জয়পুরহাট সিমান্তে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া তিন যুবককে ফেরত পাঠাল বিজিবি চীন, ভারত, জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে ঠাকুরগাঁওয়ে ১২ দিনেও সন্ধান মেলেনি শারমিনের, মেয়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় পরিবার দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতে এ বছরই সর্বোচ্চ বাজেট: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে পুলিশের হাতে নাহিদসহ আটক ২ চিলমারীতে "বিশ্ব শিক্ষক দিবস" পালিত ফুলের বদলে গাছের চারা দিয়ে এমপিকে সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা শিক্ষক দিবসে ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এণ্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আবেগঘন বার্তা অভয়নগরে ৪২০ টন সরকারি সার গায়েব: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা শিক্ষার্থীকে মাদকে জড়ানোর অভিযোগ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তবুও অবহেলিত শ্যামনগরে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে নাঙ্গলকোটে র‍্যালি ও আলোচনা সভা শ্যামনগরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ শরীয়তপুরে মুদি দোকানে ২০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ নোয়াখালীতে দুই হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা রঞ্জুর বাড়িতে ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস: স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও গভীর সমবেদনা সৌদিতে থেকেও মিছিলের মামলায় আসামি ইলিয়াস চৌদ্দগ্রামে মাইক্রোবাসে মাদকের চালান: ৮৯ কেজি গাঁজা, ৬০ বোতল মদ জব্দ নিয়ামতপুরে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা এবং গর্ব অনিমেষ গাইন।

মার্গারেটা থ্যাচার বলেছেন, "আমি মনে করি সাফল্য হলো তুমি যা করতে চাও সেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে করার চেষ্টা করে যাওয়া। "

একজন মানুষের সফল বা ব্যর্থ হওয়া তার ক্ষমতার উপর যতটা না নির্ভর করে,তার চেয়ে বেশি তার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। যারা সফল হয়, তারা সফল হওয়ার আগে থেকেই সফল মানুষের মতো আচরণ করে। আর এই বিশ্বাসই একদিন সত্যিতে পরিণত হয়।  


ঠিক তেমন এক মনোবলের অধিকারী ছিলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স ডিসিপ্লিনের (০০ ব্যাচ) এর একজন  শিক্ষার্থী অনিমেষ গাইন। খুলনার ছোট একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা এক বালক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের গর্ব। তিনি কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে (ব্যাচ -১৯৯৭) এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০০০ সালে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের অন্যরকম পথে চলা। ধীরে ধীরে তীক্ষ্ণ মেধা আর অদম্য পরিশ্রম এর মাধ্যমে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যান। 

২০০৮ সালে বুয়েট থেকে Water Resource এর উপর মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। বুয়েটে পড়াকালীন সময়ে ঢাকায় কোন আত্মীয়-স্বজন না থাকায়, তিনি খুবই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এমন সময় তার সুপারভাইজার স্যার তাকে একটি পরিবারের স্নেহ দিয়েছিলেন। এই সুপারভাইজার এবং তার স্ত্রী ড. বিলকিস আমিন হক - এই দুজন মানুষ ছিলেন তার জীবনের মেন্টর। 


বুয়েটে মাস্টার্স শেষ করার আগেই তিনি ড. বিলকিস আমিন হক (সুপারভাইজারের স্ত্রী) এর অর্গানাইজেশনে প্রথম চাকরি শুরু করেন। তারপর থেকে তিনি শুরু করে নিজেকে আবিষ্কার করা হাটিহাটিপাপা করে বিশ্বের কয়েকটি বিদ্যালয়ে তিনি পড়েছেন, পড়িয়েছেন এবং এখনো পড়িয়ে যাচ্ছেন। 


বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার "মার ডক ইউনিভার্সিটির " এনভায়রনমেন্টাল পলিসি এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের সিনিয়র লেকচারার (সহযোগী অধ্যাপক সমমান) হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি সবসময় সামাজিক- বাস্তুসংস্থান ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, পরিবেশগত শাসন এবং কূটনীতি, জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং উপকূলীয় /ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনার উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং নীতির বিস্তৃত ক্ষেত্রে আগ্রহী। তিনি এই ক্ষেত্রগুলিতে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে যেমন, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি  (এম আই টি) তে গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তিনি প্রকৃতি, পৃথিবীর ভবিষ্যৎ, পরিবেশগত গবেষণা চিঠির মত উচ্চপদস্থ জার্নালে ৫০টির ও বেশি আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন। 


জল-সম্পর্কিত বিপদ এবং ঝুঁকির আন্তঃ বিভাগীয় ক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে,তিনি ইউরোপীয় ভূ-বিজ্ঞান ইউনিয়ন,EGU এর 'আউটস্ট্যান্ডিং ইয়াং সাইন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬' পেয়েছেন। তিনি IPCC- এর ৬ তম মূল্যায়ন রিপোর্টের একজন অবদানকারী লেখক। তিনি তার গবেষণার জন্য একাধিক তহবিল সংস্থার  কাছ থেকে মর্যাদাপূর্ণ  ফেলোসিপ এবং অনুদান পেয়েছেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এর অনিমেষ গাইন নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করতে করতে এখন বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গিয়েছেন। তিনি আমাদের বাংলাদেশের গর্ব, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব।

Tag
আরও খবর