আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসহায় মহিলার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক অসহায় মহিলার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলাধীন মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামে।
উষা রাণীর কন্যা ভুক্তভোগী মায়ারানী ঘোষ জানান মুকুন্দ মধূসূদনপুর মৌজার ৭৬৬ খতিয়ানের ২১৩ দাগে ৩১ শতাংশ, ২১৪ দাগে ২৮ শতাংশ এবং ২১৯ দাগে ৫ শতাংশ সম্পর্তিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাতক্ষীরা কতৃক ১৪৫ ধারা অনুযায়ী স্থিতিঅবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করে মুকুন্দ মধুসূদনপুর গ্রামের খগেন্দ্র নাথ ঘোষের পুত্র প্রবীর ঘোষ, শংকর ঘোষ, প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের পুত্র ধীরেন্দ্র নাথ ঘোষ সহ তার পুত্র তপন ঘোষ, স্বপন ঘোষ এবং প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের পুত্র দুলাল চন্দ্র ঘোষ সহ তার পুত্র বিশ্বজীত ঘোষ, বিপ্লব ঘোষ ও বিকাশ ঘোষ সহ সকল পুত্রবধুগণ উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে মরিয়া এবং গত ২৯ জুলাই সোমবার অভিযুক্তরা সংগবদ্ধ হয়ে জমি দখল, বসত বাড়ীর উঠান ও চলাচলের পথ বন্ধ করে কলা, কচু লাগায়। বসত বাড়ি টুকুও ভাঙ্গা সময়ের ব্যাপার মাত্র বলে অভিযোগ করেন মায়ারাণী।ঘটনার বিবরণে মায়ারানী জানান তার দিদিমা রাধা রানী ঘোষ অত্র এলাকার মৃত প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের ২য় পক্ষের স্ত্রী। প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের ১ম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যুর পর ৩ পুত্র ও ১ কন্যা কে লালন পালন করার জন্য ১৩ বছর বয়সের রাধা রানীকে কিছু সম্পত্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবাহ করে। বিবাহের ৭-৮ বছর পর স্ত্রী রাধারানী ঘোষের গর্ভে জন্ম হয় ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের। সকল স্ত্রী-পুত্র-কন্যাকে রেখে প্রভাষ চন্দ্র ঘোষ মারা যান। তখন প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের ১ম পক্ষের পুত্রদ্বয় খগেন্দ্র নাথ ঘোষ, ধীরেন্দ্র নাথ ঘোষ ও দুলাল চন্দ্র ঘোষ পিতার মৃত্যুর পর রাধা রানীকে সন্তান সন্ততি সহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এমতাবস্থায় প্রভাষ ঘোষের আপন ভাই, প্রতিবেশি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় প্রভাষ চন্দ্র ঘোষের কিছু সম্পত্তি সহ প্রভাষচন্দ্র ঘোষের অপর ছোট ভাই সন্তোষ চন্দ্র ঘোষ উক্ত রাধা রানীকে কালিগঞ্জ উপজেলার মুকুন্দ মধুসূদনপুর মৌজায় এস.এ- ২৮৫ খতিয়ানে ৫৮১ দাগে ০.৭৫ শতক এস,এ- ১৬৬ খতিয়ানে ৫২৫ দাগে ০.৩ শতক একই মৌজায় এস.এ- ৩১৮ খতিয়ানে- ৪০৯ দাগে ০.১৭ শতক, ৪১১ দাগে ০.২৮ শতক এবং ৪৩০ দাগে-০.৫ শতক বাড়ি সহ জমি দান করে। একই সময়, একই উপজেলায় ও একই মৌজায় প্রভাসচন্দ্র ঘোষের কিছু সম্পত্তি ও শ্যামনগর উপজেলায় তালবাড়িয়া ও আটুলিয়া মৌজায় কিছু সম্পত্তি সহ মোট ২ একর ১৭ শতক সম্পত্তির দিয়ে দেবর, ভাসুর সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্থতায় রাধা রানীকে পুত্র-কন্যা সহ পৃথক করে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। উক্ত সম্পত্তিতে ফসলাদি ফলিয়ে, ফলজ, বনজ বৃক্ষ্মদি রোপন, কর্তন, ফসল সংগ্রহ ও বিক্রি করে পুত্র-কন্যা সহ নিজের জীবন-জীবিকা নিরবহ করত। অতঃপর রাধারানী ঘোষের একমাত্র পুত্র বিষু ঘোষ নাবালক অবস্থায় মারা যায়। এরপর থেকে রাধা রানী ঘোষ উক্ত সম্পত্তি নিয়েই পৃথকভাবে নিজের দুই কন্যা উষা ও সুধাকে নিয়ে বিগত ৬০-৬২ বছর ধরে উক্ত জমি নিজ নামে রেকর্ড করিয়া ও ভোগ দখল করে আসতেছেন। গত ২৯ জানুয়ারি, ২০২৪ রাধা রাণী ঘোষ তার একমাত্র জীবিত ওয়ারেশ মায়া রানী কে রেখে মৃত্যুবরণ করেন মৃত্যুর পর রাধা রাণীর সৎ পুত্র ও তাদের ওয়ারিশগণ বর্ণিত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে মরিয়া স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের কাছে ধরনা দিয়ে প্রতিকার না পেয়ে রাধারাণীর নাতনি উষা রাণীর কন্যা ভুক্তভোগী মায়ারানী আদালতের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেও চলছে দখল দারিত্ব।
তবে অভিযুক্ত স্বপন ঘোষ মুঠোফোনে জানান আদালতের নির্দেশ অবমাননা করে তারা কোন কিছুই করেননি তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
১ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
১ ঘন্টা ১৮ মিনিট আগে
২ ঘন্টা ১৩ মিনিট আগে
৩ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
২২ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে
১ দিন ১৫ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১ দিন ১৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
১ দিন ১৯ ঘন্টা ৪০ মিনিট আগে