় একজন বাবার শেষ আশ্রয়স্থল হয় বৃদ্ধাশ্রম, যা আমদের নৈতিকতার স্ফলন। যা কখনোই কাম্য নয়। এখনো সময় আছে বাবাকে উপলব্ধি করতে শিখো, প্রয়োজনে তোমার বাবার জায়গায় তুমি নিজেকে বসাও ভাবো।
যাদের বাবা নেই একমাত্র তারাই বাবা হারানোর উপলব্ধি টা বুঝতে পারে, তাদের ভালোবাসাটা অনুভব করতে পারে।
আমার বাবা পেশায় একজন কৃষক, তিনি প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন শাক-সবজি নিয়ে বাজারের জায়। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত দেখছি তিনি প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে আগে আমাদের রুমে এসে আমাদের চেহারা এক নজর দেখে বাজারে যান আর সন্ধ্যা অথবা রাতে ঘরে ফিরে আসেন। উনার মলিন গামছা দেখেই উনার পরিশ্রমের গভীরতা উপলব্ধি করা যায়। প্রতিনিয়ত কাজ করেই যাচ্ছেন আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য। আমার পরিবারে তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী ব্যাক্তি। আমাদের ভাই-বোনদের আনন্দই তার কাছে আনন্দের উৎস। ছোটবেলা যখন অসুস্থ হতাম তখন ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারতাম না তিনি কতটা উদ্বীগ্ন থাকতেন কিন্তু এখন বুঝি। এখন অসুস্থ হলেও অনেক সময় বলি না তবুও গলার কণ্ঠস্বর শুনলে তিনি বুঝে যান। তিনি নিরক্ষর, তার কোনো অক্ষরজ্ঞান নেই। তবুও তিনি বারবার আমাকে পড়াশোনা করার জন্য তাগিদ দিতেন। আমি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলে, বৃত্তি পেলে, কোনো পুরস্কার পেলে, মানুষের কাছ থেকে আমার সম্পর্কে ভালো কিছু শুনলে উনার খুশি দেখার মতো। কিন্তু তবুও তিনি আমাদেরকে বর্তমান অবস্থান নিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, এখান থেকেই ভালো কিছু করার জন্য। উনার ভালোবাসা, পরিশ্রমের মূল্য কখনো শোধ করতে পারবো না। সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা থাকবে এই যে, উনাকে যেন সৎ পথে পরিচালিত করে, স্বাস্থ্য যেন সবসময় ভালো থাকে, উনার স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন করতে পারি, উনাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব যাতে নিতে পারি, এই কামনাই করি।
"বাবা" মানে বটবৃক্ষ, তিনি একাই একটি প্রতিষ্ঠান। বাবা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে আগলে রাখেন, ছায়ার মতো পাশে থাকেন, নির্ভরতা দেন। নিজের শত সমস্যা সত্ত্বেও সন্তানদের সুরক্ষিত রাখেন, সন্তানের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছপা হন না। আপাতগম্ভীর খোলসের আড়ালে থাকে তাঁর অন্য রূপ।
আমারা দুই ভাই এক বোন, আমার "বাবা" অসুস্থ একটি রোগে আক্রান্ত সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন, সব সময় বাবা-মায়ের সেবা করতে পারি, ছোট বেলায় যেমন আমাদের সুখে দুখে বাবা-মা আমাদের পাশে ছিলেন। ঠিক তেমনি আমরাও সুখে দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকতে পারি এই প্রার্থনা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে।
পৃথীবির সব সন্তানই তার বাবাকে ভালোবাসে, কিন্তু কখনো বলতে পারে না। কারন এই ভালোবাসাটা এতটাই গভীর, যা কখনো বলে বুঝাতে হয় না।
মোঃ সাকিবুল হাসান, চান্দিনা, কুমিল্লা। ১৮ জুন, ২০২৩ খ্রি: জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়।
৬ ঘন্টা ৪১ মিনিট আগে
৮ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট আগে
১ দিন ৩ ঘন্টা ৪২ মিনিট আগে
১ দিন ২০ ঘন্টা ৫২ মিনিট আগে
১ দিন ২১ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে