জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্রমুজ্জামান হিরুকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে যুবলীগ নেতা আক্রামুজ্জামান হিরুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদেরকে মারধরের অভিযোগে ইসলামপুর থানায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়ে জামালপুর চিপ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করলে সংশ্লিষ্ট বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সোপর্দ করবে পুলিশ।
এর আগে গতকাল (৩১ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে ইসলামপুর পৌর শহরের বিজয় চত্বর মোড় এলাকা থেকে হিরুকে আটক করে ইসলামপুর থানা-পুলিশ।
যুবলীগ নেতা আক্রামুজ্জামান হিরু বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মিছিলে হামলা ও মারধরের মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।
ইসলামপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের আগের দিন গত ৪ আগষ্ট বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা ইসলামপুর অডিটরিয়ামের সামনে একত্রিত হয়। এসময় আন্দোলন ঠেকাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল সরকার ওরফে খসখসা খলিলের নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, এবং আওয়ামী লীগ নেতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জন আসামি কোপা দা, লোহার রড, হকিস্টিক, শার্ট গান, পিঞ্জল মারাত্মক বিভিন্ন অস্ত্রপাতিতে সজ্জিত হয়ে পূর্বকল্পিতভাবে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্যাপক মারধর করে। এতে বেশকয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হন। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও গোয়ালেরচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ তাঁর হাতে থাকা পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করান।
ওই ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের আগ্রাখালী আকন্দপাড়া গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে আইয়ুব আলী বাদী হয়ে সাবেক ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলালের ছোটো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোরশেদুর রহমান মাসুম খানসহ ৩১ জনের নামোল্লেখে ইসলামপুর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলায় মানীত আসামির মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন,
সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল কাদের সেখ, সদ্য অপসারণকৃত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামী সাংগঠনিক সম্পাদক খলিল সরকার ওরফে খসখসা খলিল, আওয়ামী লীগ নেতা ইসলামপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান শাহীন, পলবান্ধা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন ডিহিদার, গাইবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান আনছারী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও গোয়ালেরচর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো. হারুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. মোহন মিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আক্রামুজ্জামান হিরু, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুর ইসলাম নূর, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আজাদ ইমরান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সুমন এবং ইসলামপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সভাপতি শাওন সরকার।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, 'গত ৪ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের মারধরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে যুবলীগ নেতা হিরুকে আদালতে হাজির করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
৪ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট আগে
৪ ঘন্টা ৩৭ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ৬ মিনিট আগে
১৭ ঘন্টা ৯ মিনিট আগে
১৮ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে
১৯ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে