বরিশালে নতুন বিশ্বব্যবস্থা ও সংকট মোকাবেলায় তারুণ্যের সভা
বরিশালে “আসন্ন সংকট মোকাবেলা ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা বিনির্মাণে তারুণ্যের ভূমিকা” শীর্ষক তারুণ্যের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ সকালে হেযবুত তওহীদের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে তরুণদের দায়িত্ব, সমাজে তাদের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।তারুণ্যের সভার বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি মোসা. খাদিজা আক্তার মুন্নির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- হেযবুত তওহীদের বরিশাল বিভাগীয় আমির ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মো. শফিকুল আলম উখবাহ। সভা সঞ্চালনা করেন তারুণ্যের সভার সদস্য মরিয়ম আক্তার জেরিন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন- হেযবুত তওহীদের বরিশাল আঞ্চলিক আমির মো. রুহুল আমিন মৃধা, বরিশাল জেলা আমির মো. লোকমান হোসেন এবং বরিশাল মহানগরের আমির নুর মোহাম্মদ আরিফ। অনুষ্ঠানে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শফিকুল আলম উখবাহ বলেন, “তারুণ্যই একটি জাতির মূল চালিকা শক্তি। ইতিহাস সাক্ষী, মানবসভ্যতার সকল গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, উন্নয়ন ও সংগ্রামের পেছনে তরুণদের আত্মত্যাগ অপরিসীম। তবে তারুণ্যের শক্তি যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হয়, তবে তা ভুল পথে প্রবাহিত হতে পারে, যা সমাজ ও জাতির জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে ন্যায়, সুবিচার ও মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্ব নানা সংকটে নিমজ্জিত। সমাজের চারপাশে অন্যায়, অবিচার, বিভ্রান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন সভ্যতা বিনির্মাণে তারুণ্যের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আমাদের নবী (সা.) যে ন্যায়, সুবিচার ও কল্যাণের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই আদর্শকে সামনে রেখে আমাদের পথ চলতে হবে। শুধুমাত্র সঠিক নেতৃত্ব ও আদর্শিক শক্তির মাধ্যমে সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
সভায় বক্তারা বলেন, “তরুণদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা, আত্মনিবেদন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করতে হবে। ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু ব্যক্তি উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক সমাজের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে। বক্তারা দেশের বর্তমান সংকট মোকাবেলায় তরুণদের জ্ঞান, মেধা ও দক্ষতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে আলোচকরা বলেন, “যুগে যুগে বড় পরিবর্তনগুলো তারুণ্যের হাত ধরেই এসেছে। তাই এই তরুণদের শক্তিকে বিভ্রান্তির পথ থেকে ফিরিয়ে এনে সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করতে হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।”
সভায় অংশগ্রহণকারীরা নতুন বিশ্বব্যবস্থা বিনির্মাণে নিজেদের যথাযথ ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন এবং সংকট মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন