নিউজ ডেস্ক:
টাঙ্গাইলে মহাসড়কে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রতন হোসেন। তার নেতৃত্বে ঘটনার তিন দিন আগে মহাসড়কে ডাকাতির পরিকল্পনা করে চক্রটি। এ চক্রের সদস্যরা পেশায় বাসের হেলপার ও গার্মেন্টকর্মী। তারা এসব পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন সড়কে ডাকাতি করে আসছে বলে দাবি করেছে র্যাব।
মহাসড়কে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানায় র্যাব।
গ্রেপ্তাররা হলেন--রতন হোসেন, তার সহযোগী আলাউদ্দিন, সোহাগ মণ্ডল, খন্দকার মো. হাসমত আলী ওরফে দীপু, মো. বাবু হোসেন ওরফে জুলহাস, মো. জীবন, আব্দুল মান্নান, নাঈম সরকার, রাসেল তালুকদার, আসলাম তালুকদার ওরফে রায়হান। এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত ২০টি মোবাইল, ১৪টি সিম ও ক্ষুর উদ্ধার করা হয়।
রোববার র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা, র্যাব-১২ ও ১৪-এর যৌথ অভিযানে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ঘটনার পরপরই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
র্যাব বলছে, ডাকাত দলে রতন, রাজা ও মান্নানের গ্রুপের ১৩ জন ছিল। রতনের পরিকল্পনায় রাজা ও মান্নান দল গোছানোর কাজ করে। গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যদের বয়স ২১ থেকে ২৩ এর মধ্যে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রতন ঘটনার তিন দিন আগে রাজা মিয়াকে বাস ডাকাতির প্রস্তাব দেয়। রাজা দলের অন্যদের সংঘটিত করার কথা বলে। পরে মান্নান, জীবন, দীপু, আউয়াল ও নুরনবীকে বিষয়টি জানান রতন। মান্নান তার সহযোগী সোহাগ, আসলাম, রাসেল, নাঈম ও আলাউদ্দিনকে নিয়ে ডাকাতিতে যোগ দেন। ডাকাতিতে রতনের নেতৃত্বে ১৩ জন অংশ নেন।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রতন গত ২ আগস্ট গাজীপুরের জিরানী বাজার এলাকায় সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী বাসে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। যাবতীয় প্রস্তুতির জন্য সহযোগীদের পাঁচ হাজার টাকা দেয় রতন। পাশাপাশি ১৩ জনের দলটিকে ছোট ছোট করে ভাগ করে কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে রতন টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা মোড়ের একটি দোকান থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত চারটি চাকু, দুটি ধারালো কাঁচি ও একটি ক্ষুর সংগ্রহ করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ আগস্ট রাতে ডাকাত রাজাসহ চক্রের অন্য সদস্যরা সিরাজগঞ্জ রোড মোড় এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকে। রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস সিরাজগঞ্জ রোড মোড় এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত রাজা বাসটিকে থামার সংকেত দেয়। যাত্রীবেশে প্রথমে রতন, রাজা, মান্নান ও নুরনবী বাসটিতে ওঠে।
পরে আরও দুই দফায় ডাকাতচক্রের অন্য সদস্যরা বাসটিতে যাত্রীবেশে ওঠে। বাসটিতে ২৪ জন সাধারণ যাত্রী থাকায় ডাকাত চক্রের অধিকাংশ সদস্য বাসের পিছনের দিকে বসে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা পার হওয়ার পর রতন ডাকাত দলের সদস্যদের চাকু ও ধারালো কাঁচি দেয়।
আউয়াল ডাকাত ধূমপানের কথা বলে বাসের গেটের কাছে যায় এবং অন্যদের ইশারা দিলে রাজা, রতন, মান্নান ও নুরনবী ড্রাইভিং সিটের কাছে গিয়ে চালককে মারধর করে। চালককে মারধর করে রতন বাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ডাকাত দলের বাকি সদস্যরা বাসের চালক ও সুপারভাইজার, হেলপারসহ অন্য যাত্রীদের হাত-মুখ বেঁধে সিট কভার দিয়ে মুখ ঢেকে দেয় এবং যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার হন দুই নারী।
খন্দকার আল মঈন বলেন, দুর্ঘটনার পর ডাকাত দলের সদস্যরা বাস থেকে নেমে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকায় যায়। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে মধুপুরের কুড়ালিয়া এলাকায় রতনের এক আত্মীয়ের ফাঁকা বাড়িতে গিয়ে লুট করা মালামাল নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে। পরে রতন গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় আত্মগোপন করে। দলের অন্য সদস্যরা যে যার মতো আত্মগোপনে চলে যায়।
ডাকাত চক্রের সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাব কর্মকর্তা মঈন জানান, রতন হোসেন ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। সে পেশায় গাড়ির হেলপার। তার বিরুদ্ধে আগেও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।
রতন এর আগেও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানান খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে রতন নুরনবী, জীবন ও অন্যান্য কয়েকজনকে নিয়ে রাস্তা বন্ধ করে সাভার পরিবহনের একটি বাস ডাকাতি করে। ওই বাস ডাকাতির ঘটনায় রতন গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় দেড় বছর জেলে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে ২০২০ সালে ফের নুরনবী, জীবন ও আউয়ালকে নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি অটোরিকশা ছিনতাই করে। তখন ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা জীবনকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে।
টাঙ্গাইল মহাসড়কে ডাকাতি ও একাধিক ধর্ষণের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাবের মুখপাত্র জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার অনেকেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। মামলার এজাহারেও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ আছে। তদন্তে জানা যাবে কতজন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
৭ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে
৭ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
৯ ঘন্টা ১৯ মিনিট আগে
১০ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে
১ দিন ৫০ মিনিট আগে
১ দিন ৫১ মিনিট আগে
১ দিন ৫৪ মিনিট আগে